ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছি, এই অপবাদ ঘোচাতে চাই: সিইসি

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ১০:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য সামগ্রিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দায়ী করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আমরা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছি বা ম্যানেজড ইলেকশন করছি। এই অপবাদ থেকে আমরা মুক্তি চাই। এই অপবাদ আমরা ঘোচাতে চাই। প্রমাণ করতে চাই, আমরা সঠিক–সুন্দর নির্বাচন করতে পারি। এটা সম্ভব কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে।’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক ব্রিফিংয়ের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিইসি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ব্রিফ করেন সিইসি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু করতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আইনের শাসন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন সিইসি। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। আইনের শাসন কাকে বলে আমরা তা দেখিয়ে দিতে চাই। আইনের শাসন মানে আইন হবে অন্ধ। ‘ল’ সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করবেন। আপনাদের ওপর গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা দায়ী থাকব।’

সভায় ৬৪ জেলার ডিসি ও এসপি ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং ডিআইজিসহ উপস্থিত ছিলেন ৬৪ জন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ১০ জন সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতে সিইসি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাহস জুগিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আপনারা বুক ফুলিয়ে যখন আমাকে সাহস দেবেন, আমিও তখন সাহসী হব। আপনাদের অঙ্গীকার আমাকে সাহসী করে তোলে। আপনারা যখনই আইনের প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নেবেন, বিধি-বিধানের আলোকে কাজ করবেন— ইনশাআল্লাহ নির্বাচন কমিশন আপনাদের পাশে থাকবে।’

প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘আমরা একটা যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। দেশের অবস্থা আপনারা জানেন। আমার বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এ ক্রান্তিলগ্নে আমাদের ওপরে যে দায়িত্ব এসে পড়েছে, যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জবাব দিতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে খুশি করার দরকার নেই। আপনারা আপনাদের অধীনস্থদের আইনের মাধ্যমে পরিচালনা করবেন। সিস্টেম যাতে ঠিকমতো ডেলিভারি দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা আপনাদেরই করতে হবে। কোনো ধরনের বিচ্যুতি যেন না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।’

জনপ্রিয়

আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছি, এই অপবাদ ঘোচাতে চাই: সিইসি

প্রকাশ : ১০:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য সামগ্রিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দায়ী করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আমরা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছি বা ম্যানেজড ইলেকশন করছি। এই অপবাদ থেকে আমরা মুক্তি চাই। এই অপবাদ আমরা ঘোচাতে চাই। প্রমাণ করতে চাই, আমরা সঠিক–সুন্দর নির্বাচন করতে পারি। এটা সম্ভব কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে।’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক ব্রিফিংয়ের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিইসি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ব্রিফ করেন সিইসি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু করতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আইনের শাসন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন সিইসি। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। আইনের শাসন কাকে বলে আমরা তা দেখিয়ে দিতে চাই। আইনের শাসন মানে আইন হবে অন্ধ। ‘ল’ সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করবেন। আপনাদের ওপর গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা দায়ী থাকব।’

সভায় ৬৪ জেলার ডিসি ও এসপি ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং ডিআইজিসহ উপস্থিত ছিলেন ৬৪ জন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ১০ জন সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতে সিইসি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাহস জুগিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আপনারা বুক ফুলিয়ে যখন আমাকে সাহস দেবেন, আমিও তখন সাহসী হব। আপনাদের অঙ্গীকার আমাকে সাহসী করে তোলে। আপনারা যখনই আইনের প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নেবেন, বিধি-বিধানের আলোকে কাজ করবেন— ইনশাআল্লাহ নির্বাচন কমিশন আপনাদের পাশে থাকবে।’

প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘আমরা একটা যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। দেশের অবস্থা আপনারা জানেন। আমার বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। এ ক্রান্তিলগ্নে আমাদের ওপরে যে দায়িত্ব এসে পড়েছে, যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জবাব দিতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে খুশি করার দরকার নেই। আপনারা আপনাদের অধীনস্থদের আইনের মাধ্যমে পরিচালনা করবেন। সিস্টেম যাতে ঠিকমতো ডেলিভারি দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা আপনাদেরই করতে হবে। কোনো ধরনের বিচ্যুতি যেন না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।’