সরকারিভাবে সুলভমূল্যের মাংসের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব মাংস থেকে বের হচ্ছে কালো রক্ত। আবার ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। প্রতিটি এক কেজির প্যাকেট শুরুতে বায়ুরোধী ও সিল করে সরবরাহ করা হলেও এখন এগুলো রাবার দিয়ে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সহযোগিতায় পবিত্র রমজান মাসে মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি সরবরাহে কাজ করছে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু মাংসের গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেখা গেছে, মাংস বিক্রির জন্য ফ্রিজিং ভ্যানগুলো তাদের কুলিংয় সিস্টেম চালু রাখছে না। ফলে দীর্ঘ সময়ে এসব মাংস থেকে পানি ছেড়ে দিচ্ছে। বের হচ্ছে কালো রক্ত। আবার গন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ১ কেজির প্যাকেট শুরুতে বায়ুরোধী ও সিল করে সরবরাহ করা হলেও এখন এগুলো রাবার দিয়ে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ডেইরি এন্ড ফ্যাটেনিং ফারমার্স এসোসিয়েশনের (বিডিএফএফএ) সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, রমজানে সুলভমূল্যে মাংসসহ কিছু পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হলেও আমরা শুধু গরুর মাংস সরবরাহের কাজ করছি। আমরা আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভাগীয় পর্যায়ে সুলভমূল্যে গরুর মাংস সরবরাহের কাজ করছি। তবে সরকারিভাবে সকল সুযোগ সুবিধা আমরা ভোগ করছি। কিন্তু তারপরেও বেশ কিছু সমস্যা থেকে যাচ্ছে। যেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ডেইরি এন্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স এসোসিয়েশনের (বিডিএফএফএ) সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা সরকারি সহায়তায় নিয়ে প্রতিদিন আমাদের কাছে যে পরিমাণ চাহিদা আসে সেই অনুযায়ীই গরুর মাংস সরবরাহ করি। তবে মাংস থেকে পানি, কালো রক্ত ও দুর্গন্ধ বের হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের আগে থেকে মাংস প্রসেসিং করে রাখার সুযোগ কম। যে পরিমাণ চাহিদাপত্র আসে সেই অনুযায়ীই পণ্য সরবরাহ করে থাকি। আমরা আমাদের পণ্য প্রসেসিং করে চিলিং স্টেশনে রেখে দেওয়া হয়। তারপর সকালে বিতরণের জন্য সররবাহ করা হয়ে থাকে। ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নয়। এই কাজটি করে থাকেন ইভেন ম্যানেজমেন্ট। আমাদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ এবং ভোক্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেকটা সময় ব্যয় হচ্ছে। হয়তো তাদের পণ্য পরিবহনে কোনো সমস্যা থেকেই এমনটা হচ্ছে। হয়তো তারা মাংস সঠিক তাপমাত্রায় রাখতে পারছে না।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে ফোন ও ম্যাসেস দিলেও তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এই সংস্থার পরিচালক প্রশাসন ডা. মো. বয়জার রহমান বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা প্রান্তিক আয়ের মাষের জন্য সুলভমূল্যে ডিম, দুধ ও মাংস বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এবছরও পণ্য মূল্য স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যে ঢাকা শহরে ড্রেসড ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ ও গরুর মাংস এবং সারাদেশে ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ, গরুর মাংস সুলভ মূল্যে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এ কার্যক্রমে বিশেষ করে ঢাকা শহরে গরুর মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। হতে পারে কুলিং ভ্যানগুলো তাদের দরজা খুলে পণ্য বিক্রি করার কারণে গরুর মাংসের পানি ছেড়েও দেওয়াসহ মাংস থেকে গন্ধ রেব হতে পারে। তবে তিনি আরো বলেন, গন্ধ বের হলেই যে মাংস খারাপ সেটা নয়। বিশ্বের অনেক দেশের মাংসের প্যাকেট খুললেই গন্ধ বের হয়। তিনি আরো বলেন, আমরা ভাবছি মাংস বিক্রির জন্য আমরা একটি আইস বক্স ও সরবরাহ করবো। চলতি বছর এটি সরবরাহ করা সম্ভব না হলেও আগামী বছর এটি নিশ্চিত করা হবে।
বিডিএফএফএ সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, এসব কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের প্রায় ২৫০ কেচি মাংস নষ্ট হয়েছে। ফেরত দেওয়া হয়েছে আরো ৩৫ কেজি মাংস।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চলমান সুলভমূল্যে পণ্য বিক্রির ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করছে ব্রাহমা কান্ডে আটক সাদেক এ্যাগ্রোর ইমরান হোসেনের ঘনিষ্ঠ জন। আর এবছর তারা মাংস সরবরাহের কাজটিও করছে না একারণে হয়তো নতুন আসা বিডিএফএফের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কুলিংসিস্টেম ব্যবহার করছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত সরকারি খামার থেকে ৪৯৬টি গরু সরবরাহ করেছে বিডিএফএফের কাছে। যার ওজন ৯০ কেজি থেকে শুরু করে ৭০০ কেজির। যার মধ্যে অধিকাংশই গাভী। সাধারণত এসব গাভী থেকে ৪০-৪৫ শতাংশ মাংস পেয়েছি আমরা।
ডা. মো. বয়জার রহমান আরো বলেন, ২৮ রমজান পর্যন্ত ঢাকা শহরে ড্রেসড ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ ও গরুর মাংস এবং সারাদেশে ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ, গরুর মাংস মাংস সুলভ মূল্যে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এ কার্যক্রমে বর্তমান সময়ের ডিমের দাম সমন্বয় করা হয়োছে। এ¶ত্রে ডিমের দাম আট টাকা কমানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেটের আওতায় প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ নামে বিশেষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা শহরে অতিরিক্ত ২৩টি, নারায়ণগঞ্জ শহরে ৩টি এবং ৭টি বিভাগীয় দপ্তরে ১৪টি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ ও গরুর মাংস বিক্রয় কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
চলমান বিক্রয় কেন্দ্র ২৫টি
সচিবালয়ের পাশে, খামারবাড়ী (ফার্মগেট), ষাটফুট রোড (মিরপুর), আজিমপুর মাতৃসদন (আজিমপুর), নয়াবাজার (পুরান ঢাকা), বনশ্রী, হাজারীবাগ (সেকশন), আরামবাগ (মতিঝিল), মোহাম্মদপুর (বাবর রোড), কালশী (মিরপুর), যাত্রাবাড়ী (মানিকনগর), শাহাজাদপুর (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি, বনানী, কামরাঙ্গীর চর, খিলগাঁও (রেল ক্রসিং দ¶িণে), নাখাল পাড়া (লুকাস মোড়), সেগুন বাগিচা (কাঁচা বাজার), বসিলা (মোহাম্মদপুর), উত্তরা (হাউজ বিল্ডিং), রামপুরা (বাজার), মিরপুর ১০, কল্যাণপুর (ঝিলপাড়), তেজগাঁও, পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার) এবং কাকরাইল।
ঢাকা মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জে অতিরিক্ত ২৬টি স্থানের তালিকা
ঢাকা মহানগর : আসাদ গেট (টাউন হল), লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, শংকর প্লাজা, জিগাতলা (কায়সার সুইটমিট), আজিমপুর (৩নং গেট), নিউ পল্টন, এ্যালিফেন্ট রোড (ইস্টার্ন মল্লিকার সামনে), জুরাইন কাঁচা বাজার, আটিবাজার, গাবতলী মাজার রোড, মিরপুর ৬নং বাজার, শেওড়াপাড়া, কচু¶েত বাজার, উত্তরা আজমপুর কাঁচা বাজার, মেরুল বাড্ডা, মগবাজার মোড়, গ্রীন রোড, বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালের পিছনে, বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির, মধ্যবাড্ডা লিং রোড, জোয়ার সাহারা, উত্তরা খালপাড়, রামপুরা হাজীপাড়া এবং লালবাগ এতিমখানা।
নারায়ণগঞ্জ
ডিসি অফিস চাঁনমারি, চাষাঢ়া চত্বর এবং তারকার মাঠ কুতুবপুর।
দেশ প্রতিবেদক 

















