ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন রাজা মেসি! পেলেকে ছাড়িয়ে গড়লেন অবিশ্বাস্য রেকর্ড

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৭:০০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৬০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপ মানেই লিওনেল মেসির নতুন ইতিহাস। বয়স ৩৯ ছুঁলেও মাঠে তাঁর প্রভাব যেন আরও বেড়েছে। প্রতিটি ম্যাচে নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা এবং অসাধারণ ফুটবলবোধ দিয়ে আর্জেন্টিনাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার দোরগোড়ায়। সেই পথচলায় একের পর এক কিংবদন্তির রেকর্ড ভেঙে নিজের নাম লিখিয়ে চলেছেন ফুটবল ইতিহাসের সোনালি অধ্যায়ে।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রকাশকারী ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম

বাই দ্যা নাম্বারস –এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড লিওনেল মেসির দখলে। ৩৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি করেছেন ২১ গোল এবং ১২টি অ্যাসিস্ট, অর্থাৎ মোট ৩৩টি গোলে সরাসরি অবদান। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলারের এমন কীর্তি নেই।

এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে সরাসরি গোল অবদান ২৫টি। তবে মেসির সঙ্গে তাঁর ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য।

পেলেকে ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক:

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির প্রভাব আরও বিস্ময়কর। নকআউট ম্যাচগুলোতে তিনি ইতোমধ্যে ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে এই রেকর্ডের অন্যতম আলোচিত নাম ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে, যার নকআউট পর্বে অ্যাসিস্ট ছিল মাত্র চারটি।

অর্থাৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে মেসি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক শীর্ষে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং বড় মঞ্চে দলের জন্য তাঁর ধারাবাহিক অবদানেরই প্রতিফলন।

মারাদোনাকেও ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায়:

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সুযোগ তৈরির দিক থেকেও মেসি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। বাই দ্যা নাম্বারস–এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে সতীর্থদের জন্য এখন পর্যন্ত ৯৯টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

আর মাত্র একটি সুযোগ তৈরি করতে পারলেই স্পর্শ করবেন ঐতিহাসিক ১০০ সুযোগ তৈরির মাইলফলক। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা, যার তৈরি করা সুযোগের সংখ্যা ৭১।

পরিসংখ্যান বলছে, আক্রমণ গড়ে তোলা, গোলের সুযোগ সৃষ্টি এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন।

সেমিফাইনালে জোড়া অ্যাসিস্টে ফাইনালের টিকিট: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২–১ গোলের জয়ে আবারও কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন মেসি। ম্যাচের শেষদিকে তাঁর নিখুঁত দুটি পাস থেকে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। সেই জোড়া অ্যাসিস্টেই নিশ্চিত হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ফাইনালের টিকিট।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা একাধিক কঠিন ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অভিজ্ঞতা, শান্ত মস্তিষ্ক এবং নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলকে এনে দিয়েছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ জয়।

এবার লক্ষ্য আরেকটি বিশ্বকাপ: আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেখানে শিরোপা জিততে পারলে মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে যোগ হবে আরও একটি সোনালি অধ্যায়।

রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে তিনি ইতোমধ্যেই নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে ফাইনালে আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁর কিংবদন্তিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।

জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন রাজা মেসি! পেলেকে ছাড়িয়ে গড়লেন অবিশ্বাস্য রেকর্ড

প্রকাশ : ০৭:০০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ মানেই লিওনেল মেসির নতুন ইতিহাস। বয়স ৩৯ ছুঁলেও মাঠে তাঁর প্রভাব যেন আরও বেড়েছে। প্রতিটি ম্যাচে নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা এবং অসাধারণ ফুটবলবোধ দিয়ে আর্জেন্টিনাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার দোরগোড়ায়। সেই পথচলায় একের পর এক কিংবদন্তির রেকর্ড ভেঙে নিজের নাম লিখিয়ে চলেছেন ফুটবল ইতিহাসের সোনালি অধ্যায়ে।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রকাশকারী ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম

বাই দ্যা নাম্বারস –এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড লিওনেল মেসির দখলে। ৩৩টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি করেছেন ২১ গোল এবং ১২টি অ্যাসিস্ট, অর্থাৎ মোট ৩৩টি গোলে সরাসরি অবদান। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলারের এমন কীর্তি নেই।

এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে সরাসরি গোল অবদান ২৫টি। তবে মেসির সঙ্গে তাঁর ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য।

পেলেকে ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক:

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির প্রভাব আরও বিস্ময়কর। নকআউট ম্যাচগুলোতে তিনি ইতোমধ্যে ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে এই রেকর্ডের অন্যতম আলোচিত নাম ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে, যার নকআউট পর্বে অ্যাসিস্ট ছিল মাত্র চারটি।

অর্থাৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে মেসি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক শীর্ষে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং বড় মঞ্চে দলের জন্য তাঁর ধারাবাহিক অবদানেরই প্রতিফলন।

মারাদোনাকেও ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায়:

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সুযোগ তৈরির দিক থেকেও মেসি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। বাই দ্যা নাম্বারস–এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে সতীর্থদের জন্য এখন পর্যন্ত ৯৯টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

আর মাত্র একটি সুযোগ তৈরি করতে পারলেই স্পর্শ করবেন ঐতিহাসিক ১০০ সুযোগ তৈরির মাইলফলক। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা, যার তৈরি করা সুযোগের সংখ্যা ৭১।

পরিসংখ্যান বলছে, আক্রমণ গড়ে তোলা, গোলের সুযোগ সৃষ্টি এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ—সব ক্ষেত্রেই মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন।

সেমিফাইনালে জোড়া অ্যাসিস্টে ফাইনালের টিকিট: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২–১ গোলের জয়ে আবারও কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন মেসি। ম্যাচের শেষদিকে তাঁর নিখুঁত দুটি পাস থেকে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। সেই জোড়া অ্যাসিস্টেই নিশ্চিত হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ফাইনালের টিকিট।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা একাধিক কঠিন ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অভিজ্ঞতা, শান্ত মস্তিষ্ক এবং নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলকে এনে দিয়েছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ জয়।

এবার লক্ষ্য আরেকটি বিশ্বকাপ: আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেখানে শিরোপা জিততে পারলে মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে যোগ হবে আরও একটি সোনালি অধ্যায়।

রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে তিনি ইতোমধ্যেই নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে ফাইনালে আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁর কিংবদন্তিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।