ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুকে ডিভোর্সের হুমকি ট্রাম্পের

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৬:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ৭৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত একটি বই। বইটিতে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি দুই দেশের সম্পর্ক ‘ডিভোর্সের’ দিকে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সুয়ানের লেখা নতুন বই ‘Regime Change: Inside the Imperial Presidency of Donald Trump’-এ এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বইটির উদ্ধৃতাংশ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

বইটির দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধ ও শান্তি উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, “সবাই তোমাকে নিয়ে ক্লান্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমাকে নিয়ে ক্লান্ত।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর কারণে ইসরাইলের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন কমছে এবং পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

বইয়ের তথ্যমতে, ট্রাম্প আরও বলেন, “সবাই তোমাকে ঘৃণা করছে, আর আমি এতদিন তোমার পাশে থেকেছি।” একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ইসরাইল যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় রাজি না হয়, তাহলে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের সম্পর্ক ‘ডিভোর্স’-এর দিকে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক তৎপরতার শুরুতে দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছিল। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধান জটিল হয়ে ওঠার পর সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

একপর্যায়ে ট্রাম্প লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বইটির দাবি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি নেতানিয়াহুকে ‘অযৌক্তিক’, ‘বিচারবোধহীন’ এবং ‘পাগল’ বলেও আখ্যা দেন।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল যে, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, গাজা যুদ্ধ, ইরান প্রশ্ন এবং শান্তি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কের এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল কৌশলগত সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয়

নেতানিয়াহুকে ডিভোর্সের হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ : ০৬:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত একটি বই। বইটিতে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি দুই দেশের সম্পর্ক ‘ডিভোর্সের’ দিকে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সুয়ানের লেখা নতুন বই ‘Regime Change: Inside the Imperial Presidency of Donald Trump’-এ এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বইটির উদ্ধৃতাংশ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

বইটির দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধ ও শান্তি উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, “সবাই তোমাকে নিয়ে ক্লান্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমাকে নিয়ে ক্লান্ত।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর কারণে ইসরাইলের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন কমছে এবং পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

বইয়ের তথ্যমতে, ট্রাম্প আরও বলেন, “সবাই তোমাকে ঘৃণা করছে, আর আমি এতদিন তোমার পাশে থেকেছি।” একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, ইসরাইল যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় রাজি না হয়, তাহলে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের সম্পর্ক ‘ডিভোর্স’-এর দিকে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক তৎপরতার শুরুতে দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছিল। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধান জটিল হয়ে ওঠার পর সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

একপর্যায়ে ট্রাম্প লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বইটির দাবি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি নেতানিয়াহুকে ‘অযৌক্তিক’, ‘বিচারবোধহীন’ এবং ‘পাগল’ বলেও আখ্যা দেন।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল যে, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, গাজা যুদ্ধ, ইরান প্রশ্ন এবং শান্তি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কের এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল কৌশলগত সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।