ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

বিভিন্নইস্যুতে মতভেদ থাকলেওরাজনৈতিক দলগুলোকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় কোনো ইস্যুতে বা গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন মুখ দেখা দেখি বন্ধ না হয় তিনি সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির বিজয় র‌্যালির আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েতিনি এ আহ্বান জানান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথমবর্ষ পূর্তিতে রাজধানী ঢাকায় এই ‘বিজয়র‌্যালি’করেছে বিএনপি।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কারণ, আমি বিশ্বাস করি ধর্ম-দর্শন-মত যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার।’তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি রাষ্ট্রে কী ধরনের সংস্কার ও রাজনীতিপরিচালনা করবে, দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩১ দফার মাধ্যমে একটি রূপ রেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চায়।
বিএনপিরভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘যে যেই রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হননা কেন, মনে রাখা দরকার, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা কেউই নিরাপদ ছিলামনা। আমাদের সন্তানরা কেউ নিরাপদ থাকতে পারেনি। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমাদের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য সারা দেশকে বর্বর বন্দিখানা আয়নাঘর বানিয়ে ফেলা হয়েছিল।’
দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমানবলেন, ‘দেশে যদি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন না থাকে, তাহলে নারী কিংবা পুরুষ, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু আমরা কেউই নিরাপদ নই। একমাত্র গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক-রাজনৈতিক অধিকারের সুষ্ঠু প্রয়োগ ও চর্চা করতে হবে।’
জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি আগামী ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানতারেকরহমান।
তিনি বলেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকার গতকাল জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছে। জনগণের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের এসব উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। মানুষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারপ্রতিষ্ঠার যাত্রায় বর্তমানে আমরা ইতিহাসের যে সন্ধিক্ষণ পার করছি, তাতে পৌঁছাতে জনগণকে দেড় দশকের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ‘ফ্যাসিবাদের’ দীর্ঘ সময়ে এ আন্দোলনে আমরা আমাদের হাজারো সহকর্মীকে হারিয়েছি,আমাদের অনেক সন্তান-স্বজনের বুকের তাজা রক্ত দেখতে হয়েছে।”
তারেক রহমান বলেন, “আমি দেশবাসীর উদ্দেশেঅ াহ্বানজানিয়েবলতেচাই, যিনি যে রাজনৈতিক দলেরসদস্যইহননা কেন, আমাদেরঅবশ্যইসবারকথামনেরাখা দরকার। দেশে যদি গণতন্ত্র এবংআইনেরশাসননা থাকে, তাহলেআমরা কেউই নিরাপদ নই। একমাত্রগণতন্ত্র এবংআইনেরশাসনইআমাদেরনিরাপত্তাদিতেপারে। ”
বিএনপির প¶ থেকে জানানোহয়, নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয়কার্যালয়েরসামনেবিকালসাড়ে ৩টায় শুরুহয় এ সং¶িপ্তসমাবেশ। সেখানেতারেকরহমানের বক্তব্যের পর বিকালসাড়ে ৪টায় শুরুহয়বিজয় শোভাযাত্রা।
জুলাইঅভ্যুত্থানেরবর্ষপূর্তি উপল¶ে এ শোভাযাত্রাআয়োজনকরাহয়। এতে আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। ফলেফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড়পর্যন্তসড়কটি লোকজনেভরে ওঠে। ‘বিজয়মিছিলটি’পল্টনেমোড় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব, কদম ফোয়ারা, মৎস্যভবন মোড় ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসড়কহয়েশাহবাগেগিয়ে শেষ হয়। এদিনঢাকাছাড়াও সব বিভাগীয়শহরেএকযোগেবিজয় শোভাযাত্রাকরেবিএনপি।
দলের জ্যেষ্ঠযুগ্ম মহাসচিবরুহুলকবিররিজভীরসভাপতিত্বে ও প্রচারসম্পাদকসুলতানসালাউদ্দিনটুকুরসঞ্চালনায়সমাবেশেআরও বক্তব্য দেন বিএনপিরমহাসচিবমির্জাফখরুলইসলামআলমগীর, স্থায়ীকমিটিরসদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জাআব্বাস ও সালাহউদ্দিনআহমদ, ঢাকামহানগরউত্তরবিএনপিরআহ্বায়কআমিনুলহক ও ঢাকামহানগর দ¶িণবিএনপিরআহ্বায়করফিকুলআলম।
সমাবেশেবিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহআমান, আবদুসসালাম, শাহজাদামিয়া, লুৎফুজ্জামান বাবর, খায়রুলকবির খোকন ও হাবিবউননবীখান সোহেলউপস্থিতিছিলেন।

জনপ্রিয়

দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

প্রকাশ : ০৩:০৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

বিভিন্নইস্যুতে মতভেদ থাকলেওরাজনৈতিক দলগুলোকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় কোনো ইস্যুতে বা গণতন্ত্রের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন মুখ দেখা দেখি বন্ধ না হয় তিনি সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির বিজয় র‌্যালির আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েতিনি এ আহ্বান জানান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথমবর্ষ পূর্তিতে রাজধানী ঢাকায় এই ‘বিজয়র‌্যালি’করেছে বিএনপি।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে সকলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কারণ, আমি বিশ্বাস করি ধর্ম-দর্শন-মত যার যার, রাষ্ট্র আমাদের সবার।’তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি রাষ্ট্রে কী ধরনের সংস্কার ও রাজনীতিপরিচালনা করবে, দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩১ দফার মাধ্যমে একটি রূপ রেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চায়।
বিএনপিরভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘যে যেই রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হননা কেন, মনে রাখা দরকার, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা কেউই নিরাপদ ছিলামনা। আমাদের সন্তানরা কেউ নিরাপদ থাকতে পারেনি। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমাদের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য সারা দেশকে বর্বর বন্দিখানা আয়নাঘর বানিয়ে ফেলা হয়েছিল।’
দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমানবলেন, ‘দেশে যদি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন না থাকে, তাহলে নারী কিংবা পুরুষ, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু আমরা কেউই নিরাপদ নই। একমাত্র গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক-রাজনৈতিক অধিকারের সুষ্ঠু প্রয়োগ ও চর্চা করতে হবে।’
জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি আগামী ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানতারেকরহমান।
তিনি বলেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকার গতকাল জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছে। জনগণের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের এসব উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। মানুষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারপ্রতিষ্ঠার যাত্রায় বর্তমানে আমরা ইতিহাসের যে সন্ধিক্ষণ পার করছি, তাতে পৌঁছাতে জনগণকে দেড় দশকের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ‘ফ্যাসিবাদের’ দীর্ঘ সময়ে এ আন্দোলনে আমরা আমাদের হাজারো সহকর্মীকে হারিয়েছি,আমাদের অনেক সন্তান-স্বজনের বুকের তাজা রক্ত দেখতে হয়েছে।”
তারেক রহমান বলেন, “আমি দেশবাসীর উদ্দেশেঅ াহ্বানজানিয়েবলতেচাই, যিনি যে রাজনৈতিক দলেরসদস্যইহননা কেন, আমাদেরঅবশ্যইসবারকথামনেরাখা দরকার। দেশে যদি গণতন্ত্র এবংআইনেরশাসননা থাকে, তাহলেআমরা কেউই নিরাপদ নই। একমাত্রগণতন্ত্র এবংআইনেরশাসনইআমাদেরনিরাপত্তাদিতেপারে। ”
বিএনপির প¶ থেকে জানানোহয়, নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয়কার্যালয়েরসামনেবিকালসাড়ে ৩টায় শুরুহয় এ সং¶িপ্তসমাবেশ। সেখানেতারেকরহমানের বক্তব্যের পর বিকালসাড়ে ৪টায় শুরুহয়বিজয় শোভাযাত্রা।
জুলাইঅভ্যুত্থানেরবর্ষপূর্তি উপল¶ে এ শোভাযাত্রাআয়োজনকরাহয়। এতে আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। ফলেফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড়পর্যন্তসড়কটি লোকজনেভরে ওঠে। ‘বিজয়মিছিলটি’পল্টনেমোড় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব, কদম ফোয়ারা, মৎস্যভবন মোড় ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসড়কহয়েশাহবাগেগিয়ে শেষ হয়। এদিনঢাকাছাড়াও সব বিভাগীয়শহরেএকযোগেবিজয় শোভাযাত্রাকরেবিএনপি।
দলের জ্যেষ্ঠযুগ্ম মহাসচিবরুহুলকবিররিজভীরসভাপতিত্বে ও প্রচারসম্পাদকসুলতানসালাউদ্দিনটুকুরসঞ্চালনায়সমাবেশেআরও বক্তব্য দেন বিএনপিরমহাসচিবমির্জাফখরুলইসলামআলমগীর, স্থায়ীকমিটিরসদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জাআব্বাস ও সালাহউদ্দিনআহমদ, ঢাকামহানগরউত্তরবিএনপিরআহ্বায়কআমিনুলহক ও ঢাকামহানগর দ¶িণবিএনপিরআহ্বায়করফিকুলআলম।
সমাবেশেবিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহআমান, আবদুসসালাম, শাহজাদামিয়া, লুৎফুজ্জামান বাবর, খায়রুলকবির খোকন ও হাবিবউননবীখান সোহেলউপস্থিতিছিলেন।