ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির মরদেহ চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো?

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৭:৪৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৯১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে দাফনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে তেহরান। আগামী ৯ জুলাই দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাসিজ মিলিশিয়ার মোতায়েন এবং কোটি মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি প্রশ্ন—চার মাস ধরে কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে খামেনির মরদেহ?

ধর্মীয় বিধান, ফরেনসিক প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তাজনিত বাস্তবতার সমন্বয়ে এই দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

ইসলামী বিধান মেনেই কি সংরক্ষণ?

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামে সাধারণত মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব দাফনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণকে নিরুৎসাহিত করা হয়।

চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক গবেষক ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, খামেনির মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বরং আধুনিক শীতলীকরণ (রেফ্রিজারেশন) ব্যবস্থার মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া ইসলামী আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য।

তার ভাষ্য, বিশেষ পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্বিত করা এবং হিমায়িত অবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিশেষ অনুমোদন পাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

চার মাস ধরে মরদেহ সংরক্ষণ কতটা সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ফরেনসিক মর্গে প্রয়োজনে কয়েক মাস পর্যন্ত মরদেহ শীতলীকরণ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে চার মাস ধরে মরদেহ সংরক্ষণ প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব এবং এটি দেশটির ধর্মীয় ও আইনি কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, জনসমক্ষে প্রদর্শনের উপযোগী অবস্থায় মরদেহ নাও থাকতে পারে।

হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ড. মোহাম্মদ ওমরের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার বিধ্বংসী হামলায় খামেনির মরদেহ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার সঙ্গে নিহত অন্যদের মরদেহও কয়েক সপ্তাহ পর উদ্ধার করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

তার মতে, যদি মরদেহ সম্পূর্ণ অক্ষত থাকত, তাহলে শেষ বিদায় অনুষ্ঠান বারবার পিছিয়ে দেওয়া, দাফনের স্থান পরিবর্তন কিংবা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সময় গোপন রাখার প্রয়োজন হতো না। এসব ঘটনাই ইঙ্গিত দেয় যে মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও জনসমক্ষে প্রদর্শনের মতো অবস্থায় নেই।

ঐতিহাসিক জনসমাগমের প্রস্তুতি :

তেহরানে শনিবার ও রোববার জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, ৬ জুলাইয়ের শোকযাত্রায় দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন।

এর পরদিন শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র শহর কুমে আরেকটি শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসিজ বাহিনীসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্বের নজর তেহরানে:

ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, এই দাফন অনুষ্ঠান কেবল একটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে।

তার দাবি, অনুষ্ঠানে ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি, প্রায় ১৪ হাজার আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং দেশজুড়ে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইরানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি বড় উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে তেহরানে নিজ বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

জনপ্রিয়

খামেনির মরদেহ চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো?

প্রকাশ : ০৭:৪৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে দাফনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে তেহরান। আগামী ৯ জুলাই দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাসিজ মিলিশিয়ার মোতায়েন এবং কোটি মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি প্রশ্ন—চার মাস ধরে কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে খামেনির মরদেহ?

ধর্মীয় বিধান, ফরেনসিক প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তাজনিত বাস্তবতার সমন্বয়ে এই দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

ইসলামী বিধান মেনেই কি সংরক্ষণ?

বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামে সাধারণত মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব দাফনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণকে নিরুৎসাহিত করা হয়।

চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক গবেষক ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, খামেনির মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বরং আধুনিক শীতলীকরণ (রেফ্রিজারেশন) ব্যবস্থার মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া ইসলামী আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য।

তার ভাষ্য, বিশেষ পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্বিত করা এবং হিমায়িত অবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিশেষ অনুমোদন পাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

চার মাস ধরে মরদেহ সংরক্ষণ কতটা সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ফরেনসিক মর্গে প্রয়োজনে কয়েক মাস পর্যন্ত মরদেহ শীতলীকরণ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে চার মাস ধরে মরদেহ সংরক্ষণ প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব এবং এটি দেশটির ধর্মীয় ও আইনি কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, জনসমক্ষে প্রদর্শনের উপযোগী অবস্থায় মরদেহ নাও থাকতে পারে।

হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ড. মোহাম্মদ ওমরের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার বিধ্বংসী হামলায় খামেনির মরদেহ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার সঙ্গে নিহত অন্যদের মরদেহও কয়েক সপ্তাহ পর উদ্ধার করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

তার মতে, যদি মরদেহ সম্পূর্ণ অক্ষত থাকত, তাহলে শেষ বিদায় অনুষ্ঠান বারবার পিছিয়ে দেওয়া, দাফনের স্থান পরিবর্তন কিংবা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সময় গোপন রাখার প্রয়োজন হতো না। এসব ঘটনাই ইঙ্গিত দেয় যে মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও জনসমক্ষে প্রদর্শনের মতো অবস্থায় নেই।

ঐতিহাসিক জনসমাগমের প্রস্তুতি :

তেহরানে শনিবার ও রোববার জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, ৬ জুলাইয়ের শোকযাত্রায় দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন।

এর পরদিন শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র শহর কুমে আরেকটি শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসিজ বাহিনীসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্বের নজর তেহরানে:

ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, এই দাফন অনুষ্ঠান কেবল একটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে।

তার দাবি, অনুষ্ঠানে ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি, প্রায় ১৪ হাজার আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং দেশজুড়ে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইরানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি বড় উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে তেহরানে নিজ বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।