ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১২৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন!

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ১২:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৫২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে এক বছরে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এটি দেশের সেবা খাতে বিদ্যমান দুর্নীতির গভীরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের একটি উদ্বেগজনক চিত্র।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে প্রকাশিত ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এর ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়।

জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে নাগরিকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ আদায় হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনা কাঠামো অনুসরণ করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতের দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে দেখা গেছে, পাসপোর্ট সেবা (৭৬.৬ শতাংশ) এবং বিআরটিএ (৬৩.৫ শতাংশ)-তে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা খাত।

টিআইবির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের তুলনায় পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ কিছুটা কমলেও দুর্নীতির প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার ১২৪ টাকা।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় দুর্নীতির উচ্চমাত্রা সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো ধরনের অভিযোগ করেনি। তাদের অনেকের মতে, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় অভিযোগ করে লাভ নেই। এছাড়া প্রায় অর্ধেক পরিবারই জানে না কোথায় এবং কীভাবে দুর্নীতির অভিযোগ করতে হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতির প্রধান কারণ হিসেবে বিচারহীনতা, জবাবদিহির অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা পাওয়াকে দায়ী করেছেন।

 

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, গ্রামাঞ্চলের মানুষ শহরের তুলনায় বেশি দুর্নীতির শিকার হলেও ঘুষের অঙ্ক বেশি গুনতে হয় শহুরে পরিবারগুলোকে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি বৈষম্য ও দুর্নীতির মুখোমুখি হচ্ছেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের পরও দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা পুরোপুরি কমেনি, ফলে ঘুষ ও অনিয়মের সুযোগ বহাল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নয়, কার্যকর জবাবদিহি, কঠোর শাস্তি, অভিযোগ নিষ্পত্তির স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয়

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১২৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন!

প্রকাশ : ১২:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে এক বছরে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এটি দেশের সেবা খাতে বিদ্যমান দুর্নীতির গভীরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের একটি উদ্বেগজনক চিত্র।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে প্রকাশিত ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এর ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়।

জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে নাগরিকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ আদায় হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনা কাঠামো অনুসরণ করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতের দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে দেখা গেছে, পাসপোর্ট সেবা (৭৬.৬ শতাংশ) এবং বিআরটিএ (৬৩.৫ শতাংশ)-তে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা খাত।

টিআইবির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের তুলনায় পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ কিছুটা কমলেও দুর্নীতির প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার ১২৪ টাকা।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় দুর্নীতির উচ্চমাত্রা সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো ধরনের অভিযোগ করেনি। তাদের অনেকের মতে, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় অভিযোগ করে লাভ নেই। এছাড়া প্রায় অর্ধেক পরিবারই জানে না কোথায় এবং কীভাবে দুর্নীতির অভিযোগ করতে হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতির প্রধান কারণ হিসেবে বিচারহীনতা, জবাবদিহির অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা পাওয়াকে দায়ী করেছেন।

 

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, গ্রামাঞ্চলের মানুষ শহরের তুলনায় বেশি দুর্নীতির শিকার হলেও ঘুষের অঙ্ক বেশি গুনতে হয় শহুরে পরিবারগুলোকে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি বৈষম্য ও দুর্নীতির মুখোমুখি হচ্ছেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের পরও দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা পুরোপুরি কমেনি, ফলে ঘুষ ও অনিয়মের সুযোগ বহাল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নয়, কার্যকর জবাবদিহি, কঠোর শাস্তি, অভিযোগ নিষ্পত্তির স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি হয়ে উঠেছে।