ঢাকা ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দারুন জয়ে মিশন শুরু আর্জেন্টিনার, কাঁদলেন মেসি, কাঁদালেন স্কালোনিকে

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৯:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৩৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ গোলের দারুন এক জয় উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। ফলে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই ফুটবল জাদুকর। বুধবার কানসাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। খেলার পঞ্চম মিনিটেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন মেসি, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। পরে ১৭ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে দলের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। ৬০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট থেকে ফিরতি বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৬ মিনিটে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে মেসিকে তুলে নিকো পাজকে মাঠে নামান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ডাগআউটে ফেরার পর মেসিকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় স্কালোনিকে। সেই সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা কোচ।

ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, “আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাকে জড়িয়ে ধরেছি, চুমু খেয়েছি এবং বলেছি—আমি তোমাকে ভালোবাসি। এর বাইরে আর কিছু বলার ছিল না।”

মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েও আবেগঘন মন্তব্য করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, “সে যেদিন ফুটবল ছেড়ে দেবে, আমরা তাকে ভীষণভাবে মিস করব। তাই যতদিন তাকে পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

ম্যাচ চলাকালে এবং পরে মেসিকেও আবেগাপ্লুত দেখা যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপের শেষ অভিযানে গোল করার আনন্দেই হয়তো তাঁর চোখে জল এসেছে। তবে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক জানান, কান্নার কারণ ফুটবল নয়, বরং ব্যক্তিগত।

মেসি বলেন, “সত্যি বলতে, এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটা দিন ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য কঠিন ছিল। তবে সতীর্থরা সব সময় আমার পাশে থেকেছে এবং আমাকে শক্তি জুগিয়েছে।”

ম্যাচের বিশ্লেষণে মেসি বলেন, আলজেরিয়াকে তারা হালকাভাবে নেয়নি। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ ছিল দ্রুতগতির এবং বিপজ্জনক। তবে শুরুতেই গোল পাওয়ায় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়েছে।

তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সব সময় কঠিন হয়। আমরা সেটা জানতাম। তবে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

আলজেরিয়ার বিপক্ষে করা এই হ্যাটট্রিক মেসিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতার আসনে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১৬, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান।

ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, “পরিবার, সতীর্থ এবং সমর্থকদের সঙ্গে এই মুহূর্ত ভাগাভাগি করতে পারা অসাধারণ অনুভূতি। আমাদের দলটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া সব সময়ই বিশেষ কিছু।”

গ্যালারিতে উপস্থিত আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আর্জেন্টিনার মানুষ আবারও দেখিয়েছে তারা ফুটবলকে কতটা ভালোবাসে।”

২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল আর্জেন্টিনা। চার বছর পর নতুন বিশ্বকাপ মিশনের প্রথম ম্যাচেই মেসির হ্যাটট্রিক যেন শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

আর সেই স্বপ্নযাত্রার শুরুতেই মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনা কোচের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন ছিল একেবারেই হৃদয়ছোঁয়া—“মেসিকে নিয়ে কী বলব, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”

দারুন জয়ে মিশন শুরু আর্জেন্টিনার, কাঁদলেন মেসি, কাঁদালেন স্কালোনিকে

প্রকাশ : ০৯:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ গোলের দারুন এক জয় উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। ফলে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই ফুটবল জাদুকর। বুধবার কানসাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। খেলার পঞ্চম মিনিটেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন মেসি, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। পরে ১৭ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে দলের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। ৬০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট থেকে ফিরতি বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৬ মিনিটে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে মেসিকে তুলে নিকো পাজকে মাঠে নামান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ডাগআউটে ফেরার পর মেসিকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় স্কালোনিকে। সেই সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা কোচ।

ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, “আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাকে জড়িয়ে ধরেছি, চুমু খেয়েছি এবং বলেছি—আমি তোমাকে ভালোবাসি। এর বাইরে আর কিছু বলার ছিল না।”

মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েও আবেগঘন মন্তব্য করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, “সে যেদিন ফুটবল ছেড়ে দেবে, আমরা তাকে ভীষণভাবে মিস করব। তাই যতদিন তাকে পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

ম্যাচ চলাকালে এবং পরে মেসিকেও আবেগাপ্লুত দেখা যায়। অনেকেই ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপের শেষ অভিযানে গোল করার আনন্দেই হয়তো তাঁর চোখে জল এসেছে। তবে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক জানান, কান্নার কারণ ফুটবল নয়, বরং ব্যক্তিগত।

মেসি বলেন, “সত্যি বলতে, এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটা দিন ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য কঠিন ছিল। তবে সতীর্থরা সব সময় আমার পাশে থেকেছে এবং আমাকে শক্তি জুগিয়েছে।”

ম্যাচের বিশ্লেষণে মেসি বলেন, আলজেরিয়াকে তারা হালকাভাবে নেয়নি। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ ছিল দ্রুতগতির এবং বিপজ্জনক। তবে শুরুতেই গোল পাওয়ায় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়েছে।

তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সব সময় কঠিন হয়। আমরা সেটা জানতাম। তবে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

আলজেরিয়ার বিপক্ষে করা এই হ্যাটট্রিক মেসিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতার আসনে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১৬, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান।

ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, “পরিবার, সতীর্থ এবং সমর্থকদের সঙ্গে এই মুহূর্ত ভাগাভাগি করতে পারা অসাধারণ অনুভূতি। আমাদের দলটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া সব সময়ই বিশেষ কিছু।”

গ্যালারিতে উপস্থিত আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আর্জেন্টিনার মানুষ আবারও দেখিয়েছে তারা ফুটবলকে কতটা ভালোবাসে।”

২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল আর্জেন্টিনা। চার বছর পর নতুন বিশ্বকাপ মিশনের প্রথম ম্যাচেই মেসির হ্যাটট্রিক যেন শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

আর সেই স্বপ্নযাত্রার শুরুতেই মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনা কোচের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন ছিল একেবারেই হৃদয়ছোঁয়া—“মেসিকে নিয়ে কী বলব, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”