সব রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘সর্বজনীনস্বীকৃত’ হয়েছে। এ বিষয়টি সবাই গ্রহণ করেছে। ইউনিভার্সাল একসেপ্টেড।
তিনি আরও বলেন, দু-একটি দলের মতে ভিন্নতা থাকতে পারে, সেটা কোনো বিষয় নয়। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সব পার্টি মিলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ নিয়ে আমরা সব দলের সঙ্গে কথা বলেছি।’
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশের মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের হিসাবে এই সংখ্যা আরও বেশি। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী লীগ কী পরিমাণ লুট করেছে। তাদের ১৫ বছরের শাসনকালে খুন-গুম করেছে, সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুম হয়েছে। আয়নাঘরে ধরে নিয়ে গিয়ে কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছে মানুষকে। এর থেকে বাচ্চারাও মুক্তি পায়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। তারা ক্ষমতায় থাকতে যাকে খুশি তাকে জঙ্গি বলে দমন করেছে। তারা মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এটাই তাদের নিষিদ্ধ হওয়ার বড় কারণ।
অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিজের কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই, এমনকি তার নামে কোনো গাড়িও নেই বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের সময় ড. ইউনূসের যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন বা সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার মধ্যে কোনোটি ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত মালিকানায় আছে? তিনি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের আর্থিক বা ব্যক্তিগত সুবিধা নিচ্ছেন কি না-তা খতিয়ে দেখা দরকার।
তিনি বলেন, শুধু ‘গ্রামীণ’ নামটা ড. ইউনূস দিয়েছেন বলে এসব প্রতিষ্ঠান তার হয়ে যায় না। তার কোনো শেয়ার নেই, সম্পত্তি নেই-এটা কেউ প্রমাণ করতে পারলে দেখাক।
তিনি আরো বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের পেছনে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। বরং তিনি সবাইকে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানান।
গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে এই সংস্থাটি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে। তখন ড. ইউনূস সৌদি আরবে ছিলেন এবং সেখানে একটি জার্মান-সৌদি হাসপাতাল চেইন তাকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ নার্স ও হাসপাতালের কর্মী পাঠানোর অনুরোধ জানায়। তারা চেয়েছিল ইউনূসের মাধ্যমে কর্মী আনতে, কারণ এতে খরচ কম হবে। সেই সময় শেখ হাসিনার সরকার এর অনুমোদন দেয়নি। এখন যদি ২০২৪ সালের পরে অনুমোদন দেওয়া হয়, তাহলে এতে সমস্যা কোথায়? বাংলাদেশে এমন প্রায় সাড়ে তিন হাজার রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি আছে।
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১২-১৪ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং ২০১৪ সালে পূর্বাচলে ২০০-৩০০ বিঘা জমিও কেনা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাত। তারা বলত, অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত সব কিছু যাচাই-বাছাই করে গত ৬ মাস ধরে অডিট শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার নিচে হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। তিনি বলেন, যদি এই বেতন দিতে না পারেন, তাহলে পত্রিকা বন্ধ করে দিন।
সাংবাদিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সংবাদপত্র মালিকদের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর। কিন্তু বাস্তবে তারা গত ১৫ বছর ধরে পূর্বাচলে প্লট পাওয়ার দৌড়ে ব্যস্ত ছিল। সাংবাদিকদের স্বার্থে তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি, বরং ভয়াবহভাবে ঠকিয়েছে।
ডিএফপির (তথ্য অধিদপ্তর) বিরুদ্ধে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক অনিয়ম চলছে। কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা অন্যদের সংবাদ কপি করে ছাপায়, যা কখনো ভালো সাংবাদিকতা হতে পারে না।
সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত বেতন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ৩০ হাজার টাকার নিচে বেতন হলে একজন সাংবাদিক টিকে থাকতে পারেন না। এটা শুধু আর্থিক ব্যাপার নয়, পেশার মর্যাদার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
ব্রেকিং নিউজ
ড. ইউনূসের কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই
সব দলের সিদ্ধান্তে আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ
-
দেশ প্রতিবেদক - প্রকাশ : ০২:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
- ৫২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জনপ্রিয়

















