ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রপথে ইতালি যাত্রায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৬:৩৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৭২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় চলতি বছরও সবচেয়ে বেশি অভিবাসী গেছেন বাংলাদেশ থেকে। ইতালির সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যাই সর্বোচ্চ। তবে ইতিবাচক দিক হলো, গত দুই বছরের একই সময়ের তুলনায় ইতালিতে সমুদ্রপথে পৌঁছানো মোট অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রপথে দেশটিতে পৌঁছেছেন ১৪ হাজার ৬২৩ জন অভিবাসী। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৪ হাজার ৩১৪ জন, যা মোট আগতদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফলে টানা আরেক বছর ইতালিগামী অনিয়মিত অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পর সবচেয়ে বেশি অভিবাসী এসেছে সোমালিয়া (১,৭০২) থেকে। এরপর রয়েছে সুদান (১,৩৭১), পাকিস্তান (১,১৮৫), আলজেরিয়া (১,১০৬), মিশর (৯৩৬), ইরিত্রিয়া (৬৬২), টিউনিশিয়া (৬২৬), মালি (৩১০), নাইজেরিয়া (২৯১), আইভরি কোস্ট (২১৬), ইথিওপিয়া (১৯৯), ইরান (১৮৩), দক্ষিণ সুদান (১৮০) এবং গিনি (১৭৯)। এছাড়া পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াধীনসহ অন্যান্য দেশের ১ হাজার ১৬৩ জন অভিবাসীর তথ্যও তালিকায় রয়েছে।

দুই বছরের তুলনায় কমেছে অনিয়মিত অভিবাসন: পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে ইতালিতে সমুদ্রপথে অভিবাসীর আগমন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

২০২৬ (১ জানুয়ারি–৭ জুলাই):১৪,৬২৩ জন

২০২৫ একই সময়: ৩১,৪৩০ জন

২০২৪ একই সময়: ২৬,৬৬৪ জন

অর্থাৎ, ২০২৫ সালের তুলনায় আগমন কমেছে প্রায় ৫৩ শতাংশ, আর ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও নিম্নমুখী প্রবণতা: ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রতিটি মাসেই আগের দুই বছরের তুলনায় সমুদ্রপথে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা কম ছিল।

জানুয়ারি: ১,৪৫৭ জন ফেব্রুয়ারি: ২,৫১০ জন

মার্চ: ২,১৫০ জন

এপ্রিল: ২,৪৫৯ জন

মে: ৩,০৫৪ জন

জুন: ২,৭৫৮ জন

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় সীমান্ত নজরদারি জোরদার, মানবপাচারবিরোধী অভিযান এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে অনিয়মিত সমুদ্রপথে যাত্রার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে বাংলাদেশিদের শীর্ষ অবস্থান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত নথিভুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

 

জনপ্রিয়

সমুদ্রপথে ইতালি যাত্রায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা

প্রকাশ : ০৬:৩৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় চলতি বছরও সবচেয়ে বেশি অভিবাসী গেছেন বাংলাদেশ থেকে। ইতালির সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যাই সর্বোচ্চ। তবে ইতিবাচক দিক হলো, গত দুই বছরের একই সময়ের তুলনায় ইতালিতে সমুদ্রপথে পৌঁছানো মোট অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রপথে দেশটিতে পৌঁছেছেন ১৪ হাজার ৬২৩ জন অভিবাসী। এর মধ্যে বাংলাদেশি ৪ হাজার ৩১৪ জন, যা মোট আগতদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফলে টানা আরেক বছর ইতালিগামী অনিয়মিত অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পর সবচেয়ে বেশি অভিবাসী এসেছে সোমালিয়া (১,৭০২) থেকে। এরপর রয়েছে সুদান (১,৩৭১), পাকিস্তান (১,১৮৫), আলজেরিয়া (১,১০৬), মিশর (৯৩৬), ইরিত্রিয়া (৬৬২), টিউনিশিয়া (৬২৬), মালি (৩১০), নাইজেরিয়া (২৯১), আইভরি কোস্ট (২১৬), ইথিওপিয়া (১৯৯), ইরান (১৮৩), দক্ষিণ সুদান (১৮০) এবং গিনি (১৭৯)। এছাড়া পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াধীনসহ অন্যান্য দেশের ১ হাজার ১৬৩ জন অভিবাসীর তথ্যও তালিকায় রয়েছে।

দুই বছরের তুলনায় কমেছে অনিয়মিত অভিবাসন: পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে ইতালিতে সমুদ্রপথে অভিবাসীর আগমন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

২০২৬ (১ জানুয়ারি–৭ জুলাই):১৪,৬২৩ জন

২০২৫ একই সময়: ৩১,৪৩০ জন

২০২৪ একই সময়: ২৬,৬৬৪ জন

অর্থাৎ, ২০২৫ সালের তুলনায় আগমন কমেছে প্রায় ৫৩ শতাংশ, আর ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও নিম্নমুখী প্রবণতা: ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রতিটি মাসেই আগের দুই বছরের তুলনায় সমুদ্রপথে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা কম ছিল।

জানুয়ারি: ১,৪৫৭ জন ফেব্রুয়ারি: ২,৫১০ জন

মার্চ: ২,১৫০ জন

এপ্রিল: ২,৪৫৯ জন

মে: ৩,০৫৪ জন

জুন: ২,৭৫৮ জন

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় সীমান্ত নজরদারি জোরদার, মানবপাচারবিরোধী অভিযান এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে অনিয়মিত সমুদ্রপথে যাত্রার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে বাংলাদেশিদের শীর্ষ অবস্থান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত নথিভুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।