ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ফেরেনি শৃঙ্খলা

জনপ্রশাসনে ওএসডি -অবসর আতঙ্ক

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০১:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • ৫৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও শৃঙ্খলা ফেরেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। নিয়মিত কাজের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে বদলি-পদায়ন চলছে এখনো। বন্ধ আছে প্রশাসনে পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলি। পদায়ন করা হচ্ছে না বঞ্চিত কর্মকর্তাদেরও। তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া চলমান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সচিব থেকে উপ-সচিব পর্যন্ত প্রশাসনে রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিভিন্ন পদে এখনো ফ্যাসিবাদী আমলারা।
অপরদিকে প্রশাসনে আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তারা ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসর আতঙ্কে। বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা গত ১৭ বছর পদোন্নতি না পেয়েও বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। আবার জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের কোণঠাসায় পড়তে হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনে পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মিলে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে নারাজ। অন্যদিকে সাবেক সচিব জাকির খানের কমিটির যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতির সুপারিশ করেছেন সেখানে অনেক দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসরখ্যাত কর্মকর্তাদের সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বরং বঞ্চিত মেধাবী ও দ¶ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দিয়ে আবারো বঞ্চিত করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার ১৭ বছরের শাসনামলে মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বস্তরেই চালু করেছিল আওয়ামীকরণ। কোনো প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সচিব পদ পর্যন্ত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ডিএনএ টেস্ট করে নিয়োগ দেওয়া হতো আওয়ামীপন্থিদের। বর্তমান সরকারে আমলেও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং জামায়াতপন্থিদের একই কায়দায় ডিএনএ টেস্ট করে উপসচিব থেকে সচিব পদে পদোন্নতি ও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনেক সময় প্রজ্ঞাপন, অফিস আদেশ জারি করেও তা টেকাতে পারছে না সরকার। বিগত সরকারের সময়ে বঞ্চিত হয়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের ¶তি পুষিয়ে দিতে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বর্তমান সরকার। ১০ ডিসেম্বর কমিটি ৭৬৪ জনকে বিভিন্ন স্তরে ভূতাপে¶ পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৭৬৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে সচিব পদে ১১৯ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জন, গ্রেড-১ পদে ৪১ জন, যুগ্মসচিব পদে ৭২ জন এবং উপসচিব পদে চারজনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সারসং¶েপ সুপারিশসহ অনুমোদন দিলেও তার বাস্তবায়ন করছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যাদের পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করা হয়েছে, তারা জনপ্রশাসনের বারান্দায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তারপরও আদেশ পাচ্ছেন না। অথচ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আদেশ জারি করা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সূরাতুজ্জামান বলেন, অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সারসং¶েপ সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করা হয়েছে, তারা পাচ্ছে না। পাচ্ছে অন্যপন্থিরা। তারা জনপ্রশাসনের বারান্দায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বার ঘুরেছেন। তারপর আদেশ পাচ্ছেন না। এরকম চলতে থাকলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ¶োভ বাড়তেই থাকবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা বলে আসছেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকর্তাদের বিচার করা হবে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি এ সরকার। পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৫ বছর বঞ্চিত কর্মকর্তারা রাস্তায় রাস্তায় এখনো ঘুরছেন। ফ্যাসিবাদের দোসররা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। আবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখনো ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তাদের দখলে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ও ২৫ ক্যাডার কর্মকর্তারা নিজেদের পদ-পদবি, মান-মর্যাদাসহ বিভিন্ন চাওয়া-পাওয়া নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীদের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, বঞ্চিত কর্মকর্তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, দরকারি ¶েত্রে বঞ্চিতদের উপে¶া, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, কর্মরত কর্মকর্তাদের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা, চেয়ার হারানোর ভয়ে তটস্থ থাকাসহ নানা কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ, দুর্নীতি, ¶মতার অপব্যবহার এবং স্বৈরাচারের ¶মতা প্রলম্বিত করতে যারা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের বিচার হবেই। তবে নিরীহ কারও কিছু হবে না। তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইতোমধ্যে বিগত সময়ের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করাসহ নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকা কর্মকর্তাদের অনেকেই ফেঁসে গেছেন। এছাড়া বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ মিশন ও পদে পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তারাও আছেন দুশ্চিন্তায়। তারা ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসরের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রশাসনে নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের কর্মসূচির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০ এ নং বিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে যাচ্ছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, কেউ এই বিধি লঙ্ঘন করলে তিনি অসদাচরণের দায়ে ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। বিভিন্ন পদমর্যাদার কিছু সরকারি কর্মচারীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, মানববন্ধন, কলম বিরতিসহ বিবিধ কর্মসূচি পালনের কারণে সরকারি কর্মচারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে উল্লেখ করে কর্মচারীদের শৃঙ্খলাবহির্ভূত আচরণের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বঞ্চিতদের দাবি, পতিত হাসিনার দোসররা এখনো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে বসে পরিকল্পিতভাবে আমাদের অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করে দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে, অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা চুপচাপ শুধু দেখেই যাচ্ছেন। দেশের পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না। আমরা অবিলম্বে সচিবালয়, পুলিশ প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোকে হাসিনার দোসরমুক্ত দেখতে চাই বলে দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনিভাবে সরকারের স¶মতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিতর্কিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ২২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুজন সচিব, ১৮ জন অতিরিক্ত সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিব রয়েছেন। তারা সবাই ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। একই দিন ওএসডি অবস্থায় থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব আবু হেনা মো. মোর্শেদ জামানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তিনি হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে প্রশাসনের সর্বত্র ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেনÑ এমন অভিযোগ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, এ বিষয়ে সতর্ক পদ¶েপ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ জন সচিব, পাঁচ জন গ্রেড-১-সহ ২৯ জন অতিরিক্ত সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি অনুবিভাগ) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন করা আমাদের রুটিন কাজ। যেহেতু এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেকগুলো ধাপ পার হয়ে চূড়ান্ত করা হয়, তাই সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাসের মধ্যে বর্তমান সরকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সব বাস্তবায়ন হতে একটু সময় লাগবে।
প্রশাসনের কোটা কমানোর সুপারিশ বাস্তবায়ন না করার অনুরোধ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উপসচিব পদে পদোন্নতিতে প্রশাসনিক সার্ভিসের (প্রশাসন ক্যাডার) কোটা কমিয়ে ৫০ শতাংশ করতে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তা বাস্তবায়ন না করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। প্রশাসন ক্যাডারের সংগঠনটি বলেছে, এটি উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একটি দ¶, জনমুখী, নিরপে¶ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন গড়তে সরকারের এ উদ্যোগকে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন গোষ্ঠী বৃহত্তর কল্যাণ চিন্তার পরিবর্তে নিজ নিজ স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন সার্ভিসের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্যরে পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। গত সোমবার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং মহাসচিব ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে এ অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে প্রশাসনে কর্মকর্তাদের পছন্দ অনুযায়ী বদলির জন্য উপদেষ্টা-সিনিয়র সচিব-সচিব এবং অন্যান্য পর্যায় থেকে আধা-সরকারি পত্র-মৌখিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করছেন যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ এর ২০ এর পর্যায়ভুক্ত অপরাধ বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ। এতে বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থায় কর্মরত প্রশাসন ক্যাডার ও অন্যান্য ক্যাডার থেকে আগত উপসচিব এবং নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বদলি/পদায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ইদানীং ল¶্য করা যাচ্ছে যে, কিছু কর্মকর্তা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বদলির জন্য উপদেষ্টা-সিনিয়র সচিব-সচিব-অন্যান্য পর্যায় থেকে আধা-সরকারি পত্র-মৌখিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করছেন যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২০ এর পর্যায়ভুক্ত অপরাধ। কয়েকজন উপদেষ্টা তাদের আওতাধীন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের আগে সম্মতি নেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। অস্বাভাবিক বদলিকে কেন্দ্র করে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একটি চক্র অর্থ লেনদেন করেছে। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার করা এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে এখনো খুনির দোসররা ঘাপটি মেরে আছে। সচিবালয় হোক বা যে কোনো জায়গা থেকে ষড়যন্ত্র করলে আমরা তাদের উৎখাত করে ছাড়ব। গোপালগঞ্জে এখনো কীভাবে আমাদের ভাইদের ওপর হামলা হয়? যদি আমাদের নিরাপত্তা না দিতে পারেন, তাহলে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে আপনাদের আর বসিয়ে রাখব না।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সচিবালয়ের ভিতরে দালালগুলো ঘাপটি মেরে আছে। পুলিশ প্রশাসনে অসংখ্য দালাল ঘাপটি মেরে আছে। হাসিনা সরকারের পতনের পাঁচ মাস পার হয়েছে। কিন্তু এখনো জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র আমরা দেখতে পাইনি। এই বিপ্লবের স্বীকৃতি আমরা চাই। জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র দ্রুততম সময়ে আমরা দেখতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সাড়ে চার মাসে একের পর এক বিষয় নিয়ে প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা লেগেই আছে। পদোন্নতি, পদায়নসহ নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের। নিয়মিত (রুটিন) কাজ ছাড়া নীতিনির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোতে পারছে না প্রশাসন।

 

 

Tag :
জনপ্রিয়

ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ফেরেনি শৃঙ্খলা

জনপ্রশাসনে ওএসডি -অবসর আতঙ্ক

প্রকাশ : ০১:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও শৃঙ্খলা ফেরেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। নিয়মিত কাজের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে বদলি-পদায়ন চলছে এখনো। বন্ধ আছে প্রশাসনে পদোন্নতি, পদায়ন ও বদলি। পদায়ন করা হচ্ছে না বঞ্চিত কর্মকর্তাদেরও। তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া চলমান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সচিব থেকে উপ-সচিব পর্যন্ত প্রশাসনে রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিভিন্ন পদে এখনো ফ্যাসিবাদী আমলারা।
অপরদিকে প্রশাসনে আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তারা ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসর আতঙ্কে। বিএনপিপন্থি কর্মকর্তারা গত ১৭ বছর পদোন্নতি না পেয়েও বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। আবার জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের কোণঠাসায় পড়তে হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনে পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মিলে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে নারাজ। অন্যদিকে সাবেক সচিব জাকির খানের কমিটির যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতির সুপারিশ করেছেন সেখানে অনেক দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসরখ্যাত কর্মকর্তাদের সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বরং বঞ্চিত মেধাবী ও দ¶ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দিয়ে আবারো বঞ্চিত করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার ১৭ বছরের শাসনামলে মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বস্তরেই চালু করেছিল আওয়ামীকরণ। কোনো প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সচিব পদ পর্যন্ত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ডিএনএ টেস্ট করে নিয়োগ দেওয়া হতো আওয়ামীপন্থিদের। বর্তমান সরকারে আমলেও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং জামায়াতপন্থিদের একই কায়দায় ডিএনএ টেস্ট করে উপসচিব থেকে সচিব পদে পদোন্নতি ও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনেক সময় প্রজ্ঞাপন, অফিস আদেশ জারি করেও তা টেকাতে পারছে না সরকার। বিগত সরকারের সময়ে বঞ্চিত হয়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের ¶তি পুষিয়ে দিতে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বর্তমান সরকার। ১০ ডিসেম্বর কমিটি ৭৬৪ জনকে বিভিন্ন স্তরে ভূতাপে¶ পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৭৬৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে সচিব পদে ১১৯ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জন, গ্রেড-১ পদে ৪১ জন, যুগ্মসচিব পদে ৭২ জন এবং উপসচিব পদে চারজনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সারসং¶েপ সুপারিশসহ অনুমোদন দিলেও তার বাস্তবায়ন করছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যাদের পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করা হয়েছে, তারা জনপ্রশাসনের বারান্দায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তারপরও আদেশ পাচ্ছেন না। অথচ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আদেশ জারি করা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সূরাতুজ্জামান বলেন, অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সারসং¶েপ সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করা হয়েছে, তারা পাচ্ছে না। পাচ্ছে অন্যপন্থিরা। তারা জনপ্রশাসনের বারান্দায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বার ঘুরেছেন। তারপর আদেশ পাচ্ছেন না। এরকম চলতে থাকলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ¶োভ বাড়তেই থাকবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা বলে আসছেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকর্তাদের বিচার করা হবে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি এ সরকার। পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৫ বছর বঞ্চিত কর্মকর্তারা রাস্তায় রাস্তায় এখনো ঘুরছেন। ফ্যাসিবাদের দোসররা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। আবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখনো ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তাদের দখলে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ও ২৫ ক্যাডার কর্মকর্তারা নিজেদের পদ-পদবি, মান-মর্যাদাসহ বিভিন্ন চাওয়া-পাওয়া নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীদের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, বঞ্চিত কর্মকর্তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, দরকারি ¶েত্রে বঞ্চিতদের উপে¶া, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, কর্মরত কর্মকর্তাদের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা, চেয়ার হারানোর ভয়ে তটস্থ থাকাসহ নানা কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ, দুর্নীতি, ¶মতার অপব্যবহার এবং স্বৈরাচারের ¶মতা প্রলম্বিত করতে যারা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের বিচার হবেই। তবে নিরীহ কারও কিছু হবে না। তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইতোমধ্যে বিগত সময়ের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করাসহ নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকা কর্মকর্তাদের অনেকেই ফেঁসে গেছেন। এছাড়া বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ মিশন ও পদে পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তারাও আছেন দুশ্চিন্তায়। তারা ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসরের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রশাসনে নতুন করে আতঙ্ক শুরু হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের কর্মসূচির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০ এ নং বিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে যাচ্ছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, কেউ এই বিধি লঙ্ঘন করলে তিনি অসদাচরণের দায়ে ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। বিভিন্ন পদমর্যাদার কিছু সরকারি কর্মচারীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, মানববন্ধন, কলম বিরতিসহ বিবিধ কর্মসূচি পালনের কারণে সরকারি কর্মচারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে উল্লেখ করে কর্মচারীদের শৃঙ্খলাবহির্ভূত আচরণের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বঞ্চিতদের দাবি, পতিত হাসিনার দোসররা এখনো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে বসে পরিকল্পিতভাবে আমাদের অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করে দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে, অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা চুপচাপ শুধু দেখেই যাচ্ছেন। দেশের পরিস্থিতি এভাবে চলতে পারে না। আমরা অবিলম্বে সচিবালয়, পুলিশ প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোকে হাসিনার দোসরমুক্ত দেখতে চাই বলে দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনিভাবে সরকারের স¶মতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিতর্কিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ২২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুজন সচিব, ১৮ জন অতিরিক্ত সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিব রয়েছেন। তারা সবাই ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। একই দিন ওএসডি অবস্থায় থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব আবু হেনা মো. মোর্শেদ জামানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তিনি হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে প্রশাসনের সর্বত্র ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেনÑ এমন অভিযোগ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, এ বিষয়ে সতর্ক পদ¶েপ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ জন সচিব, পাঁচ জন গ্রেড-১-সহ ২৯ জন অতিরিক্ত সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি অনুবিভাগ) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন করা আমাদের রুটিন কাজ। যেহেতু এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেকগুলো ধাপ পার হয়ে চূড়ান্ত করা হয়, তাই সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাসের মধ্যে বর্তমান সরকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সব বাস্তবায়ন হতে একটু সময় লাগবে।
প্রশাসনের কোটা কমানোর সুপারিশ বাস্তবায়ন না করার অনুরোধ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উপসচিব পদে পদোন্নতিতে প্রশাসনিক সার্ভিসের (প্রশাসন ক্যাডার) কোটা কমিয়ে ৫০ শতাংশ করতে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তা বাস্তবায়ন না করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। প্রশাসন ক্যাডারের সংগঠনটি বলেছে, এটি উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একটি দ¶, জনমুখী, নিরপে¶ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন গড়তে সরকারের এ উদ্যোগকে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন গোষ্ঠী বৃহত্তর কল্যাণ চিন্তার পরিবর্তে নিজ নিজ স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন সার্ভিসের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্যরে পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। গত সোমবার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং মহাসচিব ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এক বিবৃতিতে এ অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে প্রশাসনে কর্মকর্তাদের পছন্দ অনুযায়ী বদলির জন্য উপদেষ্টা-সিনিয়র সচিব-সচিব এবং অন্যান্য পর্যায় থেকে আধা-সরকারি পত্র-মৌখিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করছেন যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ এর ২০ এর পর্যায়ভুক্ত অপরাধ বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ। এতে বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থায় কর্মরত প্রশাসন ক্যাডার ও অন্যান্য ক্যাডার থেকে আগত উপসচিব এবং নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বদলি/পদায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ইদানীং ল¶্য করা যাচ্ছে যে, কিছু কর্মকর্তা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বদলির জন্য উপদেষ্টা-সিনিয়র সচিব-সচিব-অন্যান্য পর্যায় থেকে আধা-সরকারি পত্র-মৌখিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করছেন যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২০ এর পর্যায়ভুক্ত অপরাধ। কয়েকজন উপদেষ্টা তাদের আওতাধীন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের আগে সম্মতি নেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। অস্বাভাবিক বদলিকে কেন্দ্র করে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একটি চক্র অর্থ লেনদেন করেছে। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার করা এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে এখনো খুনির দোসররা ঘাপটি মেরে আছে। সচিবালয় হোক বা যে কোনো জায়গা থেকে ষড়যন্ত্র করলে আমরা তাদের উৎখাত করে ছাড়ব। গোপালগঞ্জে এখনো কীভাবে আমাদের ভাইদের ওপর হামলা হয়? যদি আমাদের নিরাপত্তা না দিতে পারেন, তাহলে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে আপনাদের আর বসিয়ে রাখব না।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সচিবালয়ের ভিতরে দালালগুলো ঘাপটি মেরে আছে। পুলিশ প্রশাসনে অসংখ্য দালাল ঘাপটি মেরে আছে। হাসিনা সরকারের পতনের পাঁচ মাস পার হয়েছে। কিন্তু এখনো জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র আমরা দেখতে পাইনি। এই বিপ্লবের স্বীকৃতি আমরা চাই। জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র দ্রুততম সময়ে আমরা দেখতে চাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সাড়ে চার মাসে একের পর এক বিষয় নিয়ে প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা লেগেই আছে। পদোন্নতি, পদায়নসহ নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের। নিয়মিত (রুটিন) কাজ ছাড়া নীতিনির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোতে পারছে না প্রশাসন।