ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাংবাদিক তুহিন হত্যা

কোপানোর ভিডিও ধারণ করায় কুপিয়ে হত্যা

গাজীপুরে সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা মামলায় মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

ফাঁদে ফেলে প্রতারণার ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার (জিএমপি) নাজমুল করিম খান।

শনিবার দুপুরে জিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তথ্য জানান।

জিএমপি কমিশনার বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাদশা নামের এক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে ফিরছিলেন। পথে অভিযুক্ত গোলাপী তাকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে বাদশা গোলাপীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরে আসতে চান। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা অন্য আসামিরা বাদশাকে কোপাতে শুরু করেন। প্রাণ বাঁচাতে বাদশা দৌড় দিলে ঘটনাটি পেশাগত দায়িত্বে ভিডিও করেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন।

তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি দেখে ফেলেন আসামিরা। তারা তুহিনকে ভিডিওটি মুছে ফেলতে বলেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি। এক পর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে আটজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি একজনকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পারব।’

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের ভবানীপুর উপজেলা থেকে ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী বেগম ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া স্বাধীন হোতাপাড়া থেকে এবং রাজধানীর উত্তরার তুরাগ থেকে আল আমিন গ্রেপ্তার হন। এছাড়া মো. ফয়সাল হাসান (২৩) এবং মো. শাহ জালালকে (৩২) ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল করিম খান বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ে মামলার বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সাজার সংস্কৃতি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ দমন করা যাবে। আসামিরা যদি না-ও স্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণই অপরাধ প্রমাণ করবে।

পুলিশ কমিশনার নিহত তুহিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সাংবাদিক কমিউনিটির কাছে যথার্থ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারার দায় স্বীকার করেন।

এদিকে সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি স্বাধীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার কে এম এ মামুন খান চিশতী।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ছিনতাইকারী মো. স্বাধীন সাংবাদিক তুহিনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তুহিনকে টার্গেট করেই হত্যা করা হয়েছে। তা না হলে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করতেন না। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এবং এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও জানান, চক্রের নারী সদস্য বাদশা নামের এক ব্যক্তিকে বিরক্ত করছিলেন, তাই বাদশা সেই নারীকে আঘাত করেন। এ ঘটনার পর চক্রের অন্য সদস্যরা বাদশাকে ছুরি নিয়ে দৌড়াতে থাকেন। বিষয়টি দেখে ভিডিও করছিলেন তুহিন। চক্রের সদস্যরা ভিডিও করা দেখে ফেলায় তাঁর ওপর হামলা করেন। গ্রেপ্তার মো. স্বাধীন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার নূর মোহাম্মদের ছেলে। বর্তমানে নগপাড়া মোহাম্মদ আলীর ভাড়াটে।

গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে একটি মার্কেটের ভেতর প্রকাশ্যে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন শুক্রবার বাসন থানায় মামলা করেন তুহিনের বড় ভাই। মামলায় ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

আসাদুজ্জামান তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

জনপ্রিয়

সাংবাদিক তুহিন হত্যা

কোপানোর ভিডিও ধারণ করায় কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ : ০৪:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

গাজীপুরে সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা মামলায় মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

ফাঁদে ফেলে প্রতারণার ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিক তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার (জিএমপি) নাজমুল করিম খান।

শনিবার দুপুরে জিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তথ্য জানান।

জিএমপি কমিশনার বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাদশা নামের এক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে ফিরছিলেন। পথে অভিযুক্ত গোলাপী তাকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে বাদশা গোলাপীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরে আসতে চান। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা অন্য আসামিরা বাদশাকে কোপাতে শুরু করেন। প্রাণ বাঁচাতে বাদশা দৌড় দিলে ঘটনাটি পেশাগত দায়িত্বে ভিডিও করেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন।

তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি দেখে ফেলেন আসামিরা। তারা তুহিনকে ভিডিওটি মুছে ফেলতে বলেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি। এক পর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে আটজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি একজনকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পারব।’

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের ভবানীপুর উপজেলা থেকে ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী বেগম ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া স্বাধীন হোতাপাড়া থেকে এবং রাজধানীর উত্তরার তুরাগ থেকে আল আমিন গ্রেপ্তার হন। এছাড়া মো. ফয়সাল হাসান (২৩) এবং মো. শাহ জালালকে (৩২) ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল করিম খান বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ে মামলার বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সাজার সংস্কৃতি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ দমন করা যাবে। আসামিরা যদি না-ও স্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণই অপরাধ প্রমাণ করবে।

পুলিশ কমিশনার নিহত তুহিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সাংবাদিক কমিউনিটির কাছে যথার্থ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারার দায় স্বীকার করেন।

এদিকে সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি স্বাধীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার কে এম এ মামুন খান চিশতী।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ছিনতাইকারী মো. স্বাধীন সাংবাদিক তুহিনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তুহিনকে টার্গেট করেই হত্যা করা হয়েছে। তা না হলে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করতেন না। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এবং এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও জানান, চক্রের নারী সদস্য বাদশা নামের এক ব্যক্তিকে বিরক্ত করছিলেন, তাই বাদশা সেই নারীকে আঘাত করেন। এ ঘটনার পর চক্রের অন্য সদস্যরা বাদশাকে ছুরি নিয়ে দৌড়াতে থাকেন। বিষয়টি দেখে ভিডিও করছিলেন তুহিন। চক্রের সদস্যরা ভিডিও করা দেখে ফেলায় তাঁর ওপর হামলা করেন। গ্রেপ্তার মো. স্বাধীন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার নূর মোহাম্মদের ছেলে। বর্তমানে নগপাড়া মোহাম্মদ আলীর ভাড়াটে।

গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে একটি মার্কেটের ভেতর প্রকাশ্যে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন শুক্রবার বাসন থানায় মামলা করেন তুহিনের বড় ভাই। মামলায় ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

আসাদুজ্জামান তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।