ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবল ঢাকা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে নগরবাসী

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৪:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • ৭১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হলো রাজধানী ঢাকা। রোববার বিকেলের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট। অফিস ছুটির সময় জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন লাখো মানুষ। অনেক এলাকায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে, বিকল হয়ে যায় অসংখ্য যানবাহন।

আষাঢ়ের শুরু থেকেই রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার বিকেলেও আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। অফিস ছুটির সময় হালকা বৃষ্টি শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা মুষলধারায় রূপ নেয়। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ড্রেনেজ লাইনে আবর্জনা জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা যায় মিরপুর, কালসী, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, গ্রিন রোড, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ, মধ্য বাড্ডা, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। মিরপুর-১১ এর কালসী মোড়ে কোমরসমান পানি জমে যায়। নিউমার্কেট ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট এলাকায় দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে ফেলে।

জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পানির মধ্যে আটকে পড়ে অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। অনেক গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে যায়। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি চলমান এলাকাগুলোতে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সদস্যদেরও অনেক স্থানে অসহায় অবস্থায় দেখা যায়।

নগরবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানী অচল হয়ে পড়া ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতারই প্রমাণ। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নালা-খালের দখল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে কাজ করার দাবি করেছে দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ৫ হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ১০টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ করেছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানিয়েছে, তাদের ৯১টি বিশেষ টিম বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনে কাজ করেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনরুদ্ধার এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ছাড়া জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

জনপ্রিয়

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবল ঢাকা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে নগরবাসী

প্রকাশ : ০৪:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হলো রাজধানী ঢাকা। রোববার বিকেলের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট। অফিস ছুটির সময় জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন লাখো মানুষ। অনেক এলাকায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে, বিকল হয়ে যায় অসংখ্য যানবাহন।

আষাঢ়ের শুরু থেকেই রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার বিকেলেও আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। অফিস ছুটির সময় হালকা বৃষ্টি শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা মুষলধারায় রূপ নেয়। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ড্রেনেজ লাইনে আবর্জনা জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা যায় মিরপুর, কালসী, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, গ্রিন রোড, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ, মধ্য বাড্ডা, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। মিরপুর-১১ এর কালসী মোড়ে কোমরসমান পানি জমে যায়। নিউমার্কেট ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট এলাকায় দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে ফেলে।

জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পানির মধ্যে আটকে পড়ে অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। অনেক গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে যায়। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি চলমান এলাকাগুলোতে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সদস্যদেরও অনেক স্থানে অসহায় অবস্থায় দেখা যায়।

নগরবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানী অচল হয়ে পড়া ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতারই প্রমাণ। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নালা-খালের দখল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে কাজ করার দাবি করেছে দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ৫ হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ১০টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ করেছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানিয়েছে, তাদের ৯১টি বিশেষ টিম বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনে কাজ করেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনরুদ্ধার এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ছাড়া জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।