ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে অপরাজনীতির চেষ্টা দ্রুতই পরাজিত হবে

  • রেজাউল করিম রনি
  • প্রকাশ : ১০:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমন্বয়ের কাজ ভালো ভাবে করার জন্যই লন্ডনে আছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কারণ লন্ডনের ডাক্তাররাই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা টিমের অন্যতম সদস্য। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হ লে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে। চলতি বছরের শুরুর দিকে লন্ডনেই উনার চিকিৎসা হয়েছে। ফলে এই সময়ে উনি বা উনার ডাক্তার স্ত্রী কেন দেশে নাই তা বুঝতে বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার নাই।
ধরেন উনি আসতেছে না। উনার মায়ের প্রতি দরদ নাই, সব দরদ মোনাফেকদের। উনার স্ত্রী ও কন্যাকে তো পাঠাতে পারেন তাই না? সেটাতে কি সমস্যা? কোন সমস্যা নাই। জাস্ট বিষয়টা অদরকারী। কারণ এখানে তাদের কোন কাজ নাই। জাষ্ট জটলা বাড়ানো ছাড়া।
ফলে চিকিৎসা বিষয়ক কারণে তারেক রহমানের দেশে আসাটা খুবই ফালতু একটা কাজ হতো। এখানে লাখ লাখ নেতা-কর্মীর উৎপাতে মায়ের চিকিৎসার ১২ টা বেজে যেত। তবে উনার দেশে না ফেরার কারণটা পুরোটাই রাজনৈতিক। একটু পরিস্কার করে বলি।
২.
তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য খুব জরুরী একজন নেতা। উনি এই কারণেই খুব জরুরী নেতা, কারণ ভারত তাকে থ্রেট মনে করে। এটা আমি বহুবার লিখেছি। বলেছি। কিন্তু এই থ্রেট মোকাবেলা করেই জনগনের পক্ষে থেকেই তিনি রাজনীতি করবেন সেটা বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে এক রকম পরিস্কার করেছেন তিনি নিজেই। এই রিস্ক আজীবন থাকবে। ফলে এটা মেজর কারণ না। মেজর কারণ হলো- তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না মূলত প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাহেবের সম্মানের দিকে তাকিয়ে। এই সময়ে তারেক রহমান দেশে ফিরলে ক্ষমতার দুইটা প্যারালাল ভর কেন্দ্র তৈরি হবে। এটাই বাংলাদেশ।

তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে পাওয়ার সেন্টার এমন ভাবে বিভক্ত হয়ে যাবে যে, এই দূর্বল সরকার আরও দূর্বল হয়ে পড়বে। আর আপনারা তো জানেন বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ মানুষ ক্ষমতা পন্থী। ফলে পরর্বতী ক্ষমতার হাব বিএনপি ও তার প্রধান তারেক রহমানের দিকে ছুটে আসার যে পতঙ্গ স্রোত তৈরি হবে এটা সরকার ঠেকাতে পারবে না। প্রশাসনের সব গুপ্ত ও নিরপেক্ষ মোাফেকগুলো কে কত বড় বিএনপি এটা প্রমাণের জন্য অস্থির হয়ে যাবে। ফলে সরকার চরম ডিসফাংশনাল হয়ে উঠবে।

উদাহরণ- একদিন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ভাই স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিল তাতেই সব কিভাবে দৌড়ে এসেছে সেটা দেখেছেন।

বাংলাদেশে প্রফেশনালিজম ডেভলপ করে নাই। এখানে মূলত চলে চাটা-ইজম। ফলে তারেক রহমান দেশে আর সরকার ইউনূসের নিয়ন্ত্রণে থাকবে- এটা হবে না। এমনিতেই সরকারের উপর ইউনূসের তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ নাই। প্রায় সব বড় পোষ্ট গুপ্ত ভাবে দখল হয়ে গেছে।

নিরপেক্ষ মোনাফেক উপদেষ্টারা প্রতিনিয়ত ক্ষমতাকামী মোনাফেকদের সাথে মিটিং করছে। লটারী নাটক করে ৪০/৪৫টা ডিসি পোষ্ট নিরপক্ষে মোনাফেকদের দিয়ে দখল করাইছে। ফলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার আইডিয়াল সময় তফসিলের পরই আসলে। তখন নির্বাচন কমিশনই মূলত ক্ষমতায় থাকবে। ফলে কাউন্টার পাওয়ার সেন্টার তৈরির বিষয়টা থাকবে না। কিন্তু এখনই উনাকে এনে সরকারের নিরপেক্ষতার যেটুকু আছে সেটা নষ্ট করা এবং এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব না, সব তো বিএনপির দখলে চলে গেছে এই বয়ান তৈরি করা এবং সরকাকে বেকায়দায় ফেলে নির্বাচন না হতে দেয়া- এটাই লীগ ও তাদের প্রভুদের এজেন্ডা। আর এটা বাস্তবায়নই গুপ্ত মোনাফেক ও ভন্ড গফুরদেরও এজেন্ডা। তাতে ওরা মনে করতেছে ওদের হাতে ক্ষমতা থাকবে।
ফলে তারেক রহমান ইস্যুতে মোনাফেকদের জন্য এখানে কোন রাজনীতি নাই। এরা কেবল পলিটিক্স করছে আর দিন দিন জনঘৃণার কেন্দ্রে চলে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়

তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে অপরাজনীতির চেষ্টা দ্রুতই পরাজিত হবে

প্রকাশ : ১০:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমন্বয়ের কাজ ভালো ভাবে করার জন্যই লন্ডনে আছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কারণ লন্ডনের ডাক্তাররাই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা টিমের অন্যতম সদস্য। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হ লে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে। চলতি বছরের শুরুর দিকে লন্ডনেই উনার চিকিৎসা হয়েছে। ফলে এই সময়ে উনি বা উনার ডাক্তার স্ত্রী কেন দেশে নাই তা বুঝতে বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার নাই।
ধরেন উনি আসতেছে না। উনার মায়ের প্রতি দরদ নাই, সব দরদ মোনাফেকদের। উনার স্ত্রী ও কন্যাকে তো পাঠাতে পারেন তাই না? সেটাতে কি সমস্যা? কোন সমস্যা নাই। জাস্ট বিষয়টা অদরকারী। কারণ এখানে তাদের কোন কাজ নাই। জাষ্ট জটলা বাড়ানো ছাড়া।
ফলে চিকিৎসা বিষয়ক কারণে তারেক রহমানের দেশে আসাটা খুবই ফালতু একটা কাজ হতো। এখানে লাখ লাখ নেতা-কর্মীর উৎপাতে মায়ের চিকিৎসার ১২ টা বেজে যেত। তবে উনার দেশে না ফেরার কারণটা পুরোটাই রাজনৈতিক। একটু পরিস্কার করে বলি।
২.
তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য খুব জরুরী একজন নেতা। উনি এই কারণেই খুব জরুরী নেতা, কারণ ভারত তাকে থ্রেট মনে করে। এটা আমি বহুবার লিখেছি। বলেছি। কিন্তু এই থ্রেট মোকাবেলা করেই জনগনের পক্ষে থেকেই তিনি রাজনীতি করবেন সেটা বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে এক রকম পরিস্কার করেছেন তিনি নিজেই। এই রিস্ক আজীবন থাকবে। ফলে এটা মেজর কারণ না। মেজর কারণ হলো- তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না মূলত প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাহেবের সম্মানের দিকে তাকিয়ে। এই সময়ে তারেক রহমান দেশে ফিরলে ক্ষমতার দুইটা প্যারালাল ভর কেন্দ্র তৈরি হবে। এটাই বাংলাদেশ।

তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে পাওয়ার সেন্টার এমন ভাবে বিভক্ত হয়ে যাবে যে, এই দূর্বল সরকার আরও দূর্বল হয়ে পড়বে। আর আপনারা তো জানেন বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ মানুষ ক্ষমতা পন্থী। ফলে পরর্বতী ক্ষমতার হাব বিএনপি ও তার প্রধান তারেক রহমানের দিকে ছুটে আসার যে পতঙ্গ স্রোত তৈরি হবে এটা সরকার ঠেকাতে পারবে না। প্রশাসনের সব গুপ্ত ও নিরপেক্ষ মোাফেকগুলো কে কত বড় বিএনপি এটা প্রমাণের জন্য অস্থির হয়ে যাবে। ফলে সরকার চরম ডিসফাংশনাল হয়ে উঠবে।

উদাহরণ- একদিন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ভাই স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিল তাতেই সব কিভাবে দৌড়ে এসেছে সেটা দেখেছেন।

বাংলাদেশে প্রফেশনালিজম ডেভলপ করে নাই। এখানে মূলত চলে চাটা-ইজম। ফলে তারেক রহমান দেশে আর সরকার ইউনূসের নিয়ন্ত্রণে থাকবে- এটা হবে না। এমনিতেই সরকারের উপর ইউনূসের তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ নাই। প্রায় সব বড় পোষ্ট গুপ্ত ভাবে দখল হয়ে গেছে।

নিরপেক্ষ মোনাফেক উপদেষ্টারা প্রতিনিয়ত ক্ষমতাকামী মোনাফেকদের সাথে মিটিং করছে। লটারী নাটক করে ৪০/৪৫টা ডিসি পোষ্ট নিরপক্ষে মোনাফেকদের দিয়ে দখল করাইছে। ফলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার আইডিয়াল সময় তফসিলের পরই আসলে। তখন নির্বাচন কমিশনই মূলত ক্ষমতায় থাকবে। ফলে কাউন্টার পাওয়ার সেন্টার তৈরির বিষয়টা থাকবে না। কিন্তু এখনই উনাকে এনে সরকারের নিরপেক্ষতার যেটুকু আছে সেটা নষ্ট করা এবং এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব না, সব তো বিএনপির দখলে চলে গেছে এই বয়ান তৈরি করা এবং সরকাকে বেকায়দায় ফেলে নির্বাচন না হতে দেয়া- এটাই লীগ ও তাদের প্রভুদের এজেন্ডা। আর এটা বাস্তবায়নই গুপ্ত মোনাফেক ও ভন্ড গফুরদেরও এজেন্ডা। তাতে ওরা মনে করতেছে ওদের হাতে ক্ষমতা থাকবে।
ফলে তারেক রহমান ইস্যুতে মোনাফেকদের জন্য এখানে কোন রাজনীতি নাই। এরা কেবল পলিটিক্স করছে আর দিন দিন জনঘৃণার কেন্দ্রে চলে যাচ্ছে।