ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর শান্তিরক্ষীরা: প্রধানমন্ত্রী

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৮:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ১৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শান্তিরক্ষাীদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করে শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষাই নয়, জাতিসংঘের পতাকা তলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর।

বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ছাড়া কোনো বাহিনীর পক্ষে সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব নয়।

সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ কেবল বাংলাদেশের নয়, সমগ্র শান্তিকামী বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে সুদানে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিভিন্ন মিশনে আহত সদস্যদেরও সম্মানিত করা হয়। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন। নতুন করে হাইতিতে একটি মিশনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে।

নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমানে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের অংশগ্রহণ জাতিসংঘ মিশনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার প্রতীক হলো সশস্ত্র বাহিনী। দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও অর্জনকে সমুন্নত রাখার দায়িত্ব বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ অটুট রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্যযুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় ভবিষ্যতে শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বিশ্বশান্তির নীতিতে বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবতার পক্ষে দেশের অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আগামী দিনেও তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে দেশের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর শান্তিরক্ষীরা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শান্তিরক্ষাীদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করে শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষাই নয়, জাতিসংঘের পতাকা তলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর।

বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ছাড়া কোনো বাহিনীর পক্ষে সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব নয়।

সরকারপ্রধান বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ কেবল বাংলাদেশের নয়, সমগ্র শান্তিকামী বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে সুদানে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিভিন্ন মিশনে আহত সদস্যদেরও সম্মানিত করা হয়। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন। নতুন করে হাইতিতে একটি মিশনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে।

নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমানে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের অংশগ্রহণ জাতিসংঘ মিশনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার প্রতীক হলো সশস্ত্র বাহিনী। দেশের গৌরবময় ইতিহাস ও অর্জনকে সমুন্নত রাখার দায়িত্ব বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ অটুট রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্যযুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় ভবিষ্যতে শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বিশ্বশান্তির নীতিতে বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবতার পক্ষে দেশের অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আগামী দিনেও তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে দেশের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।