ঢাকা ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিমসটেক সম্মেলন : ইউনূস-মোদি বৈঠক নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ

সমুদ্র নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:২১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • ৫২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে বিমসটেক ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন। বুধবার শুরু হওয়া এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের ৭টি দেশ। সম্মেলনে সমুদ্র নিরাপত্তার পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন নেতারা।
এই সম্মেলনের সাইডলাইনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন।
এদিন ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
বিমসটেকের সব সদস্য রাষ্ট্রকে বাণিজ্য সংক্রান্ত ছয়টি মৌলিক চুক্তি সময়মতো চূড়ান্তকরণ নিশ্চিত করতে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেছেন, আমাদের অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এফটিএ বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছয়টি অমীমাংসিত চুক্তি হলো, বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কাঠামো চুক্তির পণ্য, উৎপত্তির নিয়ম, শুল্ক বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ এবং পরিষেবায় বাণিজ্য।
শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। একই দিন সম্মেলনে যোগ দিবেন নরেন্দ্র মোদিসহ সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা। তারা সমুদ্র নিরাপত্তার পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশের ব্যবসা সম্প্রসারণে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেশন, চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ উপসাগর, বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশের অবস্থান। এই উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে।
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে গঠিত জোট, বিমসটেকের সাত সদস্য দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮০ কোটি, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ। এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনদিনব্যাপী বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে। প্রথম দিন ২৫তম সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশে পাঁচ সদস্যের দলে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিন।
দিনব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে, সদস্য দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, কৃষি, সংস্কৃতি ও পর্যটনের বিকাশসহ আঞ্চলিক সহযোগিতার নানা অগ্রগতি। বৈঠক শেষে এর বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব।
সম্মেলনের একদিন আগেই ব্যাংককে পৌঁছান নেপালের প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয় দিন দুপুরে থাইল্যান্ড পৌঁছাবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে একটি ফোরামে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধান উপদেষ্টা।

জনপ্রিয়

বিমসটেক সম্মেলন : ইউনূস-মোদি বৈঠক নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ

সমুদ্র নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর

প্রকাশ : ০২:২১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে বিমসটেক ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন। বুধবার শুরু হওয়া এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের ৭টি দেশ। সম্মেলনে সমুদ্র নিরাপত্তার পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন নেতারা।
এই সম্মেলনের সাইডলাইনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন।
এদিন ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
বিমসটেকের সব সদস্য রাষ্ট্রকে বাণিজ্য সংক্রান্ত ছয়টি মৌলিক চুক্তি সময়মতো চূড়ান্তকরণ নিশ্চিত করতে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেছেন, আমাদের অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এফটিএ বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছয়টি অমীমাংসিত চুক্তি হলো, বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কাঠামো চুক্তির পণ্য, উৎপত্তির নিয়ম, শুল্ক বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সুবিধা, বিনিয়োগ এবং পরিষেবায় বাণিজ্য।
শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। একই দিন সম্মেলনে যোগ দিবেন নরেন্দ্র মোদিসহ সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা। তারা সমুদ্র নিরাপত্তার পাশাপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশের ব্যবসা সম্প্রসারণে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেশন, চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ উপসাগর, বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ বেশ কিছু দেশের অবস্থান। এই উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে।
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে গঠিত জোট, বিমসটেকের সাত সদস্য দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮০ কোটি, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ। এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনদিনব্যাপী বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে। প্রথম দিন ২৫তম সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশে পাঁচ সদস্যের দলে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিন।
দিনব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে, সদস্য দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, কৃষি, সংস্কৃতি ও পর্যটনের বিকাশসহ আঞ্চলিক সহযোগিতার নানা অগ্রগতি। বৈঠক শেষে এর বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব।
সম্মেলনের একদিন আগেই ব্যাংককে পৌঁছান নেপালের প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয় দিন দুপুরে থাইল্যান্ড পৌঁছাবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে একটি ফোরামে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধান উপদেষ্টা।