ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মহাসড়কে নেই যানজট, স্বস্তিতে ঘরে ফিরছে মানুষ

দুর্ভোগ ছাড়াই ঈদযাত্রা

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫
  • ৫০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আর দুদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ পালন করতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকেই। অন্যদিকে গত সোমবার থেকে ঈদ উপলক্ষে আগাম টিকিটে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদের আনন্দের দিনটি যত কাছে আসছে স্টেশনে তত বাড়ছে যাত্রীদের সংখ্যা। তবে এখন পর্যন্ত আগের মতো চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে না। ফলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সব ট্রেনই ছেড়েছে নির্দিষ্ট সময়ে। ঈদে যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে পাঁচ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়েছে। এছাড়া রেলের আন্তনগর ট্রেনগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে ৪৪টি নতুন কোচ। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে টিকিট ছাড়া প্লাটফর্মে প্রবেশ এবং ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের পাশাপাশি জয়দেবপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার বলেন, সময় মেনে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাওয়ায় স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রী জড়ো হচ্ছে না। আর বাড়তি ভিড়ও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। প্রতিদিন ৫০ হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে এই কমলাপুর ছেড়ে যাচ্ছেন। বুধবার বিকেল থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার সরকারি ছুটির প্রথম দিনে গার্মেন্ট কারখানা ছুটির পরে পূর্ণোদ্দমে যাত্রীর আগমন শুরু হবে। বেনাপোলগামী রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছে। এছাড়া এখনো পর্যন্ত ছেড়ে যাওয়া আর কোনো ট্রেনই শিডিউল মিস করেনি।

অন্যদিকে, গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে যাত্রীর চাপ বাড়লেও সেখানে তেমন দৃশ্যমান ভিড় নেই। বাস কাউন্টারে কর্মীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন, কেউ কেউ যাত্রীদের ডাকছেন। বাস সময়মতো ছাড়ায় যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করছেন এবং অনলাইনে টিকিট পেয়ে তাদের ভোগান্তি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের দুটি মহাসড়ক ঘুরে নির্বিঘ্নে মানুষকে ঈদযাত্রা উপভোগ করতে দেখা গেছে। উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের ৩১টি জেলার মানুষের রাজধানী ও গাজীপুরে প্রবেশের দ্বার হলো ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল। ফলে এই মহাসড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে এ সময়ে যানজটে আটকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। তবে এবারের ঈদযাত্রার চিত্র পুরো ব্যতিক্রম। মোড়ে মোড়ে নেই অতিরিক্ত বাসের চাপ, নেই চিরচেনা যানজট, নেই পরিবহন সংকট।

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঈদ যাত্রার ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়তে দেখা যায়। চন্দ্রাকেন্দ্রী কিছুটা যানবাহনের জটলা থাকলেও মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রীর জন্য বাসগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। তবে বরাবরের মতো এবারও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।

অপরদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জৈনাবাজার পর্যন্ত গাজীপুর অংশের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়কেও কোথাও কোনো যানজট বা যাত্রী দুর্ভোগের খবর পাওয়া যায়নি। চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কের এই অংশের কয়েকটি মোড়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে অতিরিক্ত যাত্রী চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত যানজটের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে গতকাল সকাল থেকে সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা টোলপ্লাজার ২১ কিলোমিটার সড়ক পর্যন্ত কোথাও কোনো যানজটের ভোগান্তি হয়নি বলে জানা গেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লাসহ আঞ্চলিক বাসগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা শেষে স্থান ত্যাগ করছে। এতে করে সড়কে যানবাহনগুলোর জটলা সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে যাত্রী এবং গাড়ি চালকরাও স্বস্তিতে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটতে পারছেন। এদিকে মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে হাইওয়ে ও থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এরিয়ার কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতায় র‌্যাব সদস্যদের মহাসড়কে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

র‌্যাব-৪ এর সিও কর্নেল মো. মাহবুব আলম বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথম স্তরে ২৪টি টহল কার্যক্রম চালানো হবে। দ্বিতীয় স্তরে ছিনতাইকারী ও মলম পার্টির হাত থেকে রক্ষা করতে সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্যরা কাজ করছেন। তৃতীয় স্তরে মোবাইল স্ট্রাইকিং কোর্ট রয়েছে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

Tag :
জনপ্রিয়

মহাসড়কে নেই যানজট, স্বস্তিতে ঘরে ফিরছে মানুষ

দুর্ভোগ ছাড়াই ঈদযাত্রা

প্রকাশ : ০২:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫

আর দুদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ পালন করতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকেই। অন্যদিকে গত সোমবার থেকে ঈদ উপলক্ষে আগাম টিকিটে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদের আনন্দের দিনটি যত কাছে আসছে স্টেশনে তত বাড়ছে যাত্রীদের সংখ্যা। তবে এখন পর্যন্ত আগের মতো চিরচেনা উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে না। ফলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সব ট্রেনই ছেড়েছে নির্দিষ্ট সময়ে। ঈদে যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে পাঁচ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়েছে। এছাড়া রেলের আন্তনগর ট্রেনগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে ৪৪টি নতুন কোচ। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে টিকিট ছাড়া প্লাটফর্মে প্রবেশ এবং ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের পাশাপাশি জয়দেবপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার বলেন, সময় মেনে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাওয়ায় স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রী জড়ো হচ্ছে না। আর বাড়তি ভিড়ও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। প্রতিদিন ৫০ হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে এই কমলাপুর ছেড়ে যাচ্ছেন। বুধবার বিকেল থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার সরকারি ছুটির প্রথম দিনে গার্মেন্ট কারখানা ছুটির পরে পূর্ণোদ্দমে যাত্রীর আগমন শুরু হবে। বেনাপোলগামী রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্ব করেছে। এছাড়া এখনো পর্যন্ত ছেড়ে যাওয়া আর কোনো ট্রেনই শিডিউল মিস করেনি।

অন্যদিকে, গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে যাত্রীর চাপ বাড়লেও সেখানে তেমন দৃশ্যমান ভিড় নেই। বাস কাউন্টারে কর্মীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন, কেউ কেউ যাত্রীদের ডাকছেন। বাস সময়মতো ছাড়ায় যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করছেন এবং অনলাইনে টিকিট পেয়ে তাদের ভোগান্তি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের দুটি মহাসড়ক ঘুরে নির্বিঘ্নে মানুষকে ঈদযাত্রা উপভোগ করতে দেখা গেছে। উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের ৩১টি জেলার মানুষের রাজধানী ও গাজীপুরে প্রবেশের দ্বার হলো ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল। ফলে এই মহাসড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে এ সময়ে যানজটে আটকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। তবে এবারের ঈদযাত্রার চিত্র পুরো ব্যতিক্রম। মোড়ে মোড়ে নেই অতিরিক্ত বাসের চাপ, নেই চিরচেনা যানজট, নেই পরিবহন সংকট।

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঈদ যাত্রার ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়তে দেখা যায়। চন্দ্রাকেন্দ্রী কিছুটা যানবাহনের জটলা থাকলেও মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রীর জন্য বাসগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। তবে বরাবরের মতো এবারও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।

অপরদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জৈনাবাজার পর্যন্ত গাজীপুর অংশের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়কেও কোথাও কোনো যানজট বা যাত্রী দুর্ভোগের খবর পাওয়া যায়নি। চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কের এই অংশের কয়েকটি মোড়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে অতিরিক্ত যাত্রী চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত যানজটের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে গতকাল সকাল থেকে সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা টোলপ্লাজার ২১ কিলোমিটার সড়ক পর্যন্ত কোথাও কোনো যানজটের ভোগান্তি হয়নি বলে জানা গেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লাসহ আঞ্চলিক বাসগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা শেষে স্থান ত্যাগ করছে। এতে করে সড়কে যানবাহনগুলোর জটলা সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে যাত্রী এবং গাড়ি চালকরাও স্বস্তিতে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটতে পারছেন। এদিকে মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে হাইওয়ে ও থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এরিয়ার কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতায় র‌্যাব সদস্যদের মহাসড়কে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

র‌্যাব-৪ এর সিও কর্নেল মো. মাহবুব আলম বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথম স্তরে ২৪টি টহল কার্যক্রম চালানো হবে। দ্বিতীয় স্তরে ছিনতাইকারী ও মলম পার্টির হাত থেকে রক্ষা করতে সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্যরা কাজ করছেন। তৃতীয় স্তরে মোবাইল স্ট্রাইকিং কোর্ট রয়েছে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।