দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুদকের মামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।
তবে কোন মামলার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে এবং দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এলে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্ত শুরুর আগেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি টাকার বেশি সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া তাঁদের দুই মেয়ের বিরুদ্ধেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত এর আগে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা একাধিক ফ্ল্যাট, শত শত বিঘা জমি, কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র এবং বিও হিসাব জব্দ ও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন। ঢাকার গুলশান, বাড্ডা ও আদাবরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা এসব সম্পদ আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভব হবে কি না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলায় দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার দেশের আইন প্রয়োগ ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশ প্রতিবেদক 



















