ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন

পোস্টার-ইভিএম বাদ, থাকছে না দলীয় প্রতীকও

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে একগুচ্ছ বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনেও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে পোস্টার। বাদ পড়ছে ইভিএম ও পোস্টাল ভোট। থাকছে না দলীয় প্রতীকও। এছাড়া আরও বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে ইসি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বাতিল, প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া এবং ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হতে না দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বছরের শেষ দিকে ভোট চায় ইসি : গত ১৯ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা সরকারের।

তবে নির্বাচন কমিশন সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে ভোট আয়োজনের পক্ষে মত দিচ্ছে। কমিশনের মতে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষার প্রভাব থাকায় ওই সময়ে নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “সেপ্টেম্বরে দেশের অনেক এলাকাতেই নির্বাচন করা কঠিন হবে। তাই নভেম্বরের আগে নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। বছরের শেষ দিকেই ভোট শুরু হতে পারে।”

তিনি জানান, কোন নির্বাচন আগে হবে—তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজন।

এর আগে ২১ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন, ৫০০ উপজেলা, ৬১ জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সংঘাতমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। অতীতের মতো রক্তপাত বা সহিংসতা দেখতে চায় না কমিশন।

যেসব পরিবর্তন আনছে ইসি : গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন প্রচারণা চালু করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ইসি জানিয়েছে, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়ভাবে। অর্থাৎ দলীয় প্রতীক থাকবে না, সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকছে না।

নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় আরও যেসব পরিকল্পনা —

ইভিএম ব্যবহার না করা

পোস্টাল ভোট বাতিল

অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ

ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হতে না দেওয়া

প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয় বাড়ানো

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করা

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকবে না। ইভিএম ও পোস্টাল ভোটও থাকছে না।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয় বাড়ানো হবে। তবে কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”

এমপিদের প্রভাব ঠেকাতেও ভাবছে কমিশন : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তার ঠেকানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ইসি। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে এমপিদের বসা বন্ধ করা হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে রহমানেল মাছউদ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। কারণ এটি বন্ধ করলে ৩০০ সংসদ সদস্য বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারেন।”

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারি সুবিধাভোগীরা কোনও প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন না। সংসদ সদস্যরাও এর আওতায় পড়েন। তবে ভোট দেওয়ার জন্য এলাকায় যাওয়া থেকে তাদের বিরত রাখা যাবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী নয় :

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপাতত সেই পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইসি।

রহমানেল মাছউদ বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে হবে। তাই প্রতিটি ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকবে। কোথাও সহিংসতা দেখা দিলে তখন পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী জুনের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালার কাজ শেষ হবে।

ইতিবাচক দেখছেন বিশেষজ্ঞরা : নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা ইসির সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলেন, “বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হয়ে আসছিল। ২০১৫ সালে এটিকে দলীয় করা হয়। তখন থেকেই এ নিয়ে আপত্তি ছিল। এখন আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। কারণ ভোট গোপন বিষয় হলেও মনোনয়নপত্রে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে সেই গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতো।

পোস্টার নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে যেহেতু পোস্টার ছিল না, তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি বজায় রাখা উচিত।”

সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে হওয়ায় পরিকল্পনা ভালো থাকলে সেনাবাহিনী ছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব।

সব মিলিয়ে পোস্টারবিহীন নির্বাচন ও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বাধ্যবাধকতা বাতিলকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এই নির্বাচন বিশ্লেষক।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তন

পোস্টার-ইভিএম বাদ, থাকছে না দলীয় প্রতীকও

প্রকাশ : ০৭:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে একগুচ্ছ বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনেও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে পোস্টার। বাদ পড়ছে ইভিএম ও পোস্টাল ভোট। থাকছে না দলীয় প্রতীকও। এছাড়া আরও বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে ইসি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বাতিল, প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া এবং ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হতে না দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বছরের শেষ দিকে ভোট চায় ইসি : গত ১৯ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা সরকারের।

তবে নির্বাচন কমিশন সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে ভোট আয়োজনের পক্ষে মত দিচ্ছে। কমিশনের মতে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষার প্রভাব থাকায় ওই সময়ে নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “সেপ্টেম্বরে দেশের অনেক এলাকাতেই নির্বাচন করা কঠিন হবে। তাই নভেম্বরের আগে নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। বছরের শেষ দিকেই ভোট শুরু হতে পারে।”

তিনি জানান, কোন নির্বাচন আগে হবে—তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজন।

এর আগে ২১ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন, ৫০০ উপজেলা, ৬১ জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সংঘাতমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। অতীতের মতো রক্তপাত বা সহিংসতা দেখতে চায় না কমিশন।

যেসব পরিবর্তন আনছে ইসি : গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন প্রচারণা চালু করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ইসি জানিয়েছে, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়ভাবে। অর্থাৎ দলীয় প্রতীক থাকবে না, সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকছে না।

নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় আরও যেসব পরিকল্পনা —

ইভিএম ব্যবহার না করা

পোস্টাল ভোট বাতিল

অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ

ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হতে না দেওয়া

প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয় বাড়ানো

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করা

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকবে না। ইভিএম ও পোস্টাল ভোটও থাকছে না।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয় বাড়ানো হবে। তবে কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”

এমপিদের প্রভাব ঠেকাতেও ভাবছে কমিশন : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তার ঠেকানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ইসি। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে এমপিদের বসা বন্ধ করা হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।

এ বিষয়ে রহমানেল মাছউদ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। কারণ এটি বন্ধ করলে ৩০০ সংসদ সদস্য বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারেন।”

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সরকারি সুবিধাভোগীরা কোনও প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন না। সংসদ সদস্যরাও এর আওতায় পড়েন। তবে ভোট দেওয়ার জন্য এলাকায় যাওয়া থেকে তাদের বিরত রাখা যাবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী নয় :

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপাতত সেই পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইসি।

রহমানেল মাছউদ বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে হবে। তাই প্রতিটি ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকবে। কোথাও সহিংসতা দেখা দিলে তখন পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী জুনের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালার কাজ শেষ হবে।

ইতিবাচক দেখছেন বিশেষজ্ঞরা : নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা ইসির সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলেন, “বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হয়ে আসছিল। ২০১৫ সালে এটিকে দলীয় করা হয়। তখন থেকেই এ নিয়ে আপত্তি ছিল। এখন আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। কারণ ভোট গোপন বিষয় হলেও মনোনয়নপত্রে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে সেই গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতো।

পোস্টার নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে যেহেতু পোস্টার ছিল না, তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি বজায় রাখা উচিত।”

সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে হওয়ায় পরিকল্পনা ভালো থাকলে সেনাবাহিনী ছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব।

সব মিলিয়ে পোস্টারবিহীন নির্বাচন ও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বাধ্যবাধকতা বাতিলকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এই নির্বাচন বিশ্লেষক।