ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল, মে মাসেই ঝরল ৬২২ প্রাণ

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০১:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৩৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত মে মাসে সারাদেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬২২ জন। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৫২ জন। এ সময়ে রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭১ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৯৬ জন।

শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। এ মাসে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত এবং ২১৯ জন আহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৮০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৫ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৫৮ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৯৩ জন নারী এবং ৬৮ জন শিশু রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩৬ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৬৯ জন নারী ও ৫৯ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও হতাহতের তালিকায় রয়েছেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এর পরেই রয়েছে ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি। বাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়িও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দুর্ঘটনায় জড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। এছাড়া ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা গাড়ির চাপা বা ধাক্কায় এবং প্রায় ১৯ শতাংশ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক দুর্ঘটনার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় সেগুলো প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষ চালক এবং মহাসড়কে তদারকির ঘাটতি দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সড়কে প্রাণহানির এই উদ্বেগজনক প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয়

সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল, মে মাসেই ঝরল ৬২২ প্রাণ

প্রকাশ : ০১:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত মে মাসে সারাদেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬২২ জন। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৫২ জন। এ সময়ে রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭১ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৯৬ জন।

শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। এ মাসে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত এবং ২১৯ জন আহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৮০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৫ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৫৮ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৯৩ জন নারী এবং ৬৮ জন শিশু রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩৬ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৬৯ জন নারী ও ৫৯ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও হতাহতের তালিকায় রয়েছেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এর পরেই রয়েছে ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি। বাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়িও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দুর্ঘটনায় জড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। এছাড়া ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা গাড়ির চাপা বা ধাক্কায় এবং প্রায় ১৯ শতাংশ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক দুর্ঘটনার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় সেগুলো প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষ চালক এবং মহাসড়কে তদারকির ঘাটতি দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সড়কে প্রাণহানির এই উদ্বেগজনক প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।