উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক উৎকর্ষতাই নয়, নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও অনন্য সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন। দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়ে তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক অর্জন নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বগুণ ও সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নজর কেড়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস পরিবেশ গড়ে তুলতে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
অ্যাঙ্গলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটির লন্ডন ক্যাম্পাস ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালীর নাঈম হাসান। ১ হাজার ৬২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়া এই আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক নানা কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত।
ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ড (ইউডব্লিউই) ব্রিস্টলের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট (এডুকেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খাদিজা হোসেন অড়লা। প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শিক্ষা, আবাসন ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।
ইউনিভার্সিটি ফর দ্য ক্রিয়েটিভ আর্টস (ইউসিএ)-এর এপসম ক্যাম্পাস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট কুষ্টিয়ার শায়েখ হাসান। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সফল ভূমিকার কারণে তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইরফান রহমান। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
ইউনিভার্সিটি অব গ্লস্টারশায়ার স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডাইভারসিটি অফিসার ইফফাত জাহান শিক্ষার্থীদের জন্য শিশু পরিচর্যা সুবিধা, মাতৃদুগ্ধ কর্নার ও নামাজের কক্ষ স্থাপনের মতো প্রশংসনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন।
রেভেন্সবর্ন ইউনিভার্সিটি লন্ডনের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রায়াস বিন নিজাম। নতুন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও দিকনির্দেশনায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত।
সোলেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল গালিব। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও টিউশন ফি বিষয়ে নমনীয়তা আনতে তিনি কাজ করছেন।
গ্রিনউইচ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন গাজীপুরের মো. সাইফ মোল্লা চঞ্চল। মানসিক স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্রিয়।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট (এডুকেশন) পদে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এ বি এম রাহাত মুবাশশির। তিনি এই পদে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি।
লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট রাজ্য মন্ডল এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাকটিভিটিজ অ্যান্ড অপরচুনিটিজ) নাহিদ বিনতে ইসলাম শিক্ষার্থীদের অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও বহুসাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কাজ করছেন।
ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি লন্ডন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন নাফি হাসান খান। অন্যদিকে ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন হাসিব লগ্নো, যিনি এ পদে প্রথম বাংলাদেশি এবং দ্বিতীয় এশীয় শিক্ষার্থী।
লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইকুইটি অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) সৌমিত্র পাল নিরাপদ ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে কাজ করছেন।
ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জুবায়ের আহম্মেদ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি কাজ করছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুহতাসিম সাদাত নিবির।
ওয়েলসের রেক্সহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন হাফসা আজমারি ফারজু। তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার, সমতা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ওয়েলফেয়ার) এম ইমাম হোসাইন টানা দুইবার সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্জিত নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে। তারা শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ ও সমাজে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনারও শক্তিশালী প্রতিফলন।
দেশ প্রতিবেদক, লন্ডন 























