ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রবল যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

অবরোধে স্থবির ঢাকা, দুর্ভোগে কর্মব্যস্ত মানুষ

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৪৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • ৮৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নানা দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন সংগঠন বা রাজনৈতিক দল আন্দোলন-বিক্ষোভ করছে। সড়কে তীব্র যানজটের ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী। এতে মানুষের দুর্ভোগের সীমা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে
রাজধানীর শাহবাগ, সাইন্সল্যাব, কাকরাইল ও মৎস্য ভবন মোড়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বৃহস্পতিবার রাস্তা বন্ধ করে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। দুর্ভোগে পড়েন শত শত কর্মব্যস্ত মানুষ। অধিকাংশ যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে তাদের গন্তব্যে যান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথের দাবিতে মৎস্য ভবন মোড় বুধবার থেকে টানা অবরোধ করে রেখেছিলেন তার অনুসারীরা। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ের পর এই ইস্যু থেকে সরে দাঁড়ান বিক্ষোভকারীরা। তবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবিতে আবারও মৎস্য ভবন মোড় থেকে যমুনা অবরোধ করেন তারা। পরে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিকালে সড়ক ছাড়েন ইশরাক সমর্থকরা।
অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অবরোধ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা মূল সড়কে বসে পড়েন। অসহনীয় এই যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। এদিন বেলা পৌনে ১১টায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবরোধ করেন।
সরজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়ে ঢাকা শহর। সায়েন্সল্যাব, পান্থপথ, বাংলামোটর, কাওরানবাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণির সড়কে আটকে পড়ে শত শত যান। শাহবাগ থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত বন্ধ থাকায় পাশপাশের অলিগলিও স্থবির হয়ে পড়ে। অবরোধকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগমুখী এবং শাহবাগ থেকে পল্টন-গুলিস্তানমুখী সম্পূর্ণ সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। গণপরিবহনের চালকরা যানবাহন বন্ধ করে বসে আছেন। অধিকাংশ গাড়ি থেকে যাত্রীরা নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করছেন।
শুধু এসব সড়কই নয়, মালিবাগ, রামপুরা, মহাখালী, মগবাজার, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। এসব সড়কে গাড়ি যেন চলছেই না। সড়কের দুই পাশেই তীব্র যানজট। বিকালে যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, প্রতিদিন এমনভাবে সড়ক অবরোধের কারণে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি। কাজে এলেও দিন শেষে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ফলে গাড়ির মালিককে খরচের টাকা দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কাওরানবাজার থেকে হেঁটে আসা যাত্রী ফরহাদ বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যাচ্ছি। আমার ছোটভাই সেখানে তিনদিন ধরে ভর্তি। তার সঙ্গে আমার স্ত্রী রয়েছে। তাদের জন্য বাসা থেকে খাবার নিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘এই ছোট বাচ্চাকে নিয়ে কীভাবে এতদূর হেঁটে যাব। কাওরানবাজারে এসে বাস আর চলে না। কোনো উপায় না পেয়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে যেতে হচ্ছে। আমি আগারগাঁও থেকে বাসে উঠেছি। এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রাখলে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ক্ষতি হচ্ছে। আমার অসুস্থ ভাই এখনো খাবার খেতে পারেনি।’
বাংলামোটরে আটকাপড়া আরেক যাত্রী তানিয়া বেগম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাব। রিকশা নিয়েছিলাম উঠার পরই নেমে গেলাম। গলিতে ঢুকেই রিকশা আর সামনে যাচ্ছে না। এভাবে একটা দেশে চলা যায় না। আমরা কি ঘর থেকে বের হবো না?
যানজটে আটকে আছেন সিএনজি অটোরিকশা চালক আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে মাত্র একটা ভাড়া পেরেছি। তারপর থেকেই যানজটে আটকে আছি। সারা দিন যদি এভাবে আটকা থাকতে হয় তাহলে মালিককে গাড়ির টাকা দেবো কেমন করে? আর নিজের পরিবারের খরচ তুলবো কেমন করে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘আমরা সাম্য হত্যার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছি। বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।’
রমনা জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট নাফিস আহমেদ বলেন, ‘অবরোধের কারণে সকাল থেকে সাতটি পয়েন্ট বন্ধ। কোনো দিকে গাড়ি যাচ্ছে না। অবরোধ ছেড়ে রাস্তা থেকে সরে না দাঁড়ালে যানজট কমবে না। এ যানজট ভিতরের সড়কগুলোতেও গড়িয়েছে। বড় বড় যানবাহন অলিতে-গলিতে ঢুকে গেছে। ফলে যানজট আরও বেড়েছে।’
ট্রাফিক পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) অনীশ কীর্ত্তনীয়া বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বলেন, সড়ক অবরোধ এবং বৃষ্টির কারণে সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। কারওয়ানবাজারের যানজট মহাখালী পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।

জনপ্রিয়

প্রবল যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

অবরোধে স্থবির ঢাকা, দুর্ভোগে কর্মব্যস্ত মানুষ

প্রকাশ : ০২:৪৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

নানা দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন সংগঠন বা রাজনৈতিক দল আন্দোলন-বিক্ষোভ করছে। সড়কে তীব্র যানজটের ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী। এতে মানুষের দুর্ভোগের সীমা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে
রাজধানীর শাহবাগ, সাইন্সল্যাব, কাকরাইল ও মৎস্য ভবন মোড়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বৃহস্পতিবার রাস্তা বন্ধ করে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। দুর্ভোগে পড়েন শত শত কর্মব্যস্ত মানুষ। অধিকাংশ যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে তাদের গন্তব্যে যান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথের দাবিতে মৎস্য ভবন মোড় বুধবার থেকে টানা অবরোধ করে রেখেছিলেন তার অনুসারীরা। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ের পর এই ইস্যু থেকে সরে দাঁড়ান বিক্ষোভকারীরা। তবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবিতে আবারও মৎস্য ভবন মোড় থেকে যমুনা অবরোধ করেন তারা। পরে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিকালে সড়ক ছাড়েন ইশরাক সমর্থকরা।
অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অবরোধ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা মূল সড়কে বসে পড়েন। অসহনীয় এই যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। এদিন বেলা পৌনে ১১টায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবরোধ করেন।
সরজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়ে ঢাকা শহর। সায়েন্সল্যাব, পান্থপথ, বাংলামোটর, কাওরানবাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণির সড়কে আটকে পড়ে শত শত যান। শাহবাগ থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত বন্ধ থাকায় পাশপাশের অলিগলিও স্থবির হয়ে পড়ে। অবরোধকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগমুখী এবং শাহবাগ থেকে পল্টন-গুলিস্তানমুখী সম্পূর্ণ সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। গণপরিবহনের চালকরা যানবাহন বন্ধ করে বসে আছেন। অধিকাংশ গাড়ি থেকে যাত্রীরা নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করছেন।
শুধু এসব সড়কই নয়, মালিবাগ, রামপুরা, মহাখালী, মগবাজার, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। এসব সড়কে গাড়ি যেন চলছেই না। সড়কের দুই পাশেই তীব্র যানজট। বিকালে যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, প্রতিদিন এমনভাবে সড়ক অবরোধের কারণে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি। কাজে এলেও দিন শেষে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ফলে গাড়ির মালিককে খরচের টাকা দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কাওরানবাজার থেকে হেঁটে আসা যাত্রী ফরহাদ বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যাচ্ছি। আমার ছোটভাই সেখানে তিনদিন ধরে ভর্তি। তার সঙ্গে আমার স্ত্রী রয়েছে। তাদের জন্য বাসা থেকে খাবার নিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘এই ছোট বাচ্চাকে নিয়ে কীভাবে এতদূর হেঁটে যাব। কাওরানবাজারে এসে বাস আর চলে না। কোনো উপায় না পেয়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে যেতে হচ্ছে। আমি আগারগাঁও থেকে বাসে উঠেছি। এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রাখলে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ক্ষতি হচ্ছে। আমার অসুস্থ ভাই এখনো খাবার খেতে পারেনি।’
বাংলামোটরে আটকাপড়া আরেক যাত্রী তানিয়া বেগম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাব। রিকশা নিয়েছিলাম উঠার পরই নেমে গেলাম। গলিতে ঢুকেই রিকশা আর সামনে যাচ্ছে না। এভাবে একটা দেশে চলা যায় না। আমরা কি ঘর থেকে বের হবো না?
যানজটে আটকে আছেন সিএনজি অটোরিকশা চালক আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে মাত্র একটা ভাড়া পেরেছি। তারপর থেকেই যানজটে আটকে আছি। সারা দিন যদি এভাবে আটকা থাকতে হয় তাহলে মালিককে গাড়ির টাকা দেবো কেমন করে? আর নিজের পরিবারের খরচ তুলবো কেমন করে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘আমরা সাম্য হত্যার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছি। বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।’
রমনা জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট নাফিস আহমেদ বলেন, ‘অবরোধের কারণে সকাল থেকে সাতটি পয়েন্ট বন্ধ। কোনো দিকে গাড়ি যাচ্ছে না। অবরোধ ছেড়ে রাস্তা থেকে সরে না দাঁড়ালে যানজট কমবে না। এ যানজট ভিতরের সড়কগুলোতেও গড়িয়েছে। বড় বড় যানবাহন অলিতে-গলিতে ঢুকে গেছে। ফলে যানজট আরও বেড়েছে।’
ট্রাফিক পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) অনীশ কীর্ত্তনীয়া বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বলেন, সড়ক অবরোধ এবং বৃষ্টির কারণে সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। কারওয়ানবাজারের যানজট মহাখালী পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।