ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের মাঝামাঝি সুখবর পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৫:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ১০৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (নতুন পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও, এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ চলতি সপ্তাহেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত তিনটি পৃথক পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুত করেছে।

সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জুলাইয়ের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে দুই বছর ও তিন বছর মেয়াদি দুটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল। তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে মূল বেতন এবং পরে ভাতা কার্যকর করার চিন্তা ছিল।

তবে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সরকারের ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (IBAS++)-এ কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এজন্য মূল বেতন একবারেই সম্পূর্ণ কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও সামগ্রিকভাবে দুই ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। অনুমোদন মিললেই গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, গত ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর আর্থিক স্বস্তি বাড়বে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয়

জুলাইয়ের মাঝামাঝি সুখবর পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

প্রকাশ : ০৫:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (নতুন পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও, এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ চলতি সপ্তাহেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত তিনটি পৃথক পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুত করেছে।

সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জুলাইয়ের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে দুই বছর ও তিন বছর মেয়াদি দুটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল। তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে মূল বেতন এবং পরে ভাতা কার্যকর করার চিন্তা ছিল।

তবে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে গেলে সরকারের ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (IBAS++)-এ কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এজন্য মূল বেতন একবারেই সম্পূর্ণ কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও সামগ্রিকভাবে দুই ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। অনুমোদন মিললেই গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, গত ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর আর্থিক স্বস্তি বাড়বে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।