ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নারী দিবসের অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির ভূমিকায় ছিলেন নারীরা

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৯:৫০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
  • ৭৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের শ্রমিক, ছাত্র-জনতা মিলে যে অসাধ্য সাধন করেছেন তার সম্মুখ সারির ভূমিকায় ছিলেন এ দেশের নারীরা। ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রাণঘাতী অস্ত্রের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন আমাদের মেয়েরা। আজকের দিনে স্মরণ করি সেই সব শহীদ নারীদের, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শনিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ওই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সম্মুখ সারিতে থাকলেও আমাদের সমাজে এখনো অনেকক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে আছে। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকার সবসময় সচেষ্ট। এজন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ চলমান। দুস্থ মায়েদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, নারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি, কর্মজীবী নারীদের থাকার হোস্টেল, ডে-কেয়ার সেন্টার সুবিধাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ অর্ন্তর্বতী সরকার নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, আমাদের দেশের মেয়েরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শত বাধা পেরিয়ে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সার্বিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি নারীদের ওপর যে জঘন্য হামলার খবর আসছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। এটি ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তার সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা এই ‘নতুন বাংলাদেশে’ নারী-পুরুষ সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা আমাদের সব শক্তি প্রয়োগ করে এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।
ড. ইউনূস বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। অনেক সময় নারীরা নির্যাতনের শিকার হলেও তারা বুঝতে পারেন না কোথায় অভিযোগ জানাবেন। নারীরা যাতে তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে। আইন সহায়তা প্রদানের জন্য আমরা পারিবারিক সহিংসতা আইন-২০১০ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছি। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কাজেও আমরা হাত দিয়েছি। আমরা একটি নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন করেছি। তারা তাদের সুপারিশগুলো শিগগিরই দেবেন।’
তিনি আরো বলেন, কয়েক দিন আগে তারুণ্যের শক্তিকে উজ্জীবিত করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশজুড়ে আয়োজিত ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’-এ রেকর্ডসংখ্যক নারীরা ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, বাস্কেটবলসহ নানা খেলায় অংশ নিয়েছে। এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২৭ লাখ ৪০ হাজার মেয়ে প্রায় তিন হাজার খেলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ দর্শকসারিতে বসে তাদের উৎসাহ জুগিয়েছেন। হাজার হাজার দর্শকের এমন উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের সমাজে নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠায় পুরুষদেরও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীদের সম্মাননা প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ বছর ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৫’-এর বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। পাশাপাশি, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে শরীফা সুলতানা, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে হালিমা বেগম, সফল জননী মেরিনা বেসরা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী লিপি বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অবদানের জন্য মুহিন (মোহনা) সম্মাননা পেয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পতিত স্বৈরাচার দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। আমাদেরকে এখন ততটাই সতর্ক থাকতে হবে যেমনটা আমরা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে ছিলাম।
তিনি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলুন। একে অন্যের পাশে দাঁড়ান। একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে সরকারকে সহযোগিতা করুন।’

Tag :
জনপ্রিয়

নারী দিবসের অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির ভূমিকায় ছিলেন নারীরা

প্রকাশ : ০৯:৫০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫

অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের শ্রমিক, ছাত্র-জনতা মিলে যে অসাধ্য সাধন করেছেন তার সম্মুখ সারির ভূমিকায় ছিলেন এ দেশের নারীরা। ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রাণঘাতী অস্ত্রের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন আমাদের মেয়েরা। আজকের দিনে স্মরণ করি সেই সব শহীদ নারীদের, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শনিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ওই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সম্মুখ সারিতে থাকলেও আমাদের সমাজে এখনো অনেকক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে আছে। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকার সবসময় সচেষ্ট। এজন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ চলমান। দুস্থ মায়েদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, নারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি, কর্মজীবী নারীদের থাকার হোস্টেল, ডে-কেয়ার সেন্টার সুবিধাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ অর্ন্তর্বতী সরকার নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, আমাদের দেশের মেয়েরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শত বাধা পেরিয়ে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সার্বিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি নারীদের ওপর যে জঘন্য হামলার খবর আসছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। এটি ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তার সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা এই ‘নতুন বাংলাদেশে’ নারী-পুরুষ সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা আমাদের সব শক্তি প্রয়োগ করে এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।
ড. ইউনূস বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। অনেক সময় নারীরা নির্যাতনের শিকার হলেও তারা বুঝতে পারেন না কোথায় অভিযোগ জানাবেন। নারীরা যাতে তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে। আইন সহায়তা প্রদানের জন্য আমরা পারিবারিক সহিংসতা আইন-২০১০ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছি। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কাজেও আমরা হাত দিয়েছি। আমরা একটি নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন করেছি। তারা তাদের সুপারিশগুলো শিগগিরই দেবেন।’
তিনি আরো বলেন, কয়েক দিন আগে তারুণ্যের শক্তিকে উজ্জীবিত করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশজুড়ে আয়োজিত ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’-এ রেকর্ডসংখ্যক নারীরা ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, বাস্কেটবলসহ নানা খেলায় অংশ নিয়েছে। এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২৭ লাখ ৪০ হাজার মেয়ে প্রায় তিন হাজার খেলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ দর্শকসারিতে বসে তাদের উৎসাহ জুগিয়েছেন। হাজার হাজার দর্শকের এমন উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের সমাজে নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠায় পুরুষদেরও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীদের সম্মাননা প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ বছর ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৫’-এর বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। পাশাপাশি, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে শরীফা সুলতানা, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে হালিমা বেগম, সফল জননী মেরিনা বেসরা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী লিপি বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অবদানের জন্য মুহিন (মোহনা) সম্মাননা পেয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পতিত স্বৈরাচার দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। আমাদেরকে এখন ততটাই সতর্ক থাকতে হবে যেমনটা আমরা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে ছিলাম।
তিনি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলুন। একে অন্যের পাশে দাঁড়ান। একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে সরকারকে সহযোগিতা করুন।’