ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর

মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়নি দুই পুলিশ, ওসিকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৬:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো গ্রেপ্তার হননি অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য। ঘটনার মূল নির্দেশদাতা খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে।

আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযোগের পর সাধারণত তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় অথবা আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু নাঈম হাসানকে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে এমন কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা পুলিশের সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহা দেখা যাচ্ছে। যদিও ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, এটি কেবল শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, বরং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা।

গত শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। পথে নগরের লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বহনকারী সিএনজি থামান।

পরে জানা যায়, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল। খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানের নির্দেশে এসআই শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সোর্স অভিযানে অংশ নেন।

নাঈম হাসানের অভিযোগ, পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে ডিবি পরিচয়ে গাড়ি থেকে নামানো হয় এবং পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। পরবর্তীতে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নাঈম দাবি করেন, থানায় নেওয়ার পরও তিনি নিজের পরিচয়পত্র দেখান এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল এবং পরিচালক ইসরাফিল খসরুর হস্তক্ষেপের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরদিন সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। এতে মারধর, অপহরণের চেষ্টা এবং বেআইনিভাবে আটকের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার পর পুলিশ সোর্স সোহেলকে আটক করলেও অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

এদিকে ঘটনার মূল নির্দেশদাতা হিসেবে ওসি আরিফুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাঈম ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, থানায় নেওয়া এবং পরবর্তী হয়রানির পেছনে তার নির্দেশনা ছিল। তবে আরিফুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে জানানো হয়নি। থানায় আনার পর পরিচয় নিশ্চিত হলে তিনি নাঈমকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ঘটনার পর সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আচরণকে ‘চরম অপেশাদার’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বলেন, মামলার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তবে মামলার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর

মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়নি দুই পুলিশ, ওসিকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

প্রকাশ : ০৬:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো গ্রেপ্তার হননি অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য। ঘটনার মূল নির্দেশদাতা খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে।

আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযোগের পর সাধারণত তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় অথবা আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু নাঈম হাসানকে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে এমন কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা পুলিশের সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহা দেখা যাচ্ছে। যদিও ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, এটি কেবল শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, বরং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা।

গত শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার। পথে নগরের লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বহনকারী সিএনজি থামান।

পরে জানা যায়, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল। খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানের নির্দেশে এসআই শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সোর্স অভিযানে অংশ নেন।

নাঈম হাসানের অভিযোগ, পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে ডিবি পরিচয়ে গাড়ি থেকে নামানো হয় এবং পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। পরবর্তীতে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নাঈম দাবি করেন, থানায় নেওয়ার পরও তিনি নিজের পরিচয়পত্র দেখান এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল এবং পরিচালক ইসরাফিল খসরুর হস্তক্ষেপের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরদিন সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। এতে মারধর, অপহরণের চেষ্টা এবং বেআইনিভাবে আটকের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার পর পুলিশ সোর্স সোহেলকে আটক করলেও অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

এদিকে ঘটনার মূল নির্দেশদাতা হিসেবে ওসি আরিফুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাঈম ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, থানায় নেওয়া এবং পরবর্তী হয়রানির পেছনে তার নির্দেশনা ছিল। তবে আরিফুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে জানানো হয়নি। থানায় আনার পর পরিচয় নিশ্চিত হলে তিনি নাঈমকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ঘটনার পর সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আচরণকে ‘চরম অপেশাদার’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বলেন, মামলার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তবে মামলার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।