ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে বিক্ষোভ, কড়া নিরাপত্তায় সংসদ ছাড়লেন মোদি! 

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৩:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৬১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে হাজারো বিক্ষোভকারী রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নিলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বহরকে সংসদ ভবন থেকে নিরাপত্তার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানী দিল্লির সংসদ চত্বর, জন্তর মন্তর, কনট প্লেস, রেল ভবন, শাস্ত্রীয় ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার আশপাশে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

সকালের দিকে সংসদ ভবনের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় দিল্লি পুলিশ। লোহার ব্যারিকেড বসিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। তবে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

সংসদের ভেতরে অধিবেশন চলাকালেই বাইরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কনভয়কে দ্রুত সংসদ ভবন থেকে বের করে নেওয়া হয়। পরে সংসদের দক্ষিণ পাশের প্রধান প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভের প্রভাব রাজধানীর যান চলাচলেও পড়ে। জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবাতীর্থ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন এবং মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

দিল্লি পুলিশের দাবি, সংসদ ভবন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই কর্মসূচির জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় বড় ধরনের জমায়েত আইনত নিষিদ্ধ ছিল।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তারা আগেই প্রশাসনকে কর্মসূচির বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কর্মসূচি দমনের চেষ্টা করছে। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, আন্দোলনস্থলের আশপাশে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে আন্দোলনের খবর দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে।

এদিকে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সিজেপি দাবি করেছে, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে জনঅসন্তোষ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনগুলোতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক করা যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনার প্রভাব সংসদের চলমান অধিবেশন এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জনপ্রিয়

দিল্লিতে বিক্ষোভ, কড়া নিরাপত্তায় সংসদ ছাড়লেন মোদি! 

প্রকাশ : ০৩:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে হাজারো বিক্ষোভকারী রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নিলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বহরকে সংসদ ভবন থেকে নিরাপত্তার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানী দিল্লির সংসদ চত্বর, জন্তর মন্তর, কনট প্লেস, রেল ভবন, শাস্ত্রীয় ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার আশপাশে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

সকালের দিকে সংসদ ভবনের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় দিল্লি পুলিশ। লোহার ব্যারিকেড বসিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। তবে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

সংসদের ভেতরে অধিবেশন চলাকালেই বাইরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কনভয়কে দ্রুত সংসদ ভবন থেকে বের করে নেওয়া হয়। পরে সংসদের দক্ষিণ পাশের প্রধান প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভের প্রভাব রাজধানীর যান চলাচলেও পড়ে। জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবাতীর্থ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন এবং মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

দিল্লি পুলিশের দাবি, সংসদ ভবন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন রয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই কর্মসূচির জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় বড় ধরনের জমায়েত আইনত নিষিদ্ধ ছিল।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তারা আগেই প্রশাসনকে কর্মসূচির বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কর্মসূচি দমনের চেষ্টা করছে। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, আন্দোলনস্থলের আশপাশে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে আন্দোলনের খবর দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে।

এদিকে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সিজেপি দাবি করেছে, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে জনঅসন্তোষ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনগুলোতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক করা যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনার প্রভাব সংসদের চলমান অধিবেশন এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।