ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৯৭৩ থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞার পরিবর্তন হয়েছে পাঁচবার

মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
  • ১০৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তন করেছে সরকার। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা হবেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’।
তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী, কামারুজ্জামান ও খন্দকার মোশতাক আহমদ।

এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ মঙ্গলবার রাতে জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অধ্যাদেশে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শব্দবন্ধেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ নিয়ে ১৯৭৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞার পরিবর্তন হয়েছে পাঁচবার।

নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, তারাই ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, মুক্তিবাহিনী, মুজিবনগর সরকার স্বীকৃত বিভিন্ন বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার সদস্য এবং নির্যাতিত নারীরা (বীরাঙ্গনা) ও মুক্তিযুদ্ধের সময় চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ফিল্ড হাসপাতালের কর্মীরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।

এদিকে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী-সাংবাদিক এবং স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলও ‘সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ, এর আগে যারা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হতেন, তাদের মধ্যে অনেকেই এখন হবেন ‘সহযোগী’। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেও সরকার বলছে, কাউকে বাতিল করা হয়নি, বরং সংজ্ঞা পরিষ্কার করা হয়েছে। সংজ্ঞা অনুযায়ী, সরাসরি রণাঙ্গনে অংশগ্রহণকারীরাই হবেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’।
এছাড়া নতুনভাবে ‘বীরাঙ্গনা’ এবং ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসকরাও বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন। এই অধ্যাদেশে ‘জাতির পিতা’ শব্দ পরিবর্তনের বিষয়টিও নজরে এসেছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বিদেশে থেকে প্রচারণা চালিয়েছেন, তারাও সহযোগীর স্বীকৃতি পাবেন।
সব মিলিয়ে, মুক্তিযোদ্ধা ও সহযোগীদের নতুন শ্রেণিবিন্যাসে স্পষ্টতা এসেছে বলে মনে করছে সরকার।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার (মুজিবনগর সরকার) শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ।

অন্তর্র্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখা যায়, মুজিবনগর সরকারের কিছু কর্মচারী ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হচ্ছেন। এখন থেকে তারা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে কাউকে বাতিল করা হয়নি। শুধু সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যিনি যে সুবিধা পাচ্ছেন, তিনি সেই সুবিধা পাবেন।

এদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বুধবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদসহ মুক্তিযুদ্ধের নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বাতিল- একটা ‘ফেইক নিউজ’। নতুন অধ্যাদেশে মুজিবনগর সরকারের সব সদস্যকে মুক্তিযোদ্ধার স্পষ্ট স্বীকৃতি দেওয়া আছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের’ জন্য পাঁচটি শ্রেণি ঠিক করা হয়েছে। প্রথমত, যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশে অবস্থানকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন এবং যেসব বাংলাদেশি বিশ্বজনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) অধীন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা দূত, মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তৃতীয়ত, মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) সঙ্গে সম্পৃক্ত সব এমএনএ (জাতীয় পরিষদের সদস্য) বা এমপিএ (প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য), যারা পরবর্তী সময়ে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন। চতুর্থত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সব শিল্পী ও কলাকুশলী এবং দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব বাংলাদেশি সাংবাদিক। পঞ্চমত, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ২১ জন সদস্য এত দিন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হতেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মোহাম্মদ জাকারিয়া পিন্টু, কাজী সালাহউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান খান। এখন থেকে তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞায় আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা দেশের ভিতরে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে, ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, এরূপ সব বেসামরিক নাগরিক (ওই সময়ে যাদের বয়স সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সের মধ্যে ছিল) বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), পুলিশ বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ও সেই সরকার স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার সদস্যরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

১৯৭৩ সালের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা (মুজিবের সরকার) :-
যেসব ব্যক্তি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারী যুদ্ধ করেছেন অথবা মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধ বা সম্মুখযুদ্ধ করেছেন এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে সংগঠিত যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।

১৯৮০ সালের মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা (জিয়ার সরকার) :-
যেসব ব্যক্তি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন অথবা মুজিবনগর সরকারের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন। (সরকারি গেজেট, ১৯৮০)

২০০২ সালের মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা (বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার) :-
‘যে ব্যক্তি ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ে সরাসরি সশস্ত্রভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, কেবল তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা হবে।’ (২০০২ সালের গেজেট সারাংশ)

২০১৭ সালের মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা (আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার) :-
“মুক্তিযোদ্ধা বলতে সেই বাংলাদেশি নাগরিককে বোঝাবে যিনি ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের মধ্যে মুজিবনগর সরকারের অধীনে বা পক্ষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র যুদ্ধে অথবা অন্য যে কোনো প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।” (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০১৭)

২০২২ সালের সংজ্ঞা (হাসিনা সরকার) :-
‘‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অর্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়া যাহারা দেশের অভ্যন্তরে গ্রামেগঞ্জে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিয়াছেন এবং ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ হইতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হইয়া দখলদার ও হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম ও মুসলিম লীগ এবং তাহাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুজাহিদ বাহিনী ও পিচ কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করিয়াছেন এইরূপ সকল বেসামরিক নাগরিক এবং সশস্ত্র বাহিনী, মুজিব বাহিনী, মুক্তি বাহিনী ও অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, ই. পি. আর. নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার বাহিনীর সদস্য এবং নিম্নবর্ণিত বাংলাদেশের নাগরিকগণ, উক্ত সময়ে যাহাদের বয়স সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গণ্য হইবেন।’’
২০২৫-এর জুনের সংজ্ঞা (ড. ইউনূসের ইন্টেরিম সরকার) :-
“বীর মুক্তিযোদ্ধা অর্থ যাহারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হইতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে গ্রামেগঞ্জে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিয়াছেন এবং যে সকল ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করিয়া ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাহাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়াছিলেন এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হইয়া হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাহাদের এই দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করিয়াছেন, এইরূপ সকল বেসামরিক নাগরিক উক্ত সময়ে যাহাদের বয়স সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সসীমার মধ্যে; এবং সমর বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ই.পি.আর), পুলিশ বাহিনী, মুক্তি বাহিনী, প্রাক্তন বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ও উক্ত সরকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলা ফোর্স, আনসার সদস্য এবং বাংলাদেশের নির্ধারিত নাগরিকগণ বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হইবেন।”

জনপ্রিয়

১৯৭৩ থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞার পরিবর্তন হয়েছে পাঁচবার

মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন

প্রকাশ : ০২:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তন করেছে সরকার। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা হবেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’।
তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী, কামারুজ্জামান ও খন্দকার মোশতাক আহমদ।

এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ মঙ্গলবার রাতে জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অধ্যাদেশে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শব্দবন্ধেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ নিয়ে ১৯৭৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞার পরিবর্তন হয়েছে পাঁচবার।

নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, তারাই ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, মুক্তিবাহিনী, মুজিবনগর সরকার স্বীকৃত বিভিন্ন বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার সদস্য এবং নির্যাতিত নারীরা (বীরাঙ্গনা) ও মুক্তিযুদ্ধের সময় চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ফিল্ড হাসপাতালের কর্মীরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।

এদিকে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী-সাংবাদিক এবং স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলও ‘সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ, এর আগে যারা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হতেন, তাদের মধ্যে অনেকেই এখন হবেন ‘সহযোগী’। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেও সরকার বলছে, কাউকে বাতিল করা হয়নি, বরং সংজ্ঞা পরিষ্কার করা হয়েছে। সংজ্ঞা অনুযায়ী, সরাসরি রণাঙ্গনে অংশগ্রহণকারীরাই হবেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’।
এছাড়া নতুনভাবে ‘বীরাঙ্গনা’ এবং ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসকরাও বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন। এই অধ্যাদেশে ‘জাতির পিতা’ শব্দ পরিবর্তনের বিষয়টিও নজরে এসেছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বিদেশে থেকে প্রচারণা চালিয়েছেন, তারাও সহযোগীর স্বীকৃতি পাবেন।
সব মিলিয়ে, মুক্তিযোদ্ধা ও সহযোগীদের নতুন শ্রেণিবিন্যাসে স্পষ্টতা এসেছে বলে মনে করছে সরকার।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার (মুজিবনগর সরকার) শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ।

অন্তর্র্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখা যায়, মুজিবনগর সরকারের কিছু কর্মচারী ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হচ্ছেন। এখন থেকে তারা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে কাউকে বাতিল করা হয়নি। শুধু সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যিনি যে সুবিধা পাচ্ছেন, তিনি সেই সুবিধা পাবেন।

এদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বুধবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদসহ মুক্তিযুদ্ধের নেতাদের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বাতিল- একটা ‘ফেইক নিউজ’। নতুন অধ্যাদেশে মুজিবনগর সরকারের সব সদস্যকে মুক্তিযোদ্ধার স্পষ্ট স্বীকৃতি দেওয়া আছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের’ জন্য পাঁচটি শ্রেণি ঠিক করা হয়েছে। প্রথমত, যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশে অবস্থানকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন এবং যেসব বাংলাদেশি বিশ্বজনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) অধীন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা দূত, মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তৃতীয়ত, মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) সঙ্গে সম্পৃক্ত সব এমএনএ (জাতীয় পরিষদের সদস্য) বা এমপিএ (প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য), যারা পরবর্তী সময়ে গণপরিষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন। চতুর্থত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সব শিল্পী ও কলাকুশলী এবং দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব বাংলাদেশি সাংবাদিক। পঞ্চমত, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ২১ জন সদস্য এত দিন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হতেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মোহাম্মদ জাকারিয়া পিন্টু, কাজী সালাহউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান খান। এখন থেকে তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞায় আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা দেশের ভিতরে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে, ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, এরূপ সব বেসামরিক নাগরিক (ওই সময়ে যাদের বয়স সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সের মধ্যে ছিল) বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), পুলিশ বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ও সেই সরকার স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার সদস্যরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

১৯৭৩ সালের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা (মুজিবের সরকার) :-
যেসব ব্যক্তি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারী যুদ্ধ করেছেন অথবা মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধ বা সম্মুখযুদ্ধ করেছেন এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে সংগঠিত যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।

১৯৮০ সালের মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা (জিয়ার সরকার) :-
যেসব ব্যক্তি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন অথবা মুজিবনগর সরকারের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন। (সরকারি গেজেট, ১৯৮০)

২০০২ সালের মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা (বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার) :-
‘যে ব্যক্তি ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ে সরাসরি সশস্ত্রভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, কেবল তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা হবে।’ (২০০২ সালের গেজেট সারাংশ)

২০১৭ সালের মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা (আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার) :-
“মুক্তিযোদ্ধা বলতে সেই বাংলাদেশি নাগরিককে বোঝাবে যিনি ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের মধ্যে মুজিবনগর সরকারের অধীনে বা পক্ষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র যুদ্ধে অথবা অন্য যে কোনো প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।” (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০১৭)

২০২২ সালের সংজ্ঞা (হাসিনা সরকার) :-
‘‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অর্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়া যাহারা দেশের অভ্যন্তরে গ্রামেগঞ্জে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিয়াছেন এবং ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ হইতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হইয়া দখলদার ও হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম ও মুসলিম লীগ এবং তাহাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুজাহিদ বাহিনী ও পিচ কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করিয়াছেন এইরূপ সকল বেসামরিক নাগরিক এবং সশস্ত্র বাহিনী, মুজিব বাহিনী, মুক্তি বাহিনী ও অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, ই. পি. আর. নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার বাহিনীর সদস্য এবং নিম্নবর্ণিত বাংলাদেশের নাগরিকগণ, উক্ত সময়ে যাহাদের বয়স সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গণ্য হইবেন।’’
২০২৫-এর জুনের সংজ্ঞা (ড. ইউনূসের ইন্টেরিম সরকার) :-
“বীর মুক্তিযোদ্ধা অর্থ যাহারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হইতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে গ্রামেগঞ্জে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিয়াছেন এবং যে সকল ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করিয়া ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাহাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়াছিলেন এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হইয়া হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাহাদের এই দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করিয়াছেন, এইরূপ সকল বেসামরিক নাগরিক উক্ত সময়ে যাহাদের বয়স সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সসীমার মধ্যে; এবং সমর বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ই.পি.আর), পুলিশ বাহিনী, মুক্তি বাহিনী, প্রাক্তন বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ও উক্ত সরকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলা ফোর্স, আনসার সদস্য এবং বাংলাদেশের নির্ধারিত নাগরিকগণ বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হইবেন।”