বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে আরেকটি বড় অঘটন দেখল ফুটবল বিশ্ব। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। ম্যাচের নায়ক আর্লিং হালান্ড—দুটি দুর্দান্ত গোলে শুধু দলকে ঐতিহাসিক জয়ই এনে দেননি, ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের অপরাজিত থাকার রেকর্ডও অক্ষুণ্ন রেখেছেন।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে ব্রাজিল বনাম নরওয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনায় ভরপুর।
তৃতীয় মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। এরপর ধীরে ধীরে বলের দখল নেয় ব্রাজিল এবং ১১তম মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি আদায় করে।
তবে সেলেসাওদের এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন ব্রুনো গিমারেস। তার নেওয়া স্পটকিক দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড। এই সেভই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মার্তিনেল্লি ও কুনিয়ার একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে নরওয়ে। বিরতির পরও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। একদিকে আলিসনের দারুণ সেভ, অন্যদিকে নিল্যান্ডের অনবদ্য গোলরক্ষণ—দুই গোলরক্ষকের লড়াই ম্যাচকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে।
অবশেষে ৭৯তম মিনিটে নীরবতা ভাঙেন আর্লিং হালান্ড। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে উড়ে এসে শক্তিশালী হেডে আলিসনকে পরাস্ত করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার।
গোল হজমের পর নেইমার ও এনদ্রিককে মাঠে নামিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। কিন্তু নিল্যান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বারবার ব্যর্থ হয় তাদের আক্রমণ।
ম্যাচের ৯০তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন হালান্ড। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শট জালে জড়িয়ে গেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সপ্তম গোল, ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সমানতালে লড়াইয়ে থাকলেন।
যোগ করা সময়ে কাসেমিরোকে ফাউল করলে দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। এবার আর ভুল করেননি নেইমার। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করলেও শেষ পর্যন্ত সেটি শুধুই সান্ত্বনার গোল হয়ে থাকে।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নরওয়ের ঐতিহাসিক উদযাপন। প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল ইউরোপের দেশটি। অন্যদিকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হয়ে বড় হতাশা নিয়ে বিদায় নিল ব্রাজিল।
দেশ ডেস্ক 









