ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডিসির আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত

ইসিতে ডিসির চিঠি : আসন পুনর্বিন্যাসে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ

  • ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : ০১:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৭৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে চলামান অবরোধ তুলে নিয়ে আগামী শনিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছে আন্দোলনকারীরা। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) আশ্বাসে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের ৫ দফা দাবি মেনে না নিলে আবার লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এদিকে ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে চিঠি দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা। তিনি বিষয়টিকে ‘জনগণের আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।
চিঠিতে বলা হয়, ৪ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ আসনে সংযুক্ত করায় দুই ইউনিয়নের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ফলে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
ডিসির দেওয়া চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, উপজেলা অফিসার্স ক্লাব, হাইওয়ে থানা ও পৌরসভায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধরা। এছাড়াও সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন তারা। এতে দক্ষিণবঙ্গের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে, ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি পূরণের জন্য কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। তাই ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের ভাঙ্গা হতে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করে সংসদীয় আসন পুননির্ধারণের বিষয় দুটি সংসদীয় আসনের জনগণ মেনে নিতে পারেনি। উক্ত দুটি আসনের সর্বস্তরের জনগণ এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মর্মে জানা যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্র্নিধারণের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা না করা হলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় সংসদীয় আসন-২১২ ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) এর অন্তর্গত ভাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন আলগী ও হামিরদীকে জাতীয় সংসদীয় আসন-২১৪ ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের মধ্যে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকায় সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হল।
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা সোমবার রাতে ভাঙ্গা থানায় পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের জানান, আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষের আবেগ ও অনুভূতি তুলে ধরে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছি। রিপোর্টটি তারা বিবেচনা করবেন। পাশাপাশি যেহেতু ২টি ইউনিয়ন কেটে নেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছে, সম্ভবত আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুনানি আছে। তখন জানা যাবে আসলে বিষয়টি কোনদিকে যাচ্ছে। ভাঙ্গার জনগণকে অনুরোধ করবো আপনাদের কর্মসূচি থেকে ফিরে আসেন এবং সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন। জনগণের আবেগ অনুভূতি আমরা বুঝি। আমরা সেই বিষয় নিয়ে কাজ করছি।
তিনি ভাঙ্গাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সুনাম আছে। যেহেতু ২১ তারিখে রিট আছে সেহেতু জনগণের যাতে কষ্ট না হয়, সেজন্য আপনাদের অনুরোধ করবো।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের চিঠি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে এই সীমানার বিষয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। আদালত থেকে নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর-২ ও ৪ আসনের দুইটি ইউনিয়ন নিয়ে যে অসন্তোষ সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। অসন্তোষ থাকতেই পারে, এর প্রকাশটা সবার জন্য ক্ষতিকর হবে এমনটি কাম্য নয়। আমরা এ দেশেরই সন্তান। ক্ষোভ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এই জেলার সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে তা অস্বীকারের উপায় নেই, সে কথাও বলেন আখতার আহমেদ।
এদিকে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর আন্দোলন স্থগিত করে মঙ্গলবার সহিংস ঘটনার বিচারের দাবিতে শান্তিমিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে বিএনপির মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভাঙ্গা এক্সপ্রেস দক্ষিণপাড়া হয়ে ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে সমাবেশ করে বিএনপি।
সমাবেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী বলেন, ‘শুরু থেকেই বিএনপি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি উচ্চ আদালতে যাওয়ার পর আমরা আন্দোলনে সক্রিয় না থাকলেও ফ্যাসিস্টদের দোসররা গতকাল ভাঙচুর করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
সৈয়দ মোদাররেস আলী বলেন, ‘আগে শুধু ভাঙ্গা উপজেলা নিয়ে ফরিদপুরু৫ আসন ছিল। ২০০৮ সালে তৎকালীন ইসি (নির্বাচন কমিশন) ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনকে একত্র করে ফরিদপুরু৪ আসন করে এবং সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করে। তখন থেকেই ফরিদপুরের পাঁচটি আসন ফিরিয়ে আনার আন্দোলন চলছে। কিন্তু চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বর্তমান ইসি ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে কেটে ফরিদপুরু২ আসনে যুক্ত করেছে। আমরা অভিন্ন ভাঙ্গা চাই এবং কেটে নেওয়া দুটি ইউনিয়ন ভাঙ্গায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুনানি হবে। আশা করি, আমরা ন্যায়বিচার পাব।’
সরেজমিন গতকাল ভাঙ্গায় কোনো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান আন্দোলনকারীদের অবস্থান দেখা গেছে। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় টহল দিয়েছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশ্খৃলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতি দেখা গেছে। তবে গত সোমবার সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার অনেকটাই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লোকজনের আনাগোনা একেবারেই কম।

জনপ্রিয়

ডিসির আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত

ইসিতে ডিসির চিঠি : আসন পুনর্বিন্যাসে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ

প্রকাশ : ০১:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে চলামান অবরোধ তুলে নিয়ে আগামী শনিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছে আন্দোলনকারীরা। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) আশ্বাসে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের ৫ দফা দাবি মেনে না নিলে আবার লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এদিকে ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে চিঠি দিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা। তিনি বিষয়টিকে ‘জনগণের আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।
চিঠিতে বলা হয়, ৪ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর-২ আসনে সংযুক্ত করায় দুই ইউনিয়নের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ফলে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
ডিসির দেওয়া চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, উপজেলা অফিসার্স ক্লাব, হাইওয়ে থানা ও পৌরসভায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধরা। এছাড়াও সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন তারা। এতে দক্ষিণবঙ্গের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে, ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি পূরণের জন্য কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। তাই ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের ভাঙ্গা হতে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করে সংসদীয় আসন পুননির্ধারণের বিষয় দুটি সংসদীয় আসনের জনগণ মেনে নিতে পারেনি। উক্ত দুটি আসনের সর্বস্তরের জনগণ এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মর্মে জানা যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্র্নিধারণের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা না করা হলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় সংসদীয় আসন-২১২ ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) এর অন্তর্গত ভাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন আলগী ও হামিরদীকে জাতীয় সংসদীয় আসন-২১৪ ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের মধ্যে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকায় সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হল।
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা সোমবার রাতে ভাঙ্গা থানায় পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের জানান, আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষের আবেগ ও অনুভূতি তুলে ধরে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছি। রিপোর্টটি তারা বিবেচনা করবেন। পাশাপাশি যেহেতু ২টি ইউনিয়ন কেটে নেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছে, সম্ভবত আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুনানি আছে। তখন জানা যাবে আসলে বিষয়টি কোনদিকে যাচ্ছে। ভাঙ্গার জনগণকে অনুরোধ করবো আপনাদের কর্মসূচি থেকে ফিরে আসেন এবং সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন। জনগণের আবেগ অনুভূতি আমরা বুঝি। আমরা সেই বিষয় নিয়ে কাজ করছি।
তিনি ভাঙ্গাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সুনাম আছে। যেহেতু ২১ তারিখে রিট আছে সেহেতু জনগণের যাতে কষ্ট না হয়, সেজন্য আপনাদের অনুরোধ করবো।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের চিঠি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে এই সীমানার বিষয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। আদালত থেকে নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর-২ ও ৪ আসনের দুইটি ইউনিয়ন নিয়ে যে অসন্তোষ সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। অসন্তোষ থাকতেই পারে, এর প্রকাশটা সবার জন্য ক্ষতিকর হবে এমনটি কাম্য নয়। আমরা এ দেশেরই সন্তান। ক্ষোভ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এই জেলার সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে তা অস্বীকারের উপায় নেই, সে কথাও বলেন আখতার আহমেদ।
এদিকে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর আন্দোলন স্থগিত করে মঙ্গলবার সহিংস ঘটনার বিচারের দাবিতে শান্তিমিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে বিএনপির মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভাঙ্গা এক্সপ্রেস দক্ষিণপাড়া হয়ে ভাঙ্গা বাজার বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে সমাবেশ করে বিএনপি।
সমাবেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী বলেন, ‘শুরু থেকেই বিএনপি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি উচ্চ আদালতে যাওয়ার পর আমরা আন্দোলনে সক্রিয় না থাকলেও ফ্যাসিস্টদের দোসররা গতকাল ভাঙচুর করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
সৈয়দ মোদাররেস আলী বলেন, ‘আগে শুধু ভাঙ্গা উপজেলা নিয়ে ফরিদপুরু৫ আসন ছিল। ২০০৮ সালে তৎকালীন ইসি (নির্বাচন কমিশন) ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনকে একত্র করে ফরিদপুরু৪ আসন করে এবং সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করে। তখন থেকেই ফরিদপুরের পাঁচটি আসন ফিরিয়ে আনার আন্দোলন চলছে। কিন্তু চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বর্তমান ইসি ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে কেটে ফরিদপুরু২ আসনে যুক্ত করেছে। আমরা অভিন্ন ভাঙ্গা চাই এবং কেটে নেওয়া দুটি ইউনিয়ন ভাঙ্গায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুনানি হবে। আশা করি, আমরা ন্যায়বিচার পাব।’
সরেজমিন গতকাল ভাঙ্গায় কোনো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান আন্দোলনকারীদের অবস্থান দেখা গেছে। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় টহল দিয়েছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশ্খৃলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতি দেখা গেছে। তবে গত সোমবার সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার অনেকটাই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লোকজনের আনাগোনা একেবারেই কম।