ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে এই জানাজা রাজধানী তেহরান শোকের নগরীতে পরিণত হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এ জানাজায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উপস্থিতিকে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টায় তেহরানে আয়োজিত জানাজার নামাজে ইমামতি করেন দেশটির জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, জানাজায় বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই। এছাড়া খামেনির তিন ছেলে—মাসুদ, মাইসাম ও মোস্তফাও জানাজায় অংশ নেন। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি উপস্থিত ছিলেন। তবে অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে।
জানাজা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ ইরানের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে একটি স্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকবে। বিশেষভাবে আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে তেহরানে মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই হাজারো মানুষ শোক মিছিলে অংশ নেন এবং অশ্রুসিক্ত পরিবেশে প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জানাজা উপলক্ষে ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার রাজধানীজুড়ে শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার কফিন নেওয়া হবে কোম শহরে। বুধবার মরদেহ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হবে। সেখান থেকে নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে নেওয়া হবে, যেখানে তাঁকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান এবং গুরুতর আহত হন তাঁর ছেলে মোজতবা আলী খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খামেনি। তাঁর মৃত্যুর পর মোজতবা আলী খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।
দেশ ডেস্ক 
















