দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ উপহার দিতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দেশের সকল মানুষের কাছে অনুরোধ জানাই, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অন্তত একটি করে গাছ লাগান। আমাদের সন্তানরা যেন আগামী দিনে নির্মল পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে, সেই দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।”
তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একটি দায়িত্ব। ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের আগে জনগণের কাছে বছরে অন্তত পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেন, প্রতিটি জেলাকে সবুজ অভয়ারণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই কর্মসূচি সফল করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ আন্দোলন পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নির্মল বাতাসে শ্বাস নেবে এবং একটি নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠবে।”
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। সরকারের আশা, এ উদ্যোগ দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
দেশ প্রতিবেদক 



















