ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন

বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হবে শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০১:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫
  • ৬২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনীর ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে দুটি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভা শেষে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন সরকারের দুই উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন আদালত চাইলে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং মেডিকেল রিপোর্ট দিয়ে ধর্ষণের বিচার করতে পারবে।
তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এমন একটা ধারা যুক্ত করছে সরকার। পাশাপাশি এই আইনে আরও বেশকিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু পুরুষের দ্বারা নয়, বরং যে কারো দ্বারা ধর্ষণের শিকার হলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ধর্ষণের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বলৎকার। শুধু শিশুদের ধর্ষণের বিচারের জন্য গঠন করা হচ্ছে আলাদা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
শুধু শিশু ধর্ষণের বিচার করার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে কাউকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে, মামলাকারীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, শুধু শিশু ধর্ষণের বিচার করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার এ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এ বিষয়ে অংশীজনদের কাছ থেকে পাওয়া মতামত অনুযায়ী খসড়াটি প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করে উপদেষ্টা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আপাতত চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে দুটি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব স্থাপন করা হবে।
এর আগে, গত বুধবার ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচারের সময় কমিয়ে অর্ধেক করতে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
সচিবালয়ে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর ওই দিন আইন উপদেষ্টা বলেন, আমরা গত ১০ মার্চ এবং ১১ মার্চ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে পরামর্শ সভা করেছি। আমরা একটা খসড়া (সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন) আইন করেছি, সেটি আজ আমরা সার্কুলেট করছি কিছু কিছু স্টেকহোল্ডারের কাছে। যতদ্রুত সম্ভব আমরা আইনটি কঠোর করার চেষ্টা করবো। ধর্ষণের মামলার বিচার যাতে শুধু দ্রুত নয়, বিচারটা যাতে নিশ্চিত হয় এবং যথাযথ হয়-আমি এগুলো তাদের বলেছি।
খসড়া আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের মামলা তদন্তের সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন এবং মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার সময় ১৮০ দিন থেকে কমিয়ে ৯০ দিন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিচারক যদি মনে করেন তবে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে মামলার বিচারকাজ ও তদন্তকাজ চালাতে পারবেন।

 

Tag :
জনপ্রিয়

অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন

বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হবে শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার

প্রকাশ : ০১:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনীর ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে দুটি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভা শেষে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন সরকারের দুই উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন আদালত চাইলে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং মেডিকেল রিপোর্ট দিয়ে ধর্ষণের বিচার করতে পারবে।
তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এমন একটা ধারা যুক্ত করছে সরকার। পাশাপাশি এই আইনে আরও বেশকিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু পুরুষের দ্বারা নয়, বরং যে কারো দ্বারা ধর্ষণের শিকার হলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ধর্ষণের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বলৎকার। শুধু শিশুদের ধর্ষণের বিচারের জন্য গঠন করা হচ্ছে আলাদা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
শুধু শিশু ধর্ষণের বিচার করার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে কাউকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে, মামলাকারীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, শুধু শিশু ধর্ষণের বিচার করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার এ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এ বিষয়ে অংশীজনদের কাছ থেকে পাওয়া মতামত অনুযায়ী খসড়াটি প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করে উপদেষ্টা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আপাতত চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে দুটি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব স্থাপন করা হবে।
এর আগে, গত বুধবার ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচারের সময় কমিয়ে অর্ধেক করতে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
সচিবালয়ে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর ওই দিন আইন উপদেষ্টা বলেন, আমরা গত ১০ মার্চ এবং ১১ মার্চ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে পরামর্শ সভা করেছি। আমরা একটা খসড়া (সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন) আইন করেছি, সেটি আজ আমরা সার্কুলেট করছি কিছু কিছু স্টেকহোল্ডারের কাছে। যতদ্রুত সম্ভব আমরা আইনটি কঠোর করার চেষ্টা করবো। ধর্ষণের মামলার বিচার যাতে শুধু দ্রুত নয়, বিচারটা যাতে নিশ্চিত হয় এবং যথাযথ হয়-আমি এগুলো তাদের বলেছি।
খসড়া আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের মামলা তদন্তের সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন এবং মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার সময় ১৮০ দিন থেকে কমিয়ে ৯০ দিন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিচারক যদি মনে করেন তবে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে মামলার বিচারকাজ ও তদন্তকাজ চালাতে পারবেন।