ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকায় যানবাহনে আগুন, ককটেল বিষ্ফোরণ

ফিরছে আগুন সন্ত্রাসের পুরোনো আতঙ্ক

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : ০২:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ১১৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আগামী ১৩ নভেম্বর জুলাই গণ অভ্যত্থানে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে। এই রায়ের দিন ধার্য করার খবরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রায় প্রতিহত করার মিশনে নেমেছে।
দলটির পক্ষ থেকে সারা দেশে ওই দিন লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই কর্মসূচি ঘিরে ঢাকায় শুরু হয়েছে নাশকতা। ককটেল বিষ্ফোরণ, যানবাহনে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটছে। সোমবার ঢাকায় তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এদিন ভোরে মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় ভিক্টর পরিবহনের দুটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাত সাড়ে ৭টার দিকে ধানমন্ডিতে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে একটি বাসে আগুন দিয়েছে তারা।
এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও ধানমন্ডির দুই জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় দেশ জুড়ে নাশকতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত একদিনে ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৩৪ (চৌত্রিশ) নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি। যে কোনো ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থা।
রাজধানীর সব গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগরে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের মুঠোফোন ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপি। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে প্রতিরোধ করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মধ্যে ইনচার্জ ছাড়া অন্যদের মুঠোফোন ব্যবহার না করার নির্দেশ প্রদান করা হলো। কোনো পুলিশ সদস্য এ নির্দেশ অমান্য করলে তা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ বলে বিবেচিত হবে। তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লকডাউন ঘিরে আওয়ামী লীগের পলাতক সিনিয়র নেতারাও এ নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছেন। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও লকডাউন বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ভিডিও বার্তায় লকডাউনের ঘোষণার পর থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দলটির ‘নাশকতার’ কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা ঠেকাতে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বার্তা দেয়া হয়েছে সারা দেশের পুলিশকে। থানায় থানায় দেয়া হয়েছে কড়া বার্তা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যাতে ঘর থেকে বের হতে না পারে সেজন্য থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের লকডাউনের বার্তা আসার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। রেঞ্জ ও এসপি কার্যালয় থেকে থানার ওসিদের কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বার্তার পর থেকে সব থানা এলাকায় পুলিশ তৎপরতা ও নজরদারি বাড়িয়েছে। এলাকাভিত্তিক নেতাকর্মীদের তালিকা করে তাদের অবস্থান শনাক্তসহ কে কোথায় কি করছে সেসব খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ বলেন, কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করা যাবে না। পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক এই শীর্ষ নেত্রীর মামলার রায়কে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। এ ছাড়াও আইনশৃক্ষলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল কোর্ট সিকিউরিটি বিভাগের ডিসি মো. জসিম উদ্দীন বলেন, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য কিংবা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক থাকবে। এ ছাড়াও সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
র‌্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, এগুলো উড়ো খবর। কনফার্ম কিছু না। গুজবে কান দেয়ার কোনো সুযোগ নাই। দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই র‌্যাবের গোয়েন্দা টিম ও সাইবার মনিটরিং টিম সব সময় তৎপর রয়েছে। এ ধরনের উড়ো খবর যখন আসে তখন আমাদের টিম আরও বেশি তৎপর হয়ে কাজ শুরু করে। এই ইস্যুকে ঘিরেও মনিটরিং শুরু হয়েছে। যেকোনো ধরনের তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে আমাদের টিম।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে এই ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো দেশের বাহিরে থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তথ্য যাই হোক আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির কোনো কার্যক্রম করার সুযোগ নাই। আমরা আইনি ব্যবস্থা নেবো। আগেও আমরা অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছি। আর চলমান ইস্যু নিয়ে আমরা তৎপরতা বাড়িয়েছি। আমাদের সাইবার টিমও এ নিয়ে কাজ করছে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ঢাকা রেঞ্জের প্রতিটি জেলায় নির্দেশনা দিয়েছি। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী কোনো ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। তারা আগেও অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে, এখনো দিয়ে যাচ্ছে। ১৩ই নভেম্বর ঘিরে তারা মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে আলোচনায় আসতে চাইছে। তাদের আমরা সেই সুযোগ দেবো না।
পুলিশ সদরদপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) রেজাউল করিম বলেন, সারা দেশে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কোনো বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নাই। আওয়ামী লীগকে কোনোভাবে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।

 

জনপ্রিয়

ঢাকায় যানবাহনে আগুন, ককটেল বিষ্ফোরণ

ফিরছে আগুন সন্ত্রাসের পুরোনো আতঙ্ক

প্রকাশ : ০২:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

আগামী ১৩ নভেম্বর জুলাই গণ অভ্যত্থানে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে। এই রায়ের দিন ধার্য করার খবরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রায় প্রতিহত করার মিশনে নেমেছে।
দলটির পক্ষ থেকে সারা দেশে ওই দিন লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই কর্মসূচি ঘিরে ঢাকায় শুরু হয়েছে নাশকতা। ককটেল বিষ্ফোরণ, যানবাহনে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটছে। সোমবার ঢাকায় তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এদিন ভোরে মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় ভিক্টর পরিবহনের দুটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাত সাড়ে ৭টার দিকে ধানমন্ডিতে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে একটি বাসে আগুন দিয়েছে তারা।
এছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও ধানমন্ডির দুই জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় দেশ জুড়ে নাশকতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত একদিনে ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৩৪ (চৌত্রিশ) নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি। যে কোনো ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থা।
রাজধানীর সব গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগরে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের মুঠোফোন ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ডিএমপি। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে প্রতিরোধ করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মধ্যে ইনচার্জ ছাড়া অন্যদের মুঠোফোন ব্যবহার না করার নির্দেশ প্রদান করা হলো। কোনো পুলিশ সদস্য এ নির্দেশ অমান্য করলে তা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ বলে বিবেচিত হবে। তাঁর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লকডাউন ঘিরে আওয়ামী লীগের পলাতক সিনিয়র নেতারাও এ নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছেন। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও লকডাউন বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ভিডিও বার্তায় লকডাউনের ঘোষণার পর থেকে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দলটির ‘নাশকতার’ কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা ঠেকাতে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বার্তা দেয়া হয়েছে সারা দেশের পুলিশকে। থানায় থানায় দেয়া হয়েছে কড়া বার্তা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যাতে ঘর থেকে বের হতে না পারে সেজন্য থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের লকডাউনের বার্তা আসার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। রেঞ্জ ও এসপি কার্যালয় থেকে থানার ওসিদের কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বার্তার পর থেকে সব থানা এলাকায় পুলিশ তৎপরতা ও নজরদারি বাড়িয়েছে। এলাকাভিত্তিক নেতাকর্মীদের তালিকা করে তাদের অবস্থান শনাক্তসহ কে কোথায় কি করছে সেসব খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ বলেন, কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করা যাবে না। পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক এই শীর্ষ নেত্রীর মামলার রায়কে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। এ ছাড়াও আইনশৃক্ষলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল কোর্ট সিকিউরিটি বিভাগের ডিসি মো. জসিম উদ্দীন বলেন, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য কিংবা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক থাকবে। এ ছাড়াও সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
র‌্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, এগুলো উড়ো খবর। কনফার্ম কিছু না। গুজবে কান দেয়ার কোনো সুযোগ নাই। দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই র‌্যাবের গোয়েন্দা টিম ও সাইবার মনিটরিং টিম সব সময় তৎপর রয়েছে। এ ধরনের উড়ো খবর যখন আসে তখন আমাদের টিম আরও বেশি তৎপর হয়ে কাজ শুরু করে। এই ইস্যুকে ঘিরেও মনিটরিং শুরু হয়েছে। যেকোনো ধরনের তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে আমাদের টিম।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে এই ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো দেশের বাহিরে থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তথ্য যাই হোক আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির কোনো কার্যক্রম করার সুযোগ নাই। আমরা আইনি ব্যবস্থা নেবো। আগেও আমরা অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছি। আর চলমান ইস্যু নিয়ে আমরা তৎপরতা বাড়িয়েছি। আমাদের সাইবার টিমও এ নিয়ে কাজ করছে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ঢাকা রেঞ্জের প্রতিটি জেলায় নির্দেশনা দিয়েছি। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী কোনো ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। তারা আগেও অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে, এখনো দিয়ে যাচ্ছে। ১৩ই নভেম্বর ঘিরে তারা মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে আলোচনায় আসতে চাইছে। তাদের আমরা সেই সুযোগ দেবো না।
পুলিশ সদরদপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) রেজাউল করিম বলেন, সারা দেশে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কোনো বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নাই। আওয়ামী লীগকে কোনোভাবে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।