ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে : আলী রীয়াজ

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:১৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • ৫২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা, যাতে করে বাংলাদেশে একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। আমরা বারবার দেখেছি-শুধু গণতন্ত্র হোচট খায়নি, বরং ব্যক্তিতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই বাস্তবতা আমাদের সবাইকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র যেন হোঁচট না খায় সেই ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় কমিশন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের শুরুতে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় বৈঠকে রয়েছেন কমিশনের সদস্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার ও ইফতেখারুজ্জামান।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সহযোগিতা করায় বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, পাঁচটি কমিশনের সুপারিশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে স্প্রেডশিট দেওয়া হয়েছিল দলগুলোকে। বিএনপিও সহযোগিতা করেছে, তাদের প্রতি সন্তুষ্টি, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো সংগ্রাম করেছে, বিএনপি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছে।
গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জানেন, বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কীভাবে নিপীড়িত হয়েছে, কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আজকের আলোচনাও সেই লড়াইয়েরই একটি অংশ। বিএনপির পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে একমত হয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে, কিছু বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে।
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের হাল ধরা অন্তর্র্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে দুই ধাপে ১১টি কমিশন গঠন করে।
কমিশনগুলোর সুপারিশ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপিসহ সবগুলো রাজনৈতিক দলের প্রথম বৈঠক হয়।
এরপর সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর ওপর ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মতামত জানতে চায় ঐকমত্য কমিশন। পরে মতামত তুলে ধরে ৩৪টি দল, যাদের সঙ্গে এখন আলাদা করে বৈঠক করছে কমিশন।

Tag :
জনপ্রিয়

গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে : আলী রীয়াজ

প্রকাশ : ০২:১৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা, যাতে করে বাংলাদেশে একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। আমরা বারবার দেখেছি-শুধু গণতন্ত্র হোচট খায়নি, বরং ব্যক্তিতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই বাস্তবতা আমাদের সবাইকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র যেন হোঁচট না খায় সেই ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় কমিশন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের শুরুতে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় বৈঠকে রয়েছেন কমিশনের সদস্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার ও ইফতেখারুজ্জামান।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সহযোগিতা করায় বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, পাঁচটি কমিশনের সুপারিশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে স্প্রেডশিট দেওয়া হয়েছিল দলগুলোকে। বিএনপিও সহযোগিতা করেছে, তাদের প্রতি সন্তুষ্টি, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো সংগ্রাম করেছে, বিএনপি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছে।
গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জানেন, বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কীভাবে নিপীড়িত হয়েছে, কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আজকের আলোচনাও সেই লড়াইয়েরই একটি অংশ। বিএনপির পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে একমত হয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে, কিছু বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে।
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের হাল ধরা অন্তর্র্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে দুই ধাপে ১১টি কমিশন গঠন করে।
কমিশনগুলোর সুপারিশ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপিসহ সবগুলো রাজনৈতিক দলের প্রথম বৈঠক হয়।
এরপর সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর ওপর ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মতামত জানতে চায় ঐকমত্য কমিশন। পরে মতামত তুলে ধরে ৩৪টি দল, যাদের সঙ্গে এখন আলাদা করে বৈঠক করছে কমিশন।