বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নাটকীয় এক লড়াইয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ ১১ মিনিটে তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে মিসরকে হারিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। লিওনেল মেসির গোল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড এবং যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোল আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে স্মরণীয় এক জয়।
মঙ্গলবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার ইয়াসের ইব্রাহিম। গোল হজমের পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২১তম মিনিটে পেনাল্টি পেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে আক্রমণে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগে পাল্টা আক্রমণে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে মিসর। একটি গোল অফসাইড ও ফাউলের কারণে বাতিল হলেও ৬৭তম মিনিটে আর ভুল করেনি আফ্রিকার দলটি। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মোস্তাফা জিকো গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর যেন বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে মিসরের রক্ষণভাগ। অবশেষে ৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।
এর মাত্র চার মিনিট পরই আবারও জ্বলে ওঠেন মেসি। বক্সের ভেতরে সৃষ্ট জটলা থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-২ সমতায় ফেরান তিনি। সেই গোলে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় আকাশি-সাদা শিবির।
যখন সবাই অতিরিক্ত সময়ের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আক্রমণ গড়ে এনজো ফার্নান্দেজ হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।
তবে জয়সূচক গোলটি ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। মিসরের খেলোয়াড়দের দাবি, গোলের আগে তাদের এক ডিফেন্ডারের ওপর ফাউল হয়েছিল। রেফারি সেই মুহূর্তে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলে আক্রমণ অব্যাহত রেখে গোল আদায় করে নেয় আর্জেন্টিনা। ফলে ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব বিতর্ক ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত স্মরণীয় এক কামব্যাকের গল্প লিখেছে লিওনেল মেসির দল। শেষ মুহূর্তের এই জয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। সেখানে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করলেও এই নাটকীয় জয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।
দেশ ডেস্ক 

















