ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে অতিদ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ১১:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীরকে গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সাফল্য।

রোববার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরে ইন্টারপোল ও বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। ইন্টারপোলের অনুরোধের ভিত্তিতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে।

তিনি জানান, গত ১২ জুন বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে দেশে ফেরত আনার আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং বিদেশে অবস্থান করায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেন।

সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশ ত্যাগ করেন বেনজীর আহমেদ। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই পদে বহাল ছিলেন। এর আগে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দুবাইয়ে তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন নজর রয়েছে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং দেশে ফিরে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে যায়, সেদিকে।

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে অতিদ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : ১১:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীরকে গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সাফল্য।

রোববার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরে ইন্টারপোল ও বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। ইন্টারপোলের অনুরোধের ভিত্তিতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে।

তিনি জানান, গত ১২ জুন বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে দেশে ফেরত আনার আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং বিদেশে অবস্থান করায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেন।

সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশ ত্যাগ করেন বেনজীর আহমেদ। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই পদে বহাল ছিলেন। এর আগে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দুবাইয়ে তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন নজর রয়েছে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং দেশে ফিরে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে যায়, সেদিকে।