ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকার চাপে ইসলামী ব্যাংক, ২৫০০ কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ১১:১৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়। সহায়তার অর্থ ইসলামী ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবে জমা করা হয়েছে, ফলে সাময়িকভাবে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটিতে নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারল্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আমানত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা ব্যাংকটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে নগদ টাকার চাহিদা অত্যন্ত বেশি। নতুন আমানত প্রায় না থাকলেও অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কিছু শাখার কার্যক্রম সীমিত করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালক। ঈদুল আজহার আগে গত ২৪ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকদের একটি অংশ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। রোববারও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। একই দাবিতে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ব্যাংকটির পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদেও সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর প্রভাবে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন অবস্থায় ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের ঋণ অনিয়ম ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা বড় কারণ। ২০১৭ সালে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ শেয়ারবাজারের মাধ্যমে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তবে এরই মধ্যে ব্যাংকটির ঋণপোর্টফোলিওর বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি খেলাপি, যার উল্লেখযোগ্য অংশ এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা তাৎক্ষণিক চাপ কমাতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে আস্থা পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণ আদায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

টাকার চাপে ইসলামী ব্যাংক, ২৫০০ কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশ : ১১:১৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়। সহায়তার অর্থ ইসলামী ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবে জমা করা হয়েছে, ফলে সাময়িকভাবে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটিতে নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারল্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আমানত তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা ব্যাংকটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে নগদ টাকার চাহিদা অত্যন্ত বেশি। নতুন আমানত প্রায় না থাকলেও অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কিছু শাখার কার্যক্রম সীমিত করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালক। ঈদুল আজহার আগে গত ২৪ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকদের একটি অংশ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। রোববারও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। একই দাবিতে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ব্যাংকটির পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদেও সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর প্রভাবে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন অবস্থায় ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের ঋণ অনিয়ম ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা বড় কারণ। ২০১৭ সালে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ শেয়ারবাজারের মাধ্যমে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তবে এরই মধ্যে ব্যাংকটির ঋণপোর্টফোলিওর বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি খেলাপি, যার উল্লেখযোগ্য অংশ এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা তাৎক্ষণিক চাপ কমাতে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে আস্থা পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণ আদায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।