রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে নগরীর প্রতিটি প্রবেশমুখে তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে পুলিশ। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সংযোগ সড়ক ও সরকারি স্থাপনায় পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহলও বাড়ানো হয়েছে।
গত শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে নাশকতার ঝুঁকি বিবেচনায় রাজধানীরজুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়।
বুধবার বিকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)।
এক খুদে বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর সামগ্রিক নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে অদ্য থেকে চেকপোস্ট ব্যবস্থা আরও বেগবান করা হয়েছে। মহানগরীর বিভিন্ন বিভাগের কৌশলগত স্থানগুলোতে এই তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে- রমনা বিভাগের বসিলা, লালবাগ বিভাগের বাবুবাজার, ওয়ারী বিভাগের পোস্তগোলা ব্রিজ, মাতুয়াইল ইউ-লুপ ও স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা। এছাড়া মতিঝিল বিভাগের বাসাবো (কমলাপুরগামী রাস্তা), মিরপুর বিভাগের গাবতলী, গুলশান বিভাগের ৩০০ ফিট এবং উত্তরা বিভাগের আব্দুল্লাহপুর ব্রিজ, কামারপাড়া ও ধৌড় ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, চেকপোস্টে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হবে। এ সময় মহানগরবাসীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে সার্বিকভাবে দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি বলেছেন, কোনো প্রার্থী যদি নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, সেটি তার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত।
বুধবার নারয়ণগঞ্জের বিকেএমইএ ভবনের নিচতলায় জেলা পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কাছে ছয়টি লেগুনা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এক প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোনো প্রার্থী কেন নির্বাচনে অংশ নেবেন না, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে যিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন, তিনি আসলে কী ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, সেটি তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন। তবে সামগ্রিকভাবে দেশে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।
তিনি আরও বলেন, এখানে সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত আছেন। এমন পরিবেশে যদি কেউ বলেন তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়। কিন্তু সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকে কোনো উদ্বেগের কারণ নেই।
দেশ প্রতিবেদক 
















