ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে ঋণের অপেক্ষা

যুদ্ধাবস্থায় রিজার্ভ টেকালেন প্রবাসীরা

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৫০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ২০০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে হাবুডুবু খাচ্ছে বেশিরভাগ দেশের অর্থনীতি। এমন সময়ে দেশে প্রবাসী আয় আগের তুলনায় বেশি আসার সুখবর দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি ১০ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে প্রবাসী আয় বেশি আসার কারণে রিজার্ভে প্রভাব পড়েনি। তবে জ্বালানী সংকট সামাল দিতে এলএনজিসহ যে পরিমান জ্বালানী মজুদ রাখতে চায় তা আমদানির ব্যয় শোধ করলে রিজার্ভে তলানিতে যাচ্ছে, যা আইএমএফের শর্ত বা বনাংলাদেশের জন্য আইএমএফ নির্ধারিত রিজার্ভের মানদণ্ডের নিচে চলে যেতে পারে। তাই বর্তমানে বিরাজমান জ্বালানী সংকট এবং আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের কারণে যে সংকটময় অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে- তা হিসাব করে সেই পরিমান জ্বালানি মজুদের জন্য আমদানি করার ব্যয় মিটাতে গেলে ফাঁকা হয়ে যাবে রিজার্ভ।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চরম সংকটময় পরিস্থিতি সামলানো ও রিজার্ভ স্বাভাবিক রাখা- এই দুটি বিষয় ঠিক রেখে জ্বালানী আমদানির অর্থ পরিশোধ করতে সরকারকে আন্তর্জাতিক তহবিলের ওপর নির্ভর করা ছাড়া ভিন্ন পথ নেই। তাই ইতোমধ্যেই সরকার আইএমএফের কাছে জ্বালানী মজুদ করার কথা জানিয়ে বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে। সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠঅনিকভাবে সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আইএমএফের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা যাচাই করছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফ বাংলাদেশকে এই ঋণ সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে। আর এ তথ্যের মিল পাওয়া গেছে অর্থমন্ত্রীর আজ মঙ্গলবারের বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ আইএমএফের একটি দলের সঙ্গে আজকের বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মসাহমুদ চৌধুরী বলেন, খুব দ্রু আইএমএফের প্রথশ কিস্তি পাওয়া যাবে।

আর আইএমএফের এই ঋণ দেশে ঢুকলেই তা রিজার্ভে যোগ হবে। তখন এলএনজিসহ জ্বালানী আমদানির ব্যয় রিজার্ভ থেকে মিটালেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যাপ্ত রিজার্ভ থেকে যাবে। এ কারণে- আইএমএফের টাকা হাতে না পেলে প্রয়োজনীয় জ্বালানী মজুদ কাজে হাত দিতে পারছে না সরকার। তাই অপেক্ষশা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তার, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই তদারকি করছেন, জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেণ। নিজেই বৈঠক করছেন আইএম এফসহ আন্তদর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর সঙ্গে।

এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে তেহরান, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে থেকে বেশ কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। যারা ফেব্রুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। শ্রিমিকদের বিদেশ থেকে ফিরে আসার প্রভাবে আগামী রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি কমার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ চলমান থাকলে বেশ কিছু দেশে প্রবাসী শ্রমিকদের স্বদেশে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হবে- কেননা, যুদ্ধের কারণে সেই দেশেল প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে, প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বন্ধের অবস্থা সৃষ্টি হলে শ্রমিকদের উপার্জন বন্ধ হবে এবং তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। এতে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে, যা তছনছ করে দিতে পারে বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভের স্থিরতা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতির ‘উচ্চ স্তরে’ আঘাত শুরু করেছে মাত্র, যা শ্রমিকদের উপার্জন স্তরে পৌঁছাতে সময় লাগবে। এখন পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি যতটুকু ক্ষতির মুখে পড়েছে, যুদ্ধ থেমে গেলেও এই ধাক্কাটা অর্থনীতিতে থেকে যাবে। সময়ের ব্যবধানে প্রতিটি দেশকেই এই আর্থিক ধাক্কার কম-বেশি পরিণতি ভোগ করতে হবে। আর এ যুদ্ধাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব ভয়ঙ্কর রূপে বিস্তৃত হতে পারে। বর্তমান টালমাটাল অর্থনীতিকে আরও গতিহীন করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদের।

আর চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮২ কোটি ৮০ লাখ বা ২.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন গড়ে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের একই সময়ে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমান ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) প্রবাহ বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের রেকর্ড থেকে পাওয়া গেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ কেন্দ্র করে কেনাকাটাসহ কিছু বিশেষ খরচ যুক্ত থাকায়

স্বজনদের কাছে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। কারণ- তারা গড়ে পরিবারের খরচ বাবদ প্রতি মাসে যে টাকা বিদেশ থেকে পাঠিয়ে থাকেন তার সঙ্গে ঈদের খরচ যুক্ত হওয়ায় রেমিট্যান্সের অংক দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতেই বেড়েছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার- যার পরিমান রেমিট্যান্স ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

গেল বছরের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

গেল বছরের অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার, আগস্ট ও জুলাইয়ে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

জনপ্রিয়

পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে ঋণের অপেক্ষা

যুদ্ধাবস্থায় রিজার্ভ টেকালেন প্রবাসীরা

প্রকাশ : ০২:৫০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে হাবুডুবু খাচ্ছে বেশিরভাগ দেশের অর্থনীতি। এমন সময়ে দেশে প্রবাসী আয় আগের তুলনায় বেশি আসার সুখবর দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি ১০ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে প্রবাসী আয় বেশি আসার কারণে রিজার্ভে প্রভাব পড়েনি। তবে জ্বালানী সংকট সামাল দিতে এলএনজিসহ যে পরিমান জ্বালানী মজুদ রাখতে চায় তা আমদানির ব্যয় শোধ করলে রিজার্ভে তলানিতে যাচ্ছে, যা আইএমএফের শর্ত বা বনাংলাদেশের জন্য আইএমএফ নির্ধারিত রিজার্ভের মানদণ্ডের নিচে চলে যেতে পারে। তাই বর্তমানে বিরাজমান জ্বালানী সংকট এবং আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের কারণে যে সংকটময় অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে- তা হিসাব করে সেই পরিমান জ্বালানি মজুদের জন্য আমদানি করার ব্যয় মিটাতে গেলে ফাঁকা হয়ে যাবে রিজার্ভ।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চরম সংকটময় পরিস্থিতি সামলানো ও রিজার্ভ স্বাভাবিক রাখা- এই দুটি বিষয় ঠিক রেখে জ্বালানী আমদানির অর্থ পরিশোধ করতে সরকারকে আন্তর্জাতিক তহবিলের ওপর নির্ভর করা ছাড়া ভিন্ন পথ নেই। তাই ইতোমধ্যেই সরকার আইএমএফের কাছে জ্বালানী মজুদ করার কথা জানিয়ে বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে। সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠঅনিকভাবে সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আইএমএফের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা যাচাই করছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফ বাংলাদেশকে এই ঋণ সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে। আর এ তথ্যের মিল পাওয়া গেছে অর্থমন্ত্রীর আজ মঙ্গলবারের বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ আইএমএফের একটি দলের সঙ্গে আজকের বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মসাহমুদ চৌধুরী বলেন, খুব দ্রু আইএমএফের প্রথশ কিস্তি পাওয়া যাবে।

আর আইএমএফের এই ঋণ দেশে ঢুকলেই তা রিজার্ভে যোগ হবে। তখন এলএনজিসহ জ্বালানী আমদানির ব্যয় রিজার্ভ থেকে মিটালেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যাপ্ত রিজার্ভ থেকে যাবে। এ কারণে- আইএমএফের টাকা হাতে না পেলে প্রয়োজনীয় জ্বালানী মজুদ কাজে হাত দিতে পারছে না সরকার। তাই অপেক্ষশা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তার, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই তদারকি করছেন, জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেণ। নিজেই বৈঠক করছেন আইএম এফসহ আন্তদর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর সঙ্গে।

এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে তেহরান, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে থেকে বেশ কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। যারা ফেব্রুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। শ্রিমিকদের বিদেশ থেকে ফিরে আসার প্রভাবে আগামী রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি কমার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ চলমান থাকলে বেশ কিছু দেশে প্রবাসী শ্রমিকদের স্বদেশে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হবে- কেননা, যুদ্ধের কারণে সেই দেশেল প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে, প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বন্ধের অবস্থা সৃষ্টি হলে শ্রমিকদের উপার্জন বন্ধ হবে এবং তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। এতে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে, যা তছনছ করে দিতে পারে বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভের স্থিরতা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতির ‘উচ্চ স্তরে’ আঘাত শুরু করেছে মাত্র, যা শ্রমিকদের উপার্জন স্তরে পৌঁছাতে সময় লাগবে। এখন পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি যতটুকু ক্ষতির মুখে পড়েছে, যুদ্ধ থেমে গেলেও এই ধাক্কাটা অর্থনীতিতে থেকে যাবে। সময়ের ব্যবধানে প্রতিটি দেশকেই এই আর্থিক ধাক্কার কম-বেশি পরিণতি ভোগ করতে হবে। আর এ যুদ্ধাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব ভয়ঙ্কর রূপে বিস্তৃত হতে পারে। বর্তমান টালমাটাল অর্থনীতিকে আরও গতিহীন করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদের।

আর চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮২ কোটি ৮০ লাখ বা ২.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন গড়ে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের একই সময়ে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমান ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) প্রবাহ বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের রেকর্ড থেকে পাওয়া গেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ কেন্দ্র করে কেনাকাটাসহ কিছু বিশেষ খরচ যুক্ত থাকায়

স্বজনদের কাছে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। কারণ- তারা গড়ে পরিবারের খরচ বাবদ প্রতি মাসে যে টাকা বিদেশ থেকে পাঠিয়ে থাকেন তার সঙ্গে ঈদের খরচ যুক্ত হওয়ায় রেমিট্যান্সের অংক দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতেই বেড়েছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার- যার পরিমান রেমিট্যান্স ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

গেল বছরের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

গেল বছরের অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার, আগস্ট ও জুলাইয়ে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।