ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের সাতজনসহ নিহত আট

অসুস্থ স্বজনকে দেখতে যাওয়ার সময় সড়কে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের সাত সদস্যসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের ৬ জনই নারী। ঘটনাস্থলে পাঁচজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যাত্রী একই পরিবারের সাতজন হলেনÑ ইতি খাতুন (৪০), জাহিদুল ইসলাম (৬৫), শেলী বেগম (৬০), আঞ্জুমানয়ারা (৭৫), আন্না খাতুন (৬০), আনু বেগম (৫৫) ও সীমা খাতুন (৩৫)।
নিহতদের মধ্যে সীমা খাতুনের বাড়ি কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে ও অন্য সাতজনের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামে। এ দুর্ঘটনায় মাইক্রোচালক সাহাবুদ্দিন (৩৫) প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহত মাইক্রো চালক সাহাবুদ্দিনের মামাতো ভাই ধর্মদহ গ্রামের বাসিন্দা হাসিবুল ইসলাম বলেন, দৌলতপুর থেকে সিরাজগঞ্জে রোগী দেখতে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সাহাবুদ্দিনের মাইক্রোবাসটি ভাড়া করা হয়েছিল। একই পরিবারের সাতজন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই মাইক্রোবাসে রওনা হন। একই গ্রামের সাতজনের মৃত্যুর খবরে ধর্মদহগ্রামে চলছে শোকের মাতম।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ধর্মদহ গ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের আইড়মাড়ি এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও তিনজন। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ৬ জনই নারী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইড়মারী ব্রিজের কাছে এলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক চলন্ত মাইক্রোবাসের ওপর উঠে পড়ে। এতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাঈল হোসেন জানান, সকাল ১০টার কিছু পরে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় লাশগুলো উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। এখন পরিচয় নিশ্চিতের কাজ করছেন তারা। তাছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মাইক্রোবাসের যাত্রীরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

জনপ্রিয়

ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের সাতজনসহ নিহত আট

প্রকাশ : ০২:১৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

অসুস্থ স্বজনকে দেখতে যাওয়ার সময় সড়কে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের সাত সদস্যসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের ৬ জনই নারী। ঘটনাস্থলে পাঁচজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যাত্রী একই পরিবারের সাতজন হলেনÑ ইতি খাতুন (৪০), জাহিদুল ইসলাম (৬৫), শেলী বেগম (৬০), আঞ্জুমানয়ারা (৭৫), আন্না খাতুন (৬০), আনু বেগম (৫৫) ও সীমা খাতুন (৩৫)।
নিহতদের মধ্যে সীমা খাতুনের বাড়ি কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে ও অন্য সাতজনের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামে। এ দুর্ঘটনায় মাইক্রোচালক সাহাবুদ্দিন (৩৫) প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহত মাইক্রো চালক সাহাবুদ্দিনের মামাতো ভাই ধর্মদহ গ্রামের বাসিন্দা হাসিবুল ইসলাম বলেন, দৌলতপুর থেকে সিরাজগঞ্জে রোগী দেখতে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য সাহাবুদ্দিনের মাইক্রোবাসটি ভাড়া করা হয়েছিল। একই পরিবারের সাতজন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই মাইক্রোবাসে রওনা হন। একই গ্রামের সাতজনের মৃত্যুর খবরে ধর্মদহগ্রামে চলছে শোকের মাতম।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ধর্মদহ গ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের আইড়মাড়ি এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও তিনজন। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ৬ জনই নারী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইড়মারী ব্রিজের কাছে এলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক চলন্ত মাইক্রোবাসের ওপর উঠে পড়ে। এতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাঈল হোসেন জানান, সকাল ১০টার কিছু পরে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় লাশগুলো উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। এখন পরিচয় নিশ্চিতের কাজ করছেন তারা। তাছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মাইক্রোবাসের যাত্রীরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।