ভর্তুকি কমাতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই দাম বাড়ছে বিদ্যুতের।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ বুধবার বিকেলে পাইকারি ও গ্রাহক (খুচরা) পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণ দিতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। নতুন মূল্যহার ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।
বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ও ২১ মে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যেই নতুন ট্যারিফ ঘোষণা করতে যাচ্ছে কমিশন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ দশমিক ২০ টাকা থেকে ১ দশমিক ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছে। সংস্থাটির দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয়ে সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় হবে ১২ দশমিক ৯১ টাকা। বিদ্যমান দামে বিদ্যুৎ বিক্রি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হবে।
গণশুনানিতে পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। আগামী অর্থবছরেও এ ঘাটতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে মূল্যবৃদ্ধির বিকল্প নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিও গ্রাহক পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ করা গেলে মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন হতো না। তিনি ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন খাতে অপচয়ের অভিযোগ তুলে ধরে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের দাবি জানান।
একই সুরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, গণশুনানি কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তিনি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সব প্রস্তাব বাতিলের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে শিল্প খাতের প্রতিনিধিরাও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিরোধিতা করেছেন। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, রপ্তানি খাত বর্তমানে চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও কমে যাবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৬ দশমিক ৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৪০ টাকা করা হয়েছিল।
দেশ প্রতিবেদক 
















