ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভালো গল্প পেলেই বাংলা সিনেমায় কাজ করবেন কাজল 

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল আবারও শিরোনামে। বাংলা সিনেমা নিয়মিত না দেখলেও, ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের প্রস্তাব পেলে বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। কলকাতা সফরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর এই মন্তব্য ইতোমধ্যে দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি কলকাতায় একটি সম্মাননা গ্রহণ করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কাজল। সেখানেই বাংলা সিনেমা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি বাংলা সিনেমা খুব একটা দেখি না। তবে ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে অবশ্যই অভিনয় করতে রাজি আছি।”

কাজলের এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তাহলে কি খুব শিগগিরই বাংলা চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বলিউডের এই জনপ্রিয় তারকাকে?

মায়ের পথেই হাঁটার চেষ্টা : কাজল এমন এক পরিবারে জন্মেছেন, যেখানে অভিনয় রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। তাঁর মা কিংবদন্তি অভিনেত্রী তনুজা মুখার্জি, যিনি বাংলা ও হিন্দি—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাবা প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা সোমু মুখোপাধ্যায়।

মায়ের মতো অভিনেত্রী হতে পেরেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কাজল বলেন, “এখনও চেষ্টা করে চলেছি। মা অনেক বড় মাপের অভিনেত্রী। সারাজীবন তাঁর দেখানো পথেই হাঁটার চেষ্টা করেছি।”

এই বিনয়ী স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করে, দীর্ঘ তিন দশকের সফল ক্যারিয়ার গড়েও নিজেকে শেখার জায়গাতেই রাখতে চান এই অভিনেত্রী।

সময়নিষ্ঠাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়: দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পেশাদারিত্বের জন্য আলাদা সুনাম রয়েছে কাজলের। নিজের কাজের অভ্যাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, সময়ের ব্যাপারে তিনি কখনোই আপস করেন না।

কাজলের ভাষায়, “আমি ভীষণ শৃঙ্খলাপরায়ণ। বলিউডে খুব কম মানুষই সময়মতো সেটে আসেন। আমি তাদের একজন। আবার কাজ শেষ হলে সময়মতো সেট থেকেও বের হয়ে যাই। এটা আমার স্বভাব।”

চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর এই পেশাদার মনোভাব বহু নির্মাতা ও সহশিল্পীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

কলকাতা সফরের নেপথ্যের গল্প : এবারের কলকাতা সফরে একটি সম্মাননা গ্রহণের পাশাপাশি দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরেও পূজা দিয়েছেন কাজল। সফরজুড়ে ভক্তদের ভালোবাসা ও আন্তরিক অভ্যর্থনায় তিনি মুগ্ধ বলেও জানিয়েছেন।

তিন দশকের সফল ক্যারিয়ার : ১৯৯২ সালে‘বেখুদি’সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হলেও, প্রকৃত সাফল্য আসে এক বছর পর শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘বাজিগর’ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গম’, ‘ফানা’, ‘গুপ্ত’, ‘দুশমন’, ‘পেয়ার তো হোনা হি থা ’—একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

বিয়ে, পরিবার ও নতুন অধ্যায়: ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে ১৯৯৯ সালে অভিনেতা অজয় দেবগণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কাজল। এরপর সংসার ও অভিনয়—দুই ক্ষেত্রই সফলভাবে সামলেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দার পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। ‘দ্য ট্রায়াল’, ‘লাস্ট স্টোরিজ ২’, ‘দ্য রোমান্টিকস’-এর মতো প্রজেক্টে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন।

বাংলা সিনেমা নিয়ে কাজলের সাম্প্রতিক মন্তব্যে এখন দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শক্তিশালী গল্প ও উপযুক্ত চরিত্র পেলে হয়তো খুব শিগগিরই বাংলা চলচ্চিত্রেও দেখা যেতে পারে এই বলিউড সুপারস্টারকে।

জনপ্রিয়

ভালো গল্প পেলেই বাংলা সিনেমায় কাজ করবেন কাজল 

প্রকাশ : ১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল আবারও শিরোনামে। বাংলা সিনেমা নিয়মিত না দেখলেও, ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের প্রস্তাব পেলে বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। কলকাতা সফরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর এই মন্তব্য ইতোমধ্যে দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি কলকাতায় একটি সম্মাননা গ্রহণ করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কাজল। সেখানেই বাংলা সিনেমা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি বাংলা সিনেমা খুব একটা দেখি না। তবে ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে অবশ্যই অভিনয় করতে রাজি আছি।”

কাজলের এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তাহলে কি খুব শিগগিরই বাংলা চলচ্চিত্রে দেখা যাবে বলিউডের এই জনপ্রিয় তারকাকে?

মায়ের পথেই হাঁটার চেষ্টা : কাজল এমন এক পরিবারে জন্মেছেন, যেখানে অভিনয় রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। তাঁর মা কিংবদন্তি অভিনেত্রী তনুজা মুখার্জি, যিনি বাংলা ও হিন্দি—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাবা প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা সোমু মুখোপাধ্যায়।

মায়ের মতো অভিনেত্রী হতে পেরেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কাজল বলেন, “এখনও চেষ্টা করে চলেছি। মা অনেক বড় মাপের অভিনেত্রী। সারাজীবন তাঁর দেখানো পথেই হাঁটার চেষ্টা করেছি।”

এই বিনয়ী স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করে, দীর্ঘ তিন দশকের সফল ক্যারিয়ার গড়েও নিজেকে শেখার জায়গাতেই রাখতে চান এই অভিনেত্রী।

সময়নিষ্ঠাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়: দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পেশাদারিত্বের জন্য আলাদা সুনাম রয়েছে কাজলের। নিজের কাজের অভ্যাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, সময়ের ব্যাপারে তিনি কখনোই আপস করেন না।

কাজলের ভাষায়, “আমি ভীষণ শৃঙ্খলাপরায়ণ। বলিউডে খুব কম মানুষই সময়মতো সেটে আসেন। আমি তাদের একজন। আবার কাজ শেষ হলে সময়মতো সেট থেকেও বের হয়ে যাই। এটা আমার স্বভাব।”

চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর এই পেশাদার মনোভাব বহু নির্মাতা ও সহশিল্পীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

কলকাতা সফরের নেপথ্যের গল্প : এবারের কলকাতা সফরে একটি সম্মাননা গ্রহণের পাশাপাশি দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরেও পূজা দিয়েছেন কাজল। সফরজুড়ে ভক্তদের ভালোবাসা ও আন্তরিক অভ্যর্থনায় তিনি মুগ্ধ বলেও জানিয়েছেন।

তিন দশকের সফল ক্যারিয়ার : ১৯৯২ সালে‘বেখুদি’সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হলেও, প্রকৃত সাফল্য আসে এক বছর পর শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘বাজিগর’ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গম’, ‘ফানা’, ‘গুপ্ত’, ‘দুশমন’, ‘পেয়ার তো হোনা হি থা ’—একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

বিয়ে, পরিবার ও নতুন অধ্যায়: ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে ১৯৯৯ সালে অভিনেতা অজয় দেবগণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কাজল। এরপর সংসার ও অভিনয়—দুই ক্ষেত্রই সফলভাবে সামলেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে বড় পর্দার পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। ‘দ্য ট্রায়াল’, ‘লাস্ট স্টোরিজ ২’, ‘দ্য রোমান্টিকস’-এর মতো প্রজেক্টে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন।

বাংলা সিনেমা নিয়ে কাজলের সাম্প্রতিক মন্তব্যে এখন দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শক্তিশালী গল্প ও উপযুক্ত চরিত্র পেলে হয়তো খুব শিগগিরই বাংলা চলচ্চিত্রেও দেখা যেতে পারে এই বলিউড সুপারস্টারকে।