ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক উপজেলায় ৮ প্রেসক্লাব, ‘সাংবাদিক’ তিন শতাধিক

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ১০:২৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার এক উপজেলায় ৮ প্রেসক্লাব। আর ‘সাংবাদিক’ তিন শতাধিক। অধিকাংশই ব্যক্তিগত প্রভাব, চাঁদাবাজি, হুমকি আর দাপট দেখানোর ঢাল হিসেবে এই পেশাটিকে ব্যবহার করছেন।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার শ্যামনগর উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। স্থানীয় হকার, মুদি দোকানদার, তরকারিওয়ালা এখন সাংবাদিক। এই তালিকায় আছে-রাজমিস্ত্রি, ড্রাইভার, ইলেকট্রিক মিস্ত্রিও। ঢাল হিসেবে মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দালালরাও ‘প্রেস কার্ড’ব্যবহার করছেন।

টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ দিয়ে অনলাইন পোর্টাল কিংবা আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করছেন এই কার্ড। সেই কার্ডই তাদের প্রধান অস্ত্র: পুলিশি ঝামেলা এড়ানো, প্রশাসনকে ভয় দেখানো, ব্যবসায়ী বা ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা আদায়, আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো।

চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক, শিক্ষক ও ঠিকাদার এমন অনেকেই নিজেদের ব্যবসা রক্ষার ‘শিল্ড’ হিসেবে ব্যবহার করছেন এই কার্ড।
শ্যামনগর উপজেলায় রয়েছে আটটি প্রেসক্লাব। এই ৮টি প্রেসক্লাবের সদস্য সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে।

এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য ৪০ জন, অনলাইন নিউজ ক্লাবে: ৪০+ জন, শ্যামনগর রিপোর্টার্স ক্লাবে: ৩০ জন,সুন্দরবন প্রেসক্লাবে: ২৪ জন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবে: ১৬ জন,সীমান্ত প্রেসক্লাবে: ১৭ জন, সীমান্তবর্তী প্রেসক্লাবে: ১০ জন এবং রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২৬ জন সদস্য রয়েছেন। এসব সংগঠনের বাইরে আরও ৭০–৭৫ জন ব্যক্তি নিজেদের ‘স্বাধীন সাংবাদিক’ পরিচয়ে চলাফেরা করছেন। মোট সংখ্যা তিন শতাধিক।

উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে থানা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিক্ষা অফিস—কোথাও শান্তি নেই। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, এত সাংবাদিক আমরা জীবনে দেখিনি। আবদার পূরণ না করলে সিরিজ নিউজ। অনেকে সরাসরি টাকা চান। না দিলে ফেসবুক-ইউটিউবে ভুয়া প্রচারণা চালায়।

স্কুলশিক্ষক ইয়াসুনুর রহমান বলেন, যারা পড়াশোনাই জানে না, তারাই এখন আমাদের স্কুলে এসে হুমকি দেয়। এটা সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি ছাড়া কিছু না।

শ্যামনগরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাইদ বললেন, যারা সত্যিকারের সাংবাদিকতা করি, তারাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের কাছে দাবি—ভুয়া অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করুন, প্রেস কার্ড কঠোর যাচাই ছাড়া ইস্যু করবেন না।

বর্ষীয়ান সাংবাদিক শেখ আফজালুর রহমানের বলেন,২০–৩০ বছর সম্মান নিয়ে কাজ করছি। এখন আমরাও লজ্জায় মুখ দেখাতে পারি না। কিছু কার্ডবাজ সব নষ্ট করে দিয়েছে। সূত্র : আমার দেশ

জনপ্রিয়

এক উপজেলায় ৮ প্রেসক্লাব, ‘সাংবাদিক’ তিন শতাধিক

প্রকাশ : ১০:২৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরার এক উপজেলায় ৮ প্রেসক্লাব। আর ‘সাংবাদিক’ তিন শতাধিক। অধিকাংশই ব্যক্তিগত প্রভাব, চাঁদাবাজি, হুমকি আর দাপট দেখানোর ঢাল হিসেবে এই পেশাটিকে ব্যবহার করছেন।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার শ্যামনগর উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। স্থানীয় হকার, মুদি দোকানদার, তরকারিওয়ালা এখন সাংবাদিক। এই তালিকায় আছে-রাজমিস্ত্রি, ড্রাইভার, ইলেকট্রিক মিস্ত্রিও। ঢাল হিসেবে মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দালালরাও ‘প্রেস কার্ড’ব্যবহার করছেন।

টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ দিয়ে অনলাইন পোর্টাল কিংবা আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করছেন এই কার্ড। সেই কার্ডই তাদের প্রধান অস্ত্র: পুলিশি ঝামেলা এড়ানো, প্রশাসনকে ভয় দেখানো, ব্যবসায়ী বা ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা আদায়, আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো।

চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক, শিক্ষক ও ঠিকাদার এমন অনেকেই নিজেদের ব্যবসা রক্ষার ‘শিল্ড’ হিসেবে ব্যবহার করছেন এই কার্ড।
শ্যামনগর উপজেলায় রয়েছে আটটি প্রেসক্লাব। এই ৮টি প্রেসক্লাবের সদস্য সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে।

এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য ৪০ জন, অনলাইন নিউজ ক্লাবে: ৪০+ জন, শ্যামনগর রিপোর্টার্স ক্লাবে: ৩০ জন,সুন্দরবন প্রেসক্লাবে: ২৪ জন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবে: ১৬ জন,সীমান্ত প্রেসক্লাবে: ১৭ জন, সীমান্তবর্তী প্রেসক্লাবে: ১০ জন এবং রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২৬ জন সদস্য রয়েছেন। এসব সংগঠনের বাইরে আরও ৭০–৭৫ জন ব্যক্তি নিজেদের ‘স্বাধীন সাংবাদিক’ পরিচয়ে চলাফেরা করছেন। মোট সংখ্যা তিন শতাধিক।

উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে থানা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিক্ষা অফিস—কোথাও শান্তি নেই। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, এত সাংবাদিক আমরা জীবনে দেখিনি। আবদার পূরণ না করলে সিরিজ নিউজ। অনেকে সরাসরি টাকা চান। না দিলে ফেসবুক-ইউটিউবে ভুয়া প্রচারণা চালায়।

স্কুলশিক্ষক ইয়াসুনুর রহমান বলেন, যারা পড়াশোনাই জানে না, তারাই এখন আমাদের স্কুলে এসে হুমকি দেয়। এটা সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি ছাড়া কিছু না।

শ্যামনগরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাইদ বললেন, যারা সত্যিকারের সাংবাদিকতা করি, তারাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের কাছে দাবি—ভুয়া অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করুন, প্রেস কার্ড কঠোর যাচাই ছাড়া ইস্যু করবেন না।

বর্ষীয়ান সাংবাদিক শেখ আফজালুর রহমানের বলেন,২০–৩০ বছর সম্মান নিয়ে কাজ করছি। এখন আমরাও লজ্জায় মুখ দেখাতে পারি না। কিছু কার্ডবাজ সব নষ্ট করে দিয়েছে। সূত্র : আমার দেশ