ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে সোনা পাচার করতেন অভিনেত্রী

  • দেশ বিনোদন
  • প্রকাশ : ১০:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
  • ১৯৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ভারতের কন্নড় অভিনেত্রী রান্যা রাও। দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে গত সোমবার বেঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। গোপন খবরের ভিত্তিতে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স-এর (ডিআরআই) কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রান্যা রাও স্বর্ণ সম্বলিত পোশাক পরে এবং তার পোশাকের মধ্যে স্বর্ণের বার লুকিয়ে তা পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে চারবার দুবাই ভ্রমণ করেছেন। এ কারণে কর্তৃপক্ষ সন্দেহ প্রকাশ করে এবং রান্যা রাও ফেরার পর তাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর নায়িকার দাবি, তাকে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে সোনা পাচার করানো হচ্ছিল।
এ ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলকেও গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রান্যা রাওকে সোনা নিয়ে বিমানবন্দর থেকে নিরাপদে বের হয়ে যেতে সাহায্য করছিলেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ মার্চ রান্যাকে গ্রেপ্তারের পর লাভেল রোডের নন্দওয়ানি ম্যানসনে তার বাসভবনে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। তল্লাশিতে নগদ ২.৬৭ কোটি রুপি এবং ২.০৬ কোটি মূল্যের সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়।

অভিযানের পর কর্মকর্তারা তার বাড়ি থেকে তিনটি বড় বাক্স উদ্ধার করেন। মোট বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির মূল্য ১৭.২৯ কোটি রুপি।

দুবাই থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামার পরে রান্যা পুলিশ কনস্টেবল বাসবরাজুর সাহায্যে নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার কার্যকলাপ সম্পর্কে আগে থেকেই খবর ছিল ডিআরআই-এর কাছে, ফলে নায়িকাকে সোনাসহ হাতেনাতে ধরে ফেলা সম্ভব হয়। তল্লাশি করার সময় রানিয়ার জ্যাকেটের ভেতরে ১২.৫৬ কোটি রুপি মূল্যের ১৪.২ কেজি বিদেশি সোনা খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রান্যা দাবি করেছেন ব্ল্যাকমেইল করে তাকে দিয়ে সোনা পাচার করানো হয়।

বেঙ্গালুরুতে অর্থনৈতিক অপরাধের জন্য বিশেষ আদালত অভিনেত্রী রানিয়া রাওকে ১০ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডিআরআই-এর হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়েছে। আদালত তাকে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রতিদিন আধা ঘণ্টার জন্য তার আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে। এছাড়াও, আদালত ডিআরআই-কে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলেছে, যাতে নিশ্চিত করা হয় যে তাকে কোনোভাবে হুমকি দেওয়া হবে না এবং তিনি প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধা পাবেন। এছাড়াও রান্যা রাওয়ের সোনা পাচার মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে সিবিআই।
২০১৪ সালে ‘মানিক্য’ সিনেমায় কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার সুদীপের বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতি লাভ করেন রান্যা রাও। পরে আরও কয়েকটি দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী।

Tag :
জনপ্রিয়

ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে সোনা পাচার করতেন অভিনেত্রী

প্রকাশ : ১০:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫

ভারতের কন্নড় অভিনেত্রী রান্যা রাও। দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে গত সোমবার বেঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। গোপন খবরের ভিত্তিতে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স-এর (ডিআরআই) কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রান্যা রাও স্বর্ণ সম্বলিত পোশাক পরে এবং তার পোশাকের মধ্যে স্বর্ণের বার লুকিয়ে তা পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে চারবার দুবাই ভ্রমণ করেছেন। এ কারণে কর্তৃপক্ষ সন্দেহ প্রকাশ করে এবং রান্যা রাও ফেরার পর তাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তারের পর নায়িকার দাবি, তাকে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে সোনা পাচার করানো হচ্ছিল।
এ ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলকেও গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রান্যা রাওকে সোনা নিয়ে বিমানবন্দর থেকে নিরাপদে বের হয়ে যেতে সাহায্য করছিলেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ মার্চ রান্যাকে গ্রেপ্তারের পর লাভেল রোডের নন্দওয়ানি ম্যানসনে তার বাসভবনে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। তল্লাশিতে নগদ ২.৬৭ কোটি রুপি এবং ২.০৬ কোটি মূল্যের সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়।

অভিযানের পর কর্মকর্তারা তার বাড়ি থেকে তিনটি বড় বাক্স উদ্ধার করেন। মোট বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির মূল্য ১৭.২৯ কোটি রুপি।

দুবাই থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামার পরে রান্যা পুলিশ কনস্টেবল বাসবরাজুর সাহায্যে নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার কার্যকলাপ সম্পর্কে আগে থেকেই খবর ছিল ডিআরআই-এর কাছে, ফলে নায়িকাকে সোনাসহ হাতেনাতে ধরে ফেলা সম্ভব হয়। তল্লাশি করার সময় রানিয়ার জ্যাকেটের ভেতরে ১২.৫৬ কোটি রুপি মূল্যের ১৪.২ কেজি বিদেশি সোনা খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রান্যা দাবি করেছেন ব্ল্যাকমেইল করে তাকে দিয়ে সোনা পাচার করানো হয়।

বেঙ্গালুরুতে অর্থনৈতিক অপরাধের জন্য বিশেষ আদালত অভিনেত্রী রানিয়া রাওকে ১০ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডিআরআই-এর হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়েছে। আদালত তাকে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রতিদিন আধা ঘণ্টার জন্য তার আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে। এছাড়াও, আদালত ডিআরআই-কে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলেছে, যাতে নিশ্চিত করা হয় যে তাকে কোনোভাবে হুমকি দেওয়া হবে না এবং তিনি প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধা পাবেন। এছাড়াও রান্যা রাওয়ের সোনা পাচার মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে সিবিআই।
২০১৪ সালে ‘মানিক্য’ সিনেমায় কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার সুদীপের বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতি লাভ করেন রান্যা রাও। পরে আরও কয়েকটি দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী।