পিলখানার হত্যাকাণ্ডের কারা জড়িত সেটা নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসতো। পরিস্কার হয়ে যেত সব ঘোলা জল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পিলখানা হত্যাকাণ্ড পুনরায় তদন্তে নতুন কমিশন গঠন করা হয়। গত রোববার এই তদন্ত কমিটি একটি প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কাছে দাখিল করে।
ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে পিলখানার হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত। কার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করার পাশাপাশি দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনেরা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিলখানার হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে দুই জনের ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ছবির প্রথমজন : নামঃ লক্ষ্মণ সিংহ। এক্স ইন্ডিয়ান আর্মি সোলজার (প্যারেন্ট রেজিমেন্ট – আসাম রাইফেলস), NSG কমান্ডো যিনি প্রেষণে ‘র’ তে AFO পদে এজেন্ট হিসেবে চাকুরী করেছেন বহুকাল! তার সম্পর্কে স্পেসিফিকালি যদি বলি, সে ইসরাইলের মোসাদ ট্রেইন্ড অপারেটিভ। ‘র’ তে রিক্রুটমেন্টের পর তার ট্রেনিং সেইখানেই ওই কুখ্যাত সংস্থার দ্বারা হয়েছে।
ইন্ডিয়ার দাবি মতে, পুরো সাইউথ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ স্নাইপার এই লক্ষ্মণ সিংহ!
ফেসবুকে পোষ্টাদাতা জানান, লোকটাকে আমি জানতে পারি, তার এক পডকাস্ট থেকে। সে এখন রিটায়ার্ড, ফিল্মমেকিং করে অলস আয়েসি জীবন অতিবাহিত করায় ব্যাস্ত। তার সম্পর্কে যখন আমি ঘাটাঘাটি করলাম, দেখলাম এই লোকটা নিজেই স্বীকার যাচ্ছে যে, সে বাংলাদেশে অপারেশন করেছে। এবং তাকে যতবারই জিজ্ঞেস করা হয় যে তার গোয়েন্দা ক্যারিয়ারজুড়ে সবচেয়ে বেশি সে কোন দেশে এঞ্জয় করেছে? তখন সবসময় তার উত্তর থাকে ‘বাংলাদেশ‘।
পয়েন্ট টু বি নোটেড: একটা এজেন্টের জন্য সবচেয়ে বেশি আনন্দের বিষয়াদি কী? পিরিতি না শত্রুর রক্ত? এটার জবাব একটা ৫ বছরের শিশুরও জানা।
তারপর আরো ঘাটাঘাটি করলাম লোকটাকে নিয়ে। একদম বুদ হয়ে তার ব্যাপারে ফুল স্কেলে রিসার্চ করা শুরু করলাম। ভারতে বসবাসরত আমার সকল সোর্সগুলোকে কাজে লাগালাম তার ব্যাপারে তথ্য কালেক্ট করতে। ওদিকে নিজেও দিন-রাত এক করে তার সকল বক্তব্য, অডিও, ভিডিও, পডকাস্ট.. এক কথায় সবকিছুর আগাগোড়া দেখা শুরু করলাম, সাথে সাথে সন্দেহজনক বিভিন্ন ইনফরমেশন নোট করতে থাকলাম। ফলাফল..?
ভয়ংকর জ্বালাময়ী কিছু বাস্তবতা!!!
৩ জন ইনফর্মার মারফতে যাচাই করলাম যে, ২০০৮ এর আগে লোকটার পোস্টিং ছিলো ভারতের নাগাল্যান্ডে একটি ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটে। আর… ২০০৮ এর মাঝামাঝি তাকে প্রেষণে সংযুক্ত করা হয় এই জাহেলি ‘র’ তে এবং কয়দিনের মাঝেই তাকে পোস্টেড করা হয় বাংলাদেশে।
আমার এনালাইসিস মতে সে বর্ডার ক্রস করে দেশে ঢুকেনি। সে প্লেনে করেই ব্যাবসায়ীর কভারে বাংলাদেশে এন্ট্রি নিয়েছিলো। এবং বেশিরভাগ সময় মৌলভীবাজার জেলাতে অবস্থান করতো। থাকতো পতিতালয়ের কাছে একটি আবাসিক হোটেলে। সেখান থেকেই সে বর্ডার এলাকায় তৎকালীন ইক্সউক্সজ এর ইন্টার্নাল এফেয়ার্স ও মুভমেন্ট মনিটর করতো, এবং ওখান থেকে ইন্ডিয়াতে ইনফরমেশন পাস করতো, VHF ব্যান্ড দ্বারা ও মাঝে মাঝে গরু চোরাচালানকারীদের মারফত চিরকুটযোগে।
আমার এনালাইসিস মতে, তৎকালীন BDR এর ইন্টেলিজেন্স শাখার কাছে তথ্য ছিলো যে এই অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশের কিছু গোয়েন্দা অপারেট করছে এবং যার ফলে সেখানে অতর্কিত টহল ও রেইডের সংখ্যা বেড়ে যায়। গোয়েন্দাদের কাছে ইনফরমেশন ছিলো যে এই লোকটি পতিতালয়গুলোতে তার ইনফর্মার সার্কেল তৈরী করেছে এবং সেখানকার লোকাল দেহব্যা-বসায়ীদের দিয়েই সে বিভিন্ন সেনসিটিভ তথ্য সংগ্রহ করতো এবং লোকাল আওয়ামী নেতাদের হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে নিজের সোর্স হিসাবে কাজ করাতো।
আশ্চর্যজনকভাবে, এই লক্ষ্মণ সিংহ বেশ কয়েকটি পডকাস্টে এই পতিতালয়ে অপারেট করার কথা অকপটে স্বীকারও করেছে, এবং এও বলেছে যে, একবার পুলিশ-BDR এর যৌথ অভিযানে সে ধরাও পড়তে নিয়েছিলো!
তবে আফসোস! শেষমেশ এই শুকোরটা ধরা খায় নি। ধরা খেলে হয়তো আমার দেশের ৫৭ জন বীর সন্তান আজও জীবিত থেকে দেশকে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিতো।
তারপর কী হয়েছে, সেটা আর জানা যায় না! তবে তাকে ২০০৯ এর মাঝামাঝি পাঠানো হয় NSG তে, এবং ঠিক এর পরেই তাকে পোষ্টিং করা হয় মোদির PSO (পার্সনাল সিকিউরিটি অফিসার) হিসাবে। তাহলে কাহিনী কী?!?
পয়েন্ট টু বি নোটেড: তার লাইফে বাংলাদেশে অপারেট করা থেকে NSG তে খুনী মোদির বডিগার্ড হওয়া পর্যন্ত এই যে এক বছরের টাইম গ্যাপ, এই বিষয়ে সে কখনো কোনো জায়গাতেই বলে না, তবে এটা সর্বদা বলে যে “সবচেয়ে বেশি এঞ্জয় করেছি বাংলাদেশে।”
আর সে কোন সময়টাতে বাংলাদেশে ছিলো?
২০০৮ এর মাঝ থেকে ২০০৯ এর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত!
এই বষয়টি ইন্ডিয়ান বেশ কয়েকটি ইন্টার্নাল সোর্স কনফার্মও করেছে।
তাহলে এখন বলেন…কী এমন করলে একটা শত্রু দেশের খুনী এজেন্ট এই এক বছরের মধ্যে সে বলতে পারে-
“I enjoed the most in Bangladesh”???
নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন।
ছবির দ্বিতীয় যে ব্যাক্তিকে দেখছেন, এই লোকটার নামঃ “রানদীপ রামেশ”। তৎকালীন “দ্যা গার্ডিয়ান” পত্রিকার সাউথ এশিয়া কোরেসপন্ডেন্ট।
.
ইনি-ই সেই ব্যাক্তি যে আমাদের BDR এর তৎকালীন DG শহীদ মেজর জেনারেল শাকিল সাহেব নিহত হবার খবরটি সবার আগে ভারতীয় মিডিয়াতে ফ্ল্যাশ করেছিলো! যখন আমাদের আর্মি, এমনকি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জানতো না যে ভেতরে কী হচ্ছে?!? মিডিয়া তো দূরের কথা!!!
তাহলে আমার প্রশ্ন হলো, সে কী খোদার তৈরী ফেরেশতা না-কি জ্বিন-ভূত, যে সময়টিতে পুরো দুনিয়া অন্ধকারে পিলখানা নিয়ে, তখন সে সবার আগে জানলো!! তাও আবার আমাদের মিডিয়ার সাথে কোনরকম ইনফো শেয়ার না করে!?! ডিরেক্ট ইন্ডিয়ান মিডিয়াগুলোর থ্রুতে নিউজ করলো যে—
“Director General of BDR, Maj. Gen. Shakil has been killed.”
এখন দেখেন, আপনারা যা ভালো মনে করেন। পুরো বিষয়টা বাংলাদেশের আপামর জনতার বিবেকের কাছে ছেড়ে দিলাম।
আর হ্যা! এখন বুঝেন যে কেনো আওয়ামী সরকার ও শেখ হাসিনা তাদের পতনের আগ পর্যন্ত কাউকে এই বিষয়ে আওয়াজ তুলতে দেয়নি! কেনো দেয়নি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হতে?
প্রভুর দাসত্ব বলে কথা!!!
Reporter Name 























