স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) চূড়ান্ত করার পথে এগিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়েই শুরু হবে দেশব্যাপী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম। আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবরের প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে রোডম্যাপ চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতির ঘোষণা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আইন সংশোধন, নির্বাচনী সামগ্রী প্রস্তুত এবং প্রশাসনিক সমন্বয়সহ বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
চার অঞ্চলে ভাগ করে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন:
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করতে দেশকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হবে। এগুলো হলো—
* হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
* পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল
* নদীবিধৌত ও চরাঞ্চল
* সমতল ও শহরাঞ্চল
প্রথম ধাপেই হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ভোট গ্রহণ করা হবে।
৩১ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত হবে ভোটকেন্দ্র :
রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হবে। ওই তারিখ পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারাও ভোটার হিসেবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভোট গ্রহণে বুথভিত্তিক ভোটারের সংখ্যাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে সর্বোচ্চ ৫০০ জন নারী এবং ৬০০ জন পুরুষ ভোটার রাখা হবে, যাতে ভোটগ্রহণ দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়।
আগস্টে তফসিল, অক্টোবরে ভোট:
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটের অন্তত ৪১ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। সেই হিসেবে আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধেই তফসিল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ফলাফলের গেজেট এবং ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
৩,৯৮১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী :
ইসি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী। মামলা, সীমানা জটিলতা ও প্রশাসনিক কারণে ১০৮টি ইউনিয়নে এখনো নির্বাচন সম্ভব হয়নি। বাকি ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন ২০২৭ ও ২০২৮ সালের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনেও ভোট:
রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি বর্তমানে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভায় আপাতত নির্বাচন সম্ভব নয়।
অন্যদিকে দেশের সব উপজেলা পরিষদে বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব উপজেলাই নির্বাচন উপযোগী। একইভাবে নতুন বগুড়া সিটিসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনেও নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সবগুলোতেই ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইসির বার্তা: ইউপি নির্বাচন দিয়েই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি:
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, অক্টোবরে ভোট আয়োজনকে সামনে রেখে কমিশন পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জানান, ‘প্রায় ৮০ শতাংশ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। এ লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিন পর দেশের তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বড় পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে।
দেশ প্রতিবেদক 









